লেখক: আবু আব্দিল্লাহ
শিয়ারা অভিযোগ দেয় মুয়াবিয়া রা নাকি হাসান (রা) এর স্ত্রী জাদাহ বিনতে আশয়াস কে ইয়াজিদের স্ত্রী হবার লোভ দেখিয়ে তাকে প্ররোচিত করে হাসান (রা) কে বিষ প্রয়োগ করায় আবার কারও দাবি জাদাহ বিনতে আশয়াস কে প্ররোচিত করেছিল তার বাবা আশয়াস ইবনে কায়েস যাকে (ইবনে কায়েস) প্ররোচিত করেছিল মুয়াবিয়া (রা)। আমাদের মুসলিম আলেমরা অনক সময় শিয়াদের এই অপপ্রচারের কারণে এইসব গাজাখুরী গল্প বিশ্বাস করে। কথায় আছে প্রচারেই প্রসার। তো আসুন এবার এ ব্যাপরে আলোচনা করা যাক।
জাদাহ রহ এবং মুয়াবিয়া (রা) এর উপর অপবাদ দেওয়া এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডামূলক ইতিহাস নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যার্থ হয়েছেঃ
১।হাসান রা কে হত্যার মাধ্যমে হযরত মুয়াবিয়া (রা) কি উপকার পেতে পারতেন?প্রকৃতপক্ষে যতদিন হাসান রা বেচে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত ইরাকবাসী দ্বারা হোসাইন (রা) কে প্ররোচিত করার সম্ভাবনা কম ছিল।কারণ হাসান রা কে হত্যা করা মানে ইরাকবাসী তথা শিয়াদের সুযোগ করে দেওয়া।( ইসলামের অধিকাংশ ফেতনা এই ইরাক থেকেই এসেছে।এ নিয়েও আলোচনা করবো কোন একদিন।কোন কোন জাহেল লোক ইরাক থেকে ফেতনা এসেছে বললে ভাবে ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে বলছে।আসলে ইরাক ছিল শিয়াদের ঘাটি।তবে সেখানে অনেক সাহাবীও ছিলেন যেমন আলী রা,আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) ইত্যাদি আবার বড় বড় ইমামও ছিলেন যেমন আবু হানিফা রহ,জাফর সাদেক (রহ) ইত্যাদি যাদের সাথে শিয়াদের কোন সম্পর্ক নেই)। এটা সবার অবগত হাসান (রা) মুসলিমদের ভিতর হানাহানির পুরোপুরি বিরোধী ছিলেন এবং সেই কারণেই তিনি স্বইচ্ছায় খিলাফত মুয়াবিয়া রা হাতে অর্পন করেন।
এই প্রশ্নের উত্তরে কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন করে (concoct) বলা হয় মুয়াবিয়া রা ও হাসান রা এর মাঝে এই শর্তে সন্ধি হয়েছিল যে মুয়াবিয়া (রা) এর ইন্তকালের পর খিলাফত হাসান (রা) হাতে অর্পন করা হবে।তাই মুয়াবিয়া (রা) এর উদ্দেশ্য ছিল হাসান রা কে খুন করে এই শর্ত পূরণ হতে না দেওয়া। (নাউজুবিল্লাহ)।এইসব হাস্যকর ও অজ্ঞতাসুলভ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত গল্পের বাস্তবে কোন ভিত্তি নেই।কারণ যদি বাস্তবে এমন কিছু সত্যিই ঘটতো তবে তা আম পাতা জোড়া জোড়া, মারবো চাবুক চড়বো ঘোড়া কবিতার মতো সে যুগে সাহাবী ও তাবেয়ীদের মুখে মুখে থাকতো এবং এ ব্যপারে অবশ্যই কিছু অথেনটিক বর্ণনা পাওয়া যেত।কিন্তু বাস্তবে এ ব্যপারে কোন সহীহ বর্ণনাই নেই।অথচ যেখানে তা মুতাওয়াতির হওয়ার কথা ছিল।
২।কেন এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না যেখানে হোসাইন (রা) তার ভাই হাসান (রা) কে হত্যার অভিযোগে মুয়াবিয়া (রা) কে অভিযুক্ত করেছেন?বরং উল্টো যা পাওয়া যায় তা হলো হযরত হোসাইন (রা) তার ভাই হাসান রা এর ইন্তেকালের পর ও মুয়াবিয়া (রা) এর কাছে বছরে অন্তত একবার যাতায়াত অব্যাহত রেখেছিলেন এবং তার দেওয়া উপহার সামগ্রীও গ্রহণ করতেন যেমনটি তিনি তার ভাই হাসান রা জীবিত থাকা অবস্থায়ও করতেন।
