আবু মাইসারা
শিয়া কাফেররা দাবি করে মুয়াবিয়া রা ফাসেক কারণ তিনি আলী রা গালি দিতেন এবং অন্যকেও গালি দিতে বলতেন।শিয়ারা মুসলিমদের হাদীস দিয়ে নিজেরা মনমতো ব্যাখ্যা করে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দেয়।তো আসুন এ ব্যাপারে আলোচনা করা যাক।
হাদীসটি নিম্নোরূপঃ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، – وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ – قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، – وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ – عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاَثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُ خَلَّفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَلَّفْتَنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي ” . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ ” لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ” . قَالَ فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ ” ادْعُوا لِي عَلِيًّا ” . فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ وَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ) دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ ” اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلِي ”
অনুবাদঃ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) … আমির ইবন সা’দ (রহঃ) সুত্রে সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) সা’দ (রহঃ) কে আমীর বানালেন এবং বললেন, আপনি আলী (রাঃ) কে কেন মন্দ বলেন না? সা’দ বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে যে তিনটি কথা বলেছেনঃ তা মনে করে এ কারণে আমি কখনও তাকে মন্দ বলবো না। ওসব কথার মধ্য হতে যদি একটিও আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও বেশি পছন্দনীয় হতো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আলী (রাঃ) এর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি, আলী (রাঃ) কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মাঝে আমাকে রেখে যাচ্ছে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ কর না যে, আমার কাছে তোমার মর্যাদা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে হারুন (আলাইহিস সালাম) এর মতো। তবে মনে রাখতে হবে যে, আমার পর আর কোন নাবী নেই।
খায়বারের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দেবো যে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালবাসে আর আল্লাহ ও তার রাসুলও তাকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তাঁর চোখ উঠেছিলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চোখে লালা দিলেন এবং তাঁর হাতে পতাকা অর্পণ করলেন। পরিশেষে তাঁর হাতেই বিজয় তুলে দিলেন আল্লাহ।
আর যখন (মুবাহালা সংক্রান্ত) আয়াতঃ “আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি” (৩ঃ ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) কে ডাকলেন। অতঃপর বললেন হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার (এর সন্তান-সন্ততি)।[১]
পর্যালোচনাঃ
এই হাদীসটি মূলত শিয়াদেরই আরোপিত কয়েকটি অভিযোগ খন্ডন করে দিয়েছে।
শিয়ারা অপবাদ দেয় উমাইয়্যারা নাকি প্রাথমিক যুগর সকল হাদীসগ্রন্থ ও তাদের সংকলকদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতো এবং তারা নাকি হাদীস গ্রন্থ থেকে আলী রা এর ফজীলতের সকল হাদীস সরিয়ে দিয়েছে!!
শিয়ারা আরও নিকৃষ্ট দাবি করে যে সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা নাকি মুনাফিক আরও আগ বাড়িয়ে তাকে কাফের বলে( নাউজুবিল্লাহ)।কারণ তিনি নাকি আলী রা এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন।অথচ উনি দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তদের একজন ছিলেন।
শিয়াদের আরও দাবি সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের রা ছেলে আমির বিন সাদ রহ নাকি নাসেবী ( আহলে বাইত বিদ্বেষী) ছিলেন।( আমির বিন সাদ রহ এর উপর একদিন আলোচনা করার ইচ্ছা পেষণ করছি।আল্লাহর দয়া আশা করছি)
এখন হাদীসটি খেয়াল করুনঃ
১। হাদীসটি বর্ণনা করছেন আমির বিন সাদ রহ যা সহীহ মুসলিমে আলী রা এর ফজীলত অধ্যায়েই বর্ণিত করা হয়েছে।এতে প্রমানিত আমির বিন সাদ রহ নাসেবী ছিলেন না।(নাসেবী কী আলী রা কে ভলোবাসে?ওহে শিয়া পারলে উত্তর দিয়ে যাও)
২। হাদীসটি তিনি শুনেছেন তার পিতা সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা থেকে।এতে প্রমানিত হয় সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা নাসেবী ছিলেন না,আলী রা এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন না।( আলী রা এর শত্রু কি তারই প্রশংসা করে?!ওহে মূর্খ শিয়া আছে এর কোন উত্তর তোমাদের কাছে?)
