সংকলনঃ আবু মাইসারা
আস-সুবকী আশ শাফেঈ(রহ) বলেনঃ[১] সাহাবীগণের প্রতিও বিদ্বেষ পোষণ করা ঈমানের পরিপন্থী। কেউ যদি দ্বীনের কারণে (অর্থাৎ তাদের মাধ্যমে দ্বীনের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল, দ্বীন বিজয় লাভ করেছিল) তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তা হলে সে কাফির হয়ে যাবে। আর নিছক ব্যক্তিগত কারণেও তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখা সমীচীন নয়। এর জন্য গুনাহগার হতে হবে।
মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী আশ শাফেয়ী (মৃত্যু: ৮১৭ হিজরি) বলেনঃ[২] আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত যে, প্রাচীন এবং বর্তমানকালের ইমামিয়া শিয়াদের অনেকেই বলে থাকে যে—কুরআন পরিবর্তিত হয়েছে, এতে অনেক কিছু বাড়