৩।হাসান (রা) এর স্ত্রী জাদাহ রহ নিজেই একজন রাজকন্যা ছিলেন।কারন তার বাবা ছিলেন বিখ্যাত এবং শক্তিশালী কিন্দাহ গোত্রের প্রধান আশয়াস ইবনে কায়েস।তিনি আলী (রা) এর বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন ( মাথায় রাখুন, ভবিষ্যতে তাকে নিয়েও আলোচবা করা হবে)।হাসান রা যিনি দো জাহানের রাজপুত্র,তার সময়কার সবচেয়ে সুদর্শন ছিলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি এবং আদরের ছিলেন, যাকে বিয়ে করা সে সময়কার সকল নারীরই বাসনা ছিল তা যত অল্প সময়ের জন্যই হোক না কেন সেই হাসান (রা) কে স্বামী হিসেবে পেয়ে জাদাহ (রহ) এমনিতেই অনেক সম্মানিত ছিলেন। জাদাহ (রহ) হাসান (রা) কে বিয়ের মাধ্যমে হযরত ফাতেমা (রা) কে শ্বাশুড়ি হিসেবে পান,আলী (রা) ছিলেন সম্পর্কে তার শ্বশুর আর এতে তিনি রাসূল্লাহর পরিবারের (আহলে বাইতের) অনেক নিকটবর্তী হন।তো এত সম্মান পাওয়ার পরও কিসের লোভে তিনি তার এ গর্ব (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাত বৌ) ও মর্যাদা ত্যাগ করলেন যেখানে রাফেজী শিয়াদের দাবি অনুযাী শুধুমাত্র তাকে ইয়াজিদের স্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল!!?? অথচ জান্নাতে যুবকদের সর্দার হাসান (রা) এর সাথে ইয়াজিদের কোন তুলনাই চলেনা! (আছে কি কোন উত্তর শিয়াদের কাছে???)
৪।যদি মুয়াবিয়া রা ও ইয়াজিদ মিলে হাসান (রা) কে বিষ প্রয়োগে হত্যার চিন্তা করতেন তবে অবশ্যই তা তার স্ত্রীর মাধ্যমে করাতেন না।তারা স্ব ইচ্ছায় নিজেদের পুরো মুসলিম উম্মাহর সামনে লান্চিত করতেন না এবং নিজেদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ব্রান্ড করতেন না।কারন একজন স্ত্রীর মাঝে তার স্বামীর জন্য কি পরিমান ভালোবাসা থাকে তা সবাই জানে আর সেখানে হাসান রা এর মতো স্বামীর বিরুদ্ধে তারই স্ত্রী জাদাহকে প্ররোচিত করা মানে মুসলিম উম্মাহর সামনে নিজেদের কুমতলব ফাস করে দেওয়া আর নিজেকে বোকা বলে পরিচয় দেওয়া।যেখানে একজন অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন লোকও এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিবে না সেখানে এই বোকামীপূর্ণ পরিকল্পনা একজন মহান সাহাবী মুয়াবিয়া রা এর মাথা থেকে কিভাবে বের হয় যেখানে তিনি একজন বিজ্ঞ শাসক হিসবে পরিচিত ছিলেন( ইবনে আব্বাস রা তাকে একজন বিজ্ঞ ফকিহ বলেছেন)
(কল্পনা করুন আপনার শত্রু আপনার স্ত্রীকে বলেছে আপনাকে হত্যা করার জন্য।এখন আপনি কি আশা করেন আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে? সে কি আপনাকে মেরে ফেলবে নাকি আপনাকে আপনার শত্রুর খবর বলে দিবে? এবার কল্পনা করুন জান্নাতের যুবকদের সর্দার হাসান রা এর স্ত্রীর কথা।আসলে শিয়ারা ইহুদি ইবনে সাবাহর বংশ তাই ওরা যা ইচ্ছা তা বলে সাহাবীদের গায়ে কলংক লেপনের চেষ্টা করে কিন্তু একবারও ভাবেবা কি বলছে।)
৫।যদি মুয়াবিয়া রা এর উদ্দেশ্য এই থাকতো যে হাসান রা কে হত্যার মাধ্যমে ইয়াজিদের জন্য খলিফা হওয়ার পথ পরিস্কার করা তবে কেন তিনি ইয়াজিদের মনোনয়ন বিরোধীতাকারীদের সাথে ওরকম চেষ্টা করলেন না???মুয়াবিয়া রা এ ব্যপারে খুবই সচেতন ছিলেন যে যদি ইয়াজিদকে সত্যি কোন বিরোধীতার মুখোমুখি হতে হয় তবে অবশ্যই তা আসবে হোসাইন রা এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা এর পক্ষ থেকে।তো হাসান রা কে হত্যা যদি এতই সহজ হয় তাহলে তিনি এই একই ঘটনা কেন ঔ দুজনের সাথে করলেন না???
