বয়ানঃ শিয়াদের হাতে শহীদ জিয়াউর রহমান ফারুকি (রহ)

শ্রুতিলিখনঃ আব্দুল্লাহ বিন বশির
আমার ভাইয়েরা!
শিয়াদের বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। মাওলানা হক নেওয়াজ শহীদ রহ, শিয়াদের বাজারে, রাস্তা-ঘাটে, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে কাফের বলেছেন। এবং এই বিষয়ে তার কাছে অনেক মজবুত দলিল ছিলো। বিষয়টি তার ইমামী গায়রাতের পরিচয় ছিলো। আর তিনি কোনো নতুন কাজ করেননি। তিনি এমন কোনো দলকে কাফের বলেননি, যারা আসলেই কাফের নয়।
শিয়াদের কুফর কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। আমার উস্তাদগণ উপস্থিত আছেন। ইমাম মালেক রহ, শিয়াদের দলগতভাবে কাফের লিখেছেন। এবং দলিল হিসেবে ঐ আয়াতটি পেশ করেছেন যা কিছুক্ষণ পূর্বে ক্বারী আব্দুল লতিফ সাহেব তেলাওয়াত করেছেন।
ليغيظ بهم الكفار
এই আয়াতকে সামনে রেখে ইমাম মালেক রহ, শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন।
ইমাম আবদুল কাদের জিলানি রহ, ‘গুনইয়াতুত তালেবীন‘ কিতাবে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ, শুধু কাফেরই বলেননি, আরো শক্তভাবে স্পষ্ট করে বলেছেন —পুরো দুনিয়ায় শিয়া এমন এক কাফের সম্প্রদায় যাদের তওবা কবুল হবে না।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ, একটি বড় চমৎকার কিতাব লিখেছেন ‘মিনহাজুস সুন্নাহ‘ নামে। যা চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমি আশা রাখি আহলে ইলম হযরত কিতাবটি পড়েছেন। এই কিতাব পুরো উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে ফরজে কিফায়ার মর্যাদা রাখে। এই বইতে শাইখুল ইসলাম শিয়াদের কাফের হওয়ার ঘোষণা তো স্পষ্ট ভাষায় বলেননি। কিন্তু শিয়াদের জন্যে কাফেরদের থেকে আরো কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেহেতু এই কিতাবটি একজন শিয়ার রদে লেখা হয়েছে, তাই এখানে স্পষ্ট কুফরের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু শাইখুল ইসলামের অপর কিতাব ‘আসসারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল‘ কিতাবে প্রকাশ্যে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন এবং মুরতাদ ও মুনাফিক বলেছেন।
আমার ভাইয়েরা!
আমি এই বলতে চাচ্ছি—ইমাম মালেক রহ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ, এমনকি ইমাম আবু হানিফা রহ, এই কথাটি বলেছেন—
من انكر صحبة أبي بكر فهو كافر
(যে ব্যক্তি আবু বকর রা.-র সাহাবি হওয়াকে অস্বীকার করবে সে কাফের)
এরপর শিয়াদের কুফরের বিষয়ে কোনো তাওয়াক্কুফ করা উচিত নয়।
এখন একটি কথা কিছু মানুষ বলে— যে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন—আহলে কিবলাকে কাফের বলা যাবে না।
ইমাম সাহেবের এই কথাকে তারাই দলিল বানায় যারা শিয়াদের মুসলমান বলে ঘোষণা করে থাকে। তারা বলে—দেখুন, ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, “আহলে কিবলাকে কাফের বলা যাবে না।”
আমার ঐ ভাইদের এই কথা জানা নেই আহলে কিবলার যে পরিভাষা ইসলামে প্রচলিত রয়েছে তা কী জন্যে? তার কী উদ্দেশ্য?