৩। হাদীসটিতে দেখা যাচ্ছে সাদ রা স্বয়ং মুয়াবিয়া রা এর সামনেই আলী রা এর প্রশংসা করছেন।এতে প্রমানিত হয় উমাইয়্যরা হাদীস সংকলকগণ বা হাদীস গ্রন্থের উপর কোন প্রভাব খাটাতে পারেনি।যদি তাই হতো তবে আলী রা এর প্রশংসা সম্বলিত এ হাদীস কি থাকতো?! তাও আবার হাদীসটি মুয়াবিয়া রা এর সামনেই বর্ণনা করা হয়েছে।
এবার আসি শিয়াদের আসল অভিযোগে।তারা এই হাদীস উল্লেখ করে বলে বেড়ায় মুয়াবিয়া রা আলী রা কে গালি দিত এবং অন্যদেরও গালি দেওয়ার জন্য বলতো(যদিও سب এর বহু অর্থ রয়েছে।শিয়ারা সব বাদ দিয়ে গালি অর্থ নেয়।) ।এই অভিযোগ বাংলাদেশের শিয়া পাদ্রী আবুল হোসাইন আলে গাজীও করেছে।( এই আলে গাজী সুন্নী নাম দিয়ে বাংলাদেশে গণহারে শিয়া মতবাদ প্রচার করছে)।আসলে তারা শুধু হাদীসটি উল্লেখ করে নিজেদের অন্তরে লুকায়িত গোপন বিকৃত ব্যাখ্যা বর্ণনা করে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দেয়।এবার চলুন দেখে আসি ইমাম নববী রহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় কি বলেন।
ইমাম নববী রহ বলেনঃ
“মুয়াবিয়া রা এর বক্তব্য স্পষ্টভাবে এই তথ্য দেয় না যে তিনি সাদ রা কে আদেশ দিচ্ছেন যাতে তিনি আলী রা এর সমালোচনা করেন।তিনি সাধারণভাবে সাদ রা কে জিজ্ঞেস করেন কোন জিনিস তাকে সমালোচনা থেকে বিরত রেখেছে।যেন তিনি প্রশ্ন করছেন ” আপনি কি নিজেকে সতর্কতা বা ভয়ের কারণে বিরত থাকছেন?যদি তার( আলী রা) ব্যাপারে সতর্কতা বা তার সম্মানের জন্য আপনি এমন করছেন তবে আপনি ঠিকভাবে সঠিকটিই করছেন( Correctly and perfectly) এবং যদি তার(সাদ রা) এ ব্যবহার অন্য কোন কারণে হত তবে তিনি(মুয়াবিয়া রা) হয়তো অন্য কোনভাবে উত্তর দিতেন।”সম্ভবত সাদ রা এমন এক গ্রুপের সাথে পরিচিত ছিলেন যারা আলী রা এর সমালোচনা করতো বা গালি দিত কিন্তু তিনি তা করতেন না এবং তিনি হয়তো( সাদ রা) তাদের প্রতিরোধে ব্যর্থ ছিলেন বা প্রতিরোধ করেছিলেন,সে কারণে মুয়াবিয়া রা তাকে এ প্রশ্ন করেছিলেন।“[২]
তো এই হলো সহীহ মুসলিমের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী রহ এর বক্তব্য।শিয়ারা এগুলা উল্লেখ না করে শুধু হাদীসটি দিয়ে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দেয়।আর আমরা যেহেতু সাধারণরা আরবী পারিনা তাই আমাদের বলদ বানানো খবই সোজা।এই কথা বললাম এ কারণে যে سب অর্থ শুধু গালিগালাজ নয়।এর অনেকগুলো অর্থ আছে যেমন গালিগালাজ করা,অভিশাপ দেওয়া,বেইজ্জতি করা,সমালোচনা করা,অপমান করা, মন্দ বলা, কারো মতকে ভুল বলা ইত্যাদি।তো আমার প্রশ্ন এতগুলো অর্থ থাকতে কেন শুধু গালিগালাজ অর্থটা নেয় শিয়া কাফেররা ?!গালিগালাজ আর সমালেচনা কি এক জিনিস??!
এখানে আর একটা সম্ভাবনা আছে তা হলো সাদ রা কে পরীক্ষা করা এইভেবে যে তিনি ও কি আলী রা এর সমালোচনা করেন কিনা।
যাই হোক ইমাম নববী রহ এর ব্যাখ্যাটাই যে সঠিক তার প্রমান আমার নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোঃ
১। মুয়াবিয়া রা যদি সত্যিই চাইতেন সাদ রা যাতে আলী রা এর সমালোচনা করেন তবে সাদ রা আলী রা এর প্রশংসা করার পরও কেন তিনি কোন শব্দ বা বাক্য দ্বারা সাদ রা কে নিন্দা করলেন না?কারণ মুয়াবিয়া রা কাছে সাদ রা এর উত্তর সঠিক ছিল।
২। কেন তিনি সাদ রা কে আমীর হিসেবেই বহাল রাখলেন?( একবার কল্পনা করুন,আওয়ামী লিগের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তারই দলের একজন মন্ত্রী এসে বিরোধী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অগাধ প্রশংসা করলো।তো আপনি কি আশা করেন? ঔ লোক কি আর পরবর্তীতে মন্ত্রী পদে থাকবে??!)
এতেই প্রমানিত হয় এই হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা তাই যা ইমাম নববী রহ বর্ণনা করেছেন। মুয়াবিয়া রা এর উদ্দেশ্য ছিলো সাদ রা কে পরীক্ষা করা যে তিনিও আলী রা কে গালি দেন কিনা বা তার সমালোচনা করেন কিনা অথবা তার কাছ থেকে কারণ জানতে চান কোন জিনিস তাকে আলী রা এর সমালোচনা থেকে বিরত রেখেছে।( ওয়াল্লাহু আলাম)।
এ ব্যপারে পাঠক আমার লেখা” শিয়াদের বিরুদ্ধে বর্জ্য কলম” বইয়ে পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ
[১] সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৪৬/ সাহাবী (রাঃ) গণের ফযীলত (كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم) হাদিস নম্বরঃ ৬০০২
[২]আন-নববীঃ শরাহ মুসলিম,ভলিয়্যুম ১৫,পৃষ্ঠা ১৭৫,১৭৬ অথবা পৃষ্ঠা ১৮৪,১৮৫( আল- মায়স প্রিন্ট)

Leave a comment