৬।প্রতি বছর হযরত হাসান রা তার ভাই হোসাইন রা কে সাথে নিয়ে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া রা এর কাছে যেতেন।তো মুয়াবিয়া রা এর মনে যদি তাদের হত্যার চিন্তা থাকতো সে সহজেই আদেশ দিতে পারতেন যাতে হাসনাইনদের (হাসান রা ও হোসাইন রা) যাত্রাপথে হামলা করা হয় এবং হত্যা করা হয়।এতে একজন মহিলার (যিনি জান্নাতের যুবকদের সর্দারের স্ত্রী) দ্বারা তার কুমতলব ফাস হওয়ার ভয় ও থাকতে না আবার পরবর্তীতে হোসাইন রা দ্বারা বিরোধীতার আশংকাও থাকতো না।
৭।কোন কোন কালপ্রিট শিয়া দাবি করে জাদাহ রহ এর পিতা আশয়াস ইবনে কায়েস কে মুয়াবিয়া রা টাকা দিয়ে কিনে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তাকে প্ররোচিত করে তার মেয়েকে দিয়ে হাসান রা কে বিষ প্রয়োগ করান!!যতগুলো উদ্ভট গল্প আছে এ ব্যাপারে এটি তার মধ্যে সবচেয়ে উদ্ভট।কারন আশয়াস ইবনে কায়েস হাসান রা এর ইন্তেকালের প্রায় নয় বছর আগে মারা যান।কোন কোন রেওয়াত অনুযায়ী হাসান রা স্বয়ং তার জানাজা পড়ান।
৮। কিছু কিছু ঔতিহাসিক যারা কোনরূপ যাচাই বাছাই ছাড়াই জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ এর উপর হাসান রা কে বিষ প্রয়োগের অপবাদ আরোপ করেছেন।অথচ তারা যদি তার জীবন ইতিহাসের উপর কিছুটা নজর বুলাতেন তবে এটা তারা বুঝতে পারতেন যে তার উপর দেয়া অপবাদ পুরোপুরি রাফেজী শিয়াদের পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন।
তার জীবন ইতিহাসের কিছুটা উল্লেখ করা হলো যা তাবাকাতে ইবনে সাআদ ও অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া হয়েছেঃ
(ক)তিনি আমিরুল মুমিনীন আবু বকর সিদ্দিক (রা) এর মায়ের দিক থেকে ভাইঝি ছিলেন( maternal niece)।
(খ)আলী রা জীবিত থাকা অবস্থায় তার সাথে হাসান রা এর বিয়ে হয়।এতে তিনি হাসান রা এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় নয় বছর তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থেকে সকল সুবিধা পেয়েছেন।হযরত হাসান রা এর এই বিষয়ে খুব প্রসিদ্ধ ছিলেন যে তিনি একজনকে বিয়ে করতেন আবার কিছুদিন পর তাকে তালাক দিয়ে অন্য ধার্মিক মহিলাকে বিয়ে করতেন।
قَالَ عَلِيٌّ: «مَازَالَ الْحَسَنُ يَتَزَوَّجُ وَيُطَلِّقُ، حَتَّى حَسِبْتُ أَنْ يَكُونَ عَدَاوَةً فِي الْقَبَائِلِ
হযরত আলী রাঃ বলেন, হাসান রাঃ বিয়ে করে, আবার তালাক দেয়। এভাবে চলছে। আমার শংকা হচ্ছে গোত্রে গোত্রে এ নিয়ে শত্রুতা না তৈরী হয়। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৯১৯৬
এটা তিনি শুধু এজন্য করতেন যাতে অনেকেই রাসূলুল্লাহর পরিবারের ভাগী হতে পারেন। কিন্তু তার এ বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও তিনি জাদাহ বিনতে আশয়াসকে তার মৃত্যু পর্যন্ত স্ত্রী হিসেবে রেখেছিলেন।কিন্তু কেন? এটা কি করে সম্ভব এমন একজন বিচক্ষন,জ্ঞানী লোকের ( হাসান রা)কাছ থেকে ঔ মহিলার( জাদাহ রহ) গোপন কুমতলব গোপন থাকা?! এবং অন্যান্য মহিলাদের তালাক দেওয়ার পরও জাদাহকে তালাক না দিয়ে স্ত্রী হিসেবে রাখা?!! জাদাহ রহ এর প্রতি হাসান রা এর ভালেবাসা,তার দিকে স্নেহ অনুভব করা কি এটাই নির্দেশ করেনা জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ উত্তম,ধার্মিক,সত্যবাদি এবং দায়িত্বশীল ছিলেন???কেরআন কি আমাদের এদিকে ইংগিত করেনি যে, কোন ধার্মিক পুরুষ যদি তার নারী সংগীর প্রতি ভালেবাসা অনুভব করে,প্রশংসা করার গুন পায়,তার দিকে ঝুকে পরে তবে তা সে মহিলার পবিত্রতাই নির্দেশ করে??