যদি তারা বলে যে, আহলে কিবলা দ্বারা উদ্দেশ্য যারা কা’বার দিকে ফিরে নামাজ পড়ে, কা’বাকে নিজেদের কিবলা মানে ‘আহলে কিবলা’ বলতে এটাই উদ্দেশ্য। তাহলে আমি তাদের কাছে প্রশ্ন করবো—আবু জাহেল আর আবু লাহাবের কিবলা কোথায় ছিলো? তাদের কিবলাও তো এই কা’বা শরীফ ছিলো। তারাও তো কা’বার দিকে ফিরে তাদের নামাজ আদায় করতো। তাওয়াফ করতো কা’বাকে কেন্দ্র করে। আপনারা কিভাবে মুতাজালা করেন। তো, ‘আহলে কিবলা’ এই পরিভাষা দ্বারা উদ্দেশ্য সেটাই যা ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেছেন—
اعلم أن المراد بأهل القبلة الذين اتفقوا على ما هو بضروريات الدين
আহলে কিবলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— যারা জরুরিয়্যাতে দীনকে স্বীকার করে। কিন্তু শিয়া এমন এক কাফের, যারা জরুরিয়্যাতে দীনের অস্বীকারকারী।
আমি এখানে ভূমিকাস্বরূপ দুই একটি কথা বলে আমার আলোচনা পর্ব শুরু করবো।
‘আহলে কিবলা’ এটা আসলে তেমন কোনো আহমারি দলিলই নয়। কাদিয়ানিদের যারা কাফের বলে তাদের বিরোধিতা এটা বলেই করা হয় ‘কাদিয়ানীরাও তো আহলে কিবলা’। আপনারা তাদের কেনো কাফের বলেন? ওলামায়ে কেরাম এই কথার কতগুলো দলিল দিয়েছেন। এটা তেমন কোনো বিষয় নয়।
ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ. ‘রদ্দুর রাফিজা‘ নামের কিতাব লিখে শিয়াদের প্রকাশ্যে কাফের হওয়ার ঘোষণা করেছেন।
শাহ ওলিউল্লাহ রহ. ‘ইজালাতুল খাফা‘ নামক কিতাবে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা দিয়েছেন এবং শিয়াদেরকে খতমে নবুওয়াতের মুনকির বলেছেন।
এক জায়গায় নয়। বারো জায়গায় শিয়াদের খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী বলেছেন। এবং শেষে অসিয়াতে বলে গিয়েছেন এই বলে—দুনিয়ার যে ব্যক্তি আমাকে মানবে আমি তাকে অসিয়াত করছি, সে কখনোই যেনো শিয়াকে মুসলমান না বলে। কারণ শিয়ারা খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী।
আর শাহ নেয়ামাতুল্লাহর ঐ স্বপণ ‘ফয়জুল হারামাইন‘-এ আজও উল্লেখ আছে। তিনি বলেন—আমি স্বপণে রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! শিয়াদের ব্যাপারে আপনার কী মতামত?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন—শিয়াদের কুফরি বুঝার জন্যে তাদের ‘ইমামতের আকিদা’ পড়ে নেওয়াই যথেষ্ট।
শাহ সাহেব বলেন—আমি আগামীদিন সকালে উঠেই শিয়াদের ‘ইমামতের আকিদা‘ পড়া শুরু করলাম। আর আমি এই ফলাফলে পৌঁছলাম যে, শিয়ারা খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারীই নয়; বরং খতমে নবুওয়াতের দুশমন। এক মুহূর্তের জন্যেও তাদের খতমে নবুওয়াতের উপর ঈমান নেই।
এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন, খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী মুসলমান? আপনার ফয়সালা ভুল হতে পারে, উদাহরণ স্বরূপ আপনার ভোট দরকার তাই আপনি শিয়াকে কাফের বললেন না। অথবা উদাহরণ স্বরূপ আপনার রাজনৈতিক সফলতা আসছে না। এখন শিয়াদের সাথে সম্পর্ক করতে হবে, তাই বললেন শিয়ারা কাফের নয়। অথবা আল্লাহ মাফ করুক, আপনি এতটাই বুদ্ধিহীন যে, আপনি ভাবছেন শিয়ারা যেভাবে তাদের বিরুদ্ধাচারীদের হত্যা করে, আপনাকেও হত্যা করবে। এই জন্যে কাফের বলছেন না। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
আপনি শিয়াদের আতংকে হোক, তাদের হিটলিস্টে যাওয়ার ভয়ে হোক, ভোট নেওয়া লাগবে সে জন্যে, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা বা দোকানদারি চালানোর জন্যে হোক—এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কিন্তু স্পষ্ট দলিল ও ফিকিরের দুনিয়ায় পুরো দুনিয়ার কোনো আলেম এই কথার খন্ডণ কখনোই করতে পারবেন না—শিয়ারা এই দুনিয়ার সবচেয়ে জঘন্য কাফের। আর এই বিষয়ে যে সন্দেহ ও দোদুল্যমানতা ছিলো তাও দূর করে দিয়েছেন ঐ মর্দে মুমিন, যাকে আমরা মুফাক্কিরে ইসলাম মনজুর নোমানী নামে জানি। তিনি শিয়াদের বিপরীত মুসলমানদের ধারণা থেকে ফতোয়া প্রকাশ সন্দেহের শেষবিন্দুও দূর করে দিয়েছেন।
আমার ভাইয়েরা!
আরো একটি কথা আমি আপনাদের বলতে চাই। শিয়াদের কুফর সম্পর্কে একদম শুরু জামানা থেকে তাদের কুফরির যত কারণ বর্ণনা করা হয়েছে, তার কারণেই শিয়াদের আসল কুফরি আকিদাগুলো পর্দার অন্তরালে রয়ে গেছে। শিয়াদের কুফরির সবচে বড় কারণ এটা বর্ণনা করা হয়েছে যে শিয়ারা ‘শায়খাইন’ আবু বকর ও উমর রা.কে অস্বীকার করে। আর এই কারণেই শিয়ারা ‘তাকিয়া’-র চাদরে নিজেদের ঢেকে বিভিন্ন স্থানে ও শতাব্দীতে বটিয়ে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, শিয়ারা প্রত্যেক শতাব্দীর মুসলিম বাদশাদের কাছে গিয়ে বলতো— ‘আমরা মুসলমান’। ‘তোমরা তো আবু বকর আর উমরকে মানো না’। তখন তারা বলতো— ‘জি, আমরা তাদের মানি। তবে আলি রা.-র পর তাদের মানি’।
ব্যস, আলোচনা সেখানেই শেষ। কিন্তু শিয়াদের যত আসল কুফরী আকিদা আছে সেটাতে অস্বীকার রাখা হয়েছে। কেন?
১. তাদের সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব ছিলো আমাদের। অথবা
২. তাদের তাকিয়ার কারণে।
শিয়াদের আসল কুফরিগুলো যদি প্রথম যামানা থেকেই স্পষ্ট করে প্রকাশ করে দেওয়া হতো তাহলে তারা দুনিয়ার কোনো শতাব্দীতে, কোনো যুদ্ধে, কোনো মুসলিম বাদশাহর কাছে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পেতো না। আর তাদের অবস্থা ঠিক তেমনই হতো যা বর্তমানে ইহুদি খ্রিষ্টান ও শিখদের। কিন্তু কুফরির আসল কারণগুলো বলা হয়নি। সাহাবাদের তাকফির ও গালি দেওয়া ছাড়াও তাদের অনেক কুফরি আকিদা আছে।
ভায়েরা আমার।
ভূমিকা স্বরূপ আরেকটি কথা বলি। রাজনৈতিকভাবেও যদি দেখি তাহলে দুনিয়ার কোন জামানায় এই শিয়ারা মুসলমানদের নূন্যতম কী উপকার করেছে?