আল্লাহ কি পবিত্র কুরআনে বলেননি:
ٱلْخَبِيثَٰتُ لِلْخَبِيثِينَ وَٱلْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَٰتِۖ وَٱلطَّيِّبَٰتُ لِلطَّيِّبِينَ وَٱلطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَٰتِۚ أُو۟لَٰٓئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَۖ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
অনুবাদঃ দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তার সাথে তারা সম্পর্কহীন; তাদের জন্য আছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।(সূরা আন নূর ২৪:২৬)
(গ)হাসান রা এর ইন্তেকালের পর ইয়াকুব ইবনে তালহা জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ কে বিয়ে করেন।কে ছিলেন এই ইয়াকুব ইবনে তালহা? ইনি আশারায়ে মুবাশশারার সদস্য (দুনিয়াতে জান্নাতের ঘোষণাপ্রাপ্ত) তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা এর ছেলে এবং প্রখ্যাত তাবেয়ী।জাদাহ বিনতে আশয়াস ইয়াকুব ইবনে তালহা রহ কে বিয়ে করার পর ইয়াকুব ইবনে তালহার মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে মদীনা মুনাওয়ারাতে বসবাস করেন এবং তিন সন্তানের মা হন। ইয়াকুব ইবনে তালহা প্রথম সারির তাবেয়ী ছিলেন এবং তার মহত্ত্বরে জন্য খুব বিখ্যাত ছিলেন।এমন একজন প্রসিদ্ধ লোকের পক্ষে কি সম্ভব এমন একজন মহিলাকে বিয়ে করা যাকে হাসান রা কে বিষ পান করানের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে!??এও কি সম্ভব তাকে নিয়ে সেই মদীনাতেই বাস করা যেখানে হাসান রা ইন্তেকাল করেন??!( আছে কোন শিয়া এর উত্তর দিবে?)।ঘটনা যদি সত্যিই হতো তবে ইয়াকুব ইবনে তালহা জীবনে তাকে বিয়ে করতেন না আর মদীনায় বসবাস তো দূরের কথা।
(ঘ)তার নতুন স্বামী ইয়াকুব ইবনে তালহার সাথে মদীনায় বসবাসের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরী হয় যখন তার স্বামীসহ মদীনাবাসী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা এর হাতে আনুগত্যের বায়াত নেন।সেই সময় কেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা জাদাহ রহ কে বিচারের সম্নুখীন করলেন না? বা কেন ঘটনার তদন্ত করলেন না?এর একটাই কারন হতে পারে তা হলো সে সময় মদীনার কেউই হাসান রা হত্যার ব্যাপারে একটি অভিযোগও জাদাহ রহ এর উপর করেনি যে কারনে তদন্তের প্রশ্নই উঠেনি।
(কল্পনা করুন আপনি খুন করলেন,আপনার উপর অভিযোগ আসলো,আবার আপনি ঔ জায়গায় বাস করছেন।অথচ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মুসলিমরা আপনাকে বিচারের সম্মুখীন করছেন না!! বা তদন্ত করছেন না!!এটা কি কোন সুস্থ মস্তিষ্কের লোক চিন্তা করতে পারে??!আর এখন সাহাবাদের যুগ কল্পনা করুন।যারা ন্যায়বিচারে ছিলেন সিদ্ধহস্ত।)