একটা তো হলো—হযরত উমর ফারুক রা.কে হত্যাকারী শিয়া, হযরত উসমান রা.কে শহীদকারী শিয়া। এটাও কিছুক্ষণের জন্যে একদিকে রাখুন।
সালাউদ্দিন আইউবী রহ.-এর সাথে গাদ্দারী কে করেছে? আমাকে কি একটু বলবেন? সালাউদ্দিন আইউবী খ্রিস্টানদের সাথে যুদ্ধে লড়ছিলো আর সেই খ্রিস্টানদের কাতারে গিয়ে শিয়ারা যুদ্ধ করেছে।
ইবনে আলকামী কে? যে বাগদাদে চেঙ্গিস খান ও হালাকু খানকে ডেকে এনে মুসলমানদের সম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
যখন ইমাম ইবনে তাইমিয়া তাতারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন তখন তাতারীদের সাথে মিলেছে কারা?
সুলতান টিপু যখন মায়দানে আসলো তখন মির সাদিকটা কে?
নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন আসলো তখন মির জাফর কে?
আচ্ছা রাখুন পুরানো শতাব্দীর কথা। আজ আফগানিস্তানে যখন ১৩ বছর যাবৎ যুদ্ধ চলছে, পনেরো লক্ষ মুজাহিদ শহীদ হয়েছে, দুই দফা মুজাহিদগণ কাবুল বিজয়ের দারপ্রান্তে ছিলো, তখন বাঁধা সৃষ্টি করেছে এই শিয়ারাই। আর বর্তমান এমন সেই অবস্থানে আছে তা হলো— মুজাহিদদের ব্যাপারে আমেরিকার যে পজিশন ইরানেরও ঠিক একই পজিশন। আমেরিকা বলে জাহের শাহের সাথে সন্ধি করো, ইরানও বলে জাহের শাহের সাথে সন্ধি করো। এর অর্থ দাঁড়ায় যে পনেরো লক্ষ মুজাহিদ শহীদ হয়েছে তাদের রক্ত মূল্যহীন, তা বিফলে গেলেই বা কী? আফগানের ময়দানে জিহাদে ইসলামের সবচে বড় বাধা হলো ইরান। তারা পাঁচটা কাগুজি সংগঠন বানিয়েছে। যারা প্রতিটি পদে-পদে মুজাহিদদের জন্যে বাধা সৃষ্টি করছে।
ভায়েরা আমার।
আমি আজকের আলোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই তা হলো—শিয়াদের কুফর শুধু আবু বকর ও উমর রা.-র বিরোধিতার কারণে এই কথাটি বলা হয়েছে। অথচ শিয়াদের কুফরির এর থেকেও বড় বড় কারণ রয়েছে। যেমন ‘আকিদায়ে বাদা‘। আচ্ছা আমি ধরে নিলাম এটাতে ব্যাখ্যার সুযোগ আছে। ওলামায়ে কেরাম বলছেন—এই আকিদায় ব্যাখ্যার সুযোগ আছে।
‘আকিদায়ে রাজআত‘ কেয়ামতের আগেই মুর্দারা জীবিত হতে পারবে। এটাও শিয়াদের আকিদা। আমি বলবো ঠিক এটাতেও ব্যাখ্যার সুযোগ আছে। কিন্তু শিয়াদের সেই সমস্ত কুফরিগুলো যেগুলোতে তাবিলের কোনো সুযোগ নেই, সেগুলো উম্মাতে মুসলিমার সামনে আনা দরকার। যাতে যেমন শিয়ারা তাকিয়ার চাদরে নিজেদের কুফরি ঢুকিয়ে উম্মাতে মুসলিমার প্রত্যেক স্তরে ঢুকে গেছে, তাদের তাকিয়ার সেই চাদর সরিয়ে দিয়ে নগ্ন করে চৌরাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
করা দরকার কি না?
আর শিয়াদের এই নগ্ন করার পুরো দোষ যার উপর বর্তাবে সে হলো খোমেনি।
আমি যদি আজ বলি—শিয়া তোমরা তাকিয়া করো, তাহলে তারা বলে আমি বিদ্বেষ রাখি। আমি যদি বলি তোমরা আবু বকর ও উমর রা. কে গালি দাও, তাহলে বলে আমি ফাসাদ সৃষ্টি করছি। আমি বলি—হে শিয়া! তোমরা আকিদায়ে বাদাতে আল্লাহকে মিথ্যুক বলো। তারা বলে—না না, আমরা এমনটা বলি না। আমি বলি—তোমরা তোমাদের ইমামদের থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কম মর্যাদার বলে থাকো, তারা বলে এটা আমাদের আকিদা নয়।
কিন্তু আমার ভাইয়েরা! শিয়ারা হলো সে সম্প্রদায় যারা প্রত্যেক যামানায় তাকিয়া করে এসেছে।
এখানে একটি প্রশ্ন, ঐ প্রশ্ন উত্থাপন করে আমি উত্তর দিবো যাতে বুঝতে আমাদের সুবিধা হয়।
আমাদের উপর এই প্রশ্ন করা হয়—ফারুকি সাহেব! এর কী কারণ? আজ থেকে দশবছর পূর্বেও তো খতমে নবুওয়াতের প্রতিটি কমপ্লেক্সে শিয়ারা উপস্থিত থাকতো। আর আজ তুমি তাদের বলছো কাফের!? প্রত্যেকটি আন্দোলনে শিয়া! পাকিস্তান বানানোর সময় শিয়া! খতমে নবুওয়াতের আন্দোলনে শিয়া!! আর আজ তারা নিকৃষ্ট কাফের হয়ে গেছে!? এটার কী কারণ?
আমার প্রশ্ন ঠিক আছে? এই প্রশ্ন আছে কিনা সমাজে? আর আজ যে তোমরা ঘোষণা তুলছো— ‘কাফের কাফের শিয়া কাফের’ এটা তোমাদের জোরজবরদস্তি ও শত্রুতার কারণে বলছো। আজ থেকে দশবছর পূর্বে তো এই কথা বলা হতো না। আজ কেনো বলা হচ্ছে? কী এমন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে?
এবার একটি মৌলিক কথা মুখস্থ করে নিন। ‘উসুলে কাফি‘ শিয়াদের মৌলিক একটি ধর্মগ্রন্থ। সেখানে আলি রা. থেকে রেওয়ায়াত আছে। ইমাম জাফর সাদেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনীন আ. বলেন—’দুনিয়াতে আমার অনুসরণকারী যত শিয়া আছে তাদের কাছে আমার এই অসিয়াত পৌঁছিয়ে দেও, যে ব্যক্তি নিজের মাজহাব লুকিয়ে রাখবে সে ইজ্জত পাবে। আর যে প্রকাশ করবে সে বেইজ্জতি ও লাঞ্ছিত হবে।‘
এটাই হলো—শিয়াদের মৌলিক উসুল। ‘উসুলে কাফি‘তে আছে। আর শিয়া চৌদ্দশত বছর পর্যন্ত এই উসুল অনুযায়ী চলছে। কেনো? কারণ ছাপাখানা তো এক দেড়শো বছর থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে সবকিছু গোপনে লেখা হতো। আর শিয়াদের যত মৌলিক কিতাবাদি তার সবটাই এর পূর্বে লেখা হয়েছে। এই ‘উসুলে কাফি‘ এটা কলমে লেখা হয়েছে। ফুরুয়ে কাফি হাতে লেখা হয়েছে। ‘তাহজিবুল আহকাম’, ‘আল ইস্তেবছার‘ শিয়াদের এই চার কিতাব যাকে তারা ‘সিহাহে আরবায়া‘ এবং ‘কুতুবে আরবায়া‘ বলে।