(ঙ)ইয়াকুব ইবনে তালহার রহ এর ইন্তেকালের পর আহলে বাইতের সদস্য আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা এর বড় ছেলে জাদাহ রহ কে বিয়ে করেন এবং তার ঔরসে দুই সন্তানের জন্ম হয়।আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা ও আলী রা এর ঘনিষ্ঠ সন্পর্ক জানার পরও কি কেউ চিন্তা করতে পারে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা এর বড় ছেলে এমন একজনকে বিয়ে করেছে যে কিনা আলী রা এর বড় ছেলে( হাসান রা) হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত?!তো তিনি তাকে বিয়ে করেন এবং তাকে নিয়ে শামে বসবাস করেন।এতে প্রমানিত হয় জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ এর উপর হিজাজ এবং শাম থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি।
( উল্লেখ্য আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা ছিলেন নবীজীর আপন চাচা আব্বাস রা এর ছেলে আর আলী রা ছিলেন নবীজীর আর এক আপন চাচা আবু তালিবের ছেলে।উভয়েই আহলে বাইতের সদস।আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আলী রা উভয়ই নবীজীর আপন চাচাতে ভাই।এনারা নিজেরাও আপন চাচাতো ভাই।আর উভয়ের সম্মান ইসলামে সুবিদিত।)
(চ) চিন্তার খোরাকঃ হাসান রা এর ইন্তকালের পর কি ইয়াজিদ জাদাহ রহ কে বিয়ে করেছিলো? (শিয়াদের দাবি অনিযায়ী তাকে নাকি এটার লোভই দেখানে হয়েছিল)।উত্তরঃ করেনি।কেন করেনি? কারন এমন কোন ঘটনা ঘটেই নি।কারন যদি এমন কিছু ঘটতো তবে জাদাহ রহ বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। তখন মুয়াবিয়া রা এর হাতে দুটো সুযোগ ছিল।হয় জাদাহ রহ কে ইয়াজিদের সাথে বিবাহ দেওয়া নচেৎ জাদাহ রহ কে গোপনে হত্যা করা কারন জাদাহ এর দ্বারা এই ঘৃন্য ঘটনার মূল হোতাকরীর ( শিয়াদের ভাষায় মুয়াবিয়া রা)পরিচয় প্রকাশ পাওয়া সম্ভব ছিল।অথচ এগুলার কিছুই হয়নি।না বিয়ে হয়েছে না জাদাহ রহ খুন হয়েছেন না হেজাজ বা শাম থেকে জাদাহ রহ কে অভিযুক্ত করেছেন।এতেই প্রমানিত হয় হাসান রা এর হত্যায় আমিরুল মুমিনীন মুয়াবিয়া রা কিংবা জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ কিংবা ইয়াজিদ কেউই জড়িত ছিলেন না।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রমানিত সাহাবাদের যুগে মুয়াবিয়া রা,জাদাহ বিনতে আশয়াস রহ এবং ইয়াজিদ কারও উপরেই হাসান রা এর হত্যার অভিযোগের তীর ছোড়া হয়নি অন্তত মদীনা এবং শামে।হাসান রা এর হত্যায় জড়িত সন্দেহে না কোন বিচার হয়েছে,না কোন প্রমান পাওয়া গিয়েছে প্রকৃতপক্ষে ঔ তিনজনের কারও দিকেই অভিযোগের আংগুল পর্যন্ত তোলা হয়নি।এই যখন অবস্থা তখন কারও কি অধিকার আছে মুয়াবিয়া রা বা জাদাহ রহ বা ইয়াজিদ কারও দিকে আংগুল তোলার যেখানে প্রমান ছাড়া অভিযোগ করা শরীয়াহতে কতটা ভয়ংকর তা জানার পরও!!?? ওয়াল্লাহু আলাম
এখন প্রশ্ন তাহলে কারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল?? জানতে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।আসল কালপ্রিটদের ব্যাপারে ধারণা পাবেন পরবর্তী পর্বে ইনশাল্লাহ।

Leave a comment