এই কিতাবগুলো কলমে লেখা হয়েছে। একটি করে নুসখা তারা লুকিয়ে ফেলেছে। একটি দেশে একটি করে হাতে লেখা নুসখা লুকিয়ে রাখা তেমন কঠিন কিছুই না। হাজার, দেড় হাজার বছরে শিয়াদের কোনো কিতাব ছাপানো বা প্রকাশে ছিলো না। সব লিখিত মাখতুত আকারে ছিলো। আর আলি রা. এই কওল তাদের কাছে ছিলো—যে তার মাজহাব লুকাবে সে ইচ্ছত পাবে আর যে প্রকাশ করবে সে লাঞ্ছিত হবে। তাই শিয়ারা তাদের সমস্ত মাজহাবগুলো লুকিয়ে রেখেছেন। একটি নুসখাকে যদি দেশে লুকিয়ে ফেলা যায় তাহলে কে এটা খুঁজে বের করবে এদের আকিদা কী? এদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এরা করতে কী চায়? উদ্দেশ্য কী তাদের? এগুলো লুকিয়ে রাখা অনেক সহজ। এটাই ছিলো তাদের মাজহাব। নিজেদের লুকিয়ে রাখো।
তুমি যদি কোনো শিয়াকে জিজ্ঞাসা করো—তোমরা কুরআন অস্বীকার করো। তারা বলবে মিথ্যা কথা। তুমি বলবে তোমরা আবু বকরকে গালি দেও তারা বলবে এটা সত্য নয়। কেনো তারা এটা করতো? কারণ আমাদের দৃষ্টিতে তো সে মিথ্যা বলছে। কিন্তু তাদের ধর্মমতে তো সে নেকি কামিয়েছে। ইমামের কথা মেনে তাকিয়া করেছে। আর তাদের উসুলই হলো—
من لا تقية له لا إيمان له
যে তাকিয়া করবে না তার ঈমান নেই।
তার অর্থ হলো সে নিজের মাযহাবের ব্যাপারে মিথ্যা বললে সে নেকি পাবে। কিন্তু তুই কেনো তোর নিজ এরিয়ায়, তোর ভুখন্ডে, তোর আশপাশে শিয়াদের কথা মত বলে দিস যে—তারা তো আল্লাহকে মানে। এরা তো নবীকে মানে। আবু বকরকে মানে। সমস্যা তো নেই।
আরে! এটাই তো তাদের আদেশ ছিলো নিজের মাযহাব লুকাও। তুমি নেকি পাবে।
কিন্তু আমার ভাইয়েরা!
খোমেনি ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসে সে তৃতীয় যে হুকুম জারি করে তা কোথায়? খোমেনির বিভিন্ন ভাষণ যা ত্রিশ খন্ডে ছাপা হয়েছে। ঐ সমস্ত ভাষণের সংকলনে যে তৃতীয় ভাষণ সেখানে স্পষ্ট আছে—ইমামের আদেশ ছিলো মাজহাব লুকাও। কিন্তু ১৪ শত বছরের ইতিহাসে আল্লাহ আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তা এর আগে আর কোনো শিয়া পায়নি। তারা হয়তো মুরতাদ ছিলো অথবা সুন্নিদের সাথে আপোস করে ক্ষমতায় ছিলো। আমি এই সবকিছু থেকে উর্ধ্বে। আমি আলি আ.-র যোগ্য উত্তরসূরি। ইমাম হওয়ার যোগ্য। তাই আমি ইমাম আলি আ.-র সেই হুকুমকে মানসুখ করে দিয়ে এলান করছি। শিয়া! নিজেদের মাযহাবকে প্রকাশ করো। প্রথমে মাযহাব লুকানো ইবাদত ছিলো আর এখন মাযহাব প্রকাশ করা ইবাদত।
হাজার বছরের তাকিয়ার মাযহাবকে খোমেনি ভেঙে দিলো। সমস্ত মাখতুত নুসখা যা লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা প্রকাশ্যে এসে তাদের লুকানো চেহারা প্রকাশ করে চৌরাস্তায় উলংগ করে দিয়েছে। উসুলে কাফি ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাক্কুল ইয়াকিনকে ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিয়াদের সমস্ত কিতাব যেগুলোতে সাহাবাদের মা-বোনদের গালি দেওয়া হয়েছে ছাপিয়ে দিয়েছে।
যেখানে লেখা ছিলো— আল্লাহ মিথ্যা বলে এটাই ছাপিয়েছে।
যেখানে লেখা ছিলো—পয়গম্বর ব্যার্থ হয়েছে। সেটাও ছাপা হয়েছে।
যেখানে লেখা ছিলো—ইমাম মাহদির হাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইয়াত নিবেন সেটাও ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যেখানে লেখা ছিলো—আয়েশা রা.-র উপর জিনার হদ কায়েম করা হবে এটাও ছাপিয়ে দিচ্ছে।
যেখানে লেখা ছিলো আবু বকর ও উমর রা.কে রওজা থেকে বের করে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে উলঙ্গ করে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানো হবে। তাও ছাপিয়ে দিয়েছে।
যেখানে এটা লেখা ছিলো—আবু বকর কাফের, উমর কাফের, উসমান মদখোর। ঐ সবকিছু সাড়ে ১৭ লক্ষ ডলার খরচ করে এক বছরে খোমেনি ছেপেছে। উর্দুতে, আরবিতে, ফারসিতে ও ইংরেজিতে যখন এই সমস্ত কিতাব দুনিয়ায় আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেলো। তখন এতদিন যারা ইরানী ইনকিলাবের পর খোমেনিকে সালাম দিতো, সমর্থন করতো। কিন্তু যখন এই বিষময় চেহারা প্রকাশ পেয়ে গেলো তখন সমস্ত মুসলমান খোমেনিকে কাফের ফতোয়া দিয়েছে।
আরে!
হক নেওয়াজ জাংভি রহ. তো পাকিস্তানে ছিলেন। ইন্ডিয়াতে মানজুর আহমদ নোমানী সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার সদস্য ছিলো না। লেবানানে শায়খ উতাইর তাকফির করলো। সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার কেউ ছিলো না। মিশরের শায়খ উজাইর তাকফির করলো। সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার লোক ছিলো না। মিসর থেকে খোমেনির কুফরের ব্যাপারে কিতাব ছাপানো হয়েছে। বাইরুত থেকে খোমেনির কুফরের ব্যাপারে কিতাব ছাপানো হয়েছে। ইন্ডিয়া থেকে খোমেনির কুফরের বিষয়ে কিতাব ছাপানো হয়েছে।
ঐ কুফরগুলোকে যদি হক নেওয়াজ রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বাজারে, পার্কে লাগিয়ে থাকে যাতে মানুষের ঈমানকে রক্ষা করতে পারে। তাহলে আমাকে বলো—এই কুফরিত অন্যায় চেহারা প্রকাশ করাতে হক নেওয়াজের নয় বরং কাফের খোমেনির হাত রয়েছে। ঐ শিয়া! হক নেওয়াজকে ভালো মন্দ বলা ছাড়। নিজের বাপের খবরকে গিয়ে গালি দে।
আমার ভাইয়েরা!
আমার কথা বুঝে আসছেতো আপনাদের? এখন বলুন—শিয়াদের চেহারা খুলে তাদের উলঙ্গ কে করেছে? খোমেনি উঠিয়েছে। খোমেনি নিজের দেহকে নিজে উলঙ্গ করেছে। কিন্তু হক নেওয়াজ শরীফের উপর কেন তার রাগ তারা প্রকাশ করলো। এই বিষয়ে আমি আলোচনা করবো। এই তো গেলো কিছু ভূমিকা স্বরূপ কথা। এখন আমি মূল আলোচনা শুরু করবো। (চলবে)
নোট : জিয়াউর রহমান ফারুকী রহ. এখানে যতগুলো হাওয়ালা দিয়েছেন আমার যাচাই করার তাওফিক হয়নি। ইনশাআল্লাহ পুরো অডিও লিপিবদ্ধ করে হাওয়ালাগুলো মিলিয়ে পিডিএফ বা অন্যকোনো পদ্ধায় পেশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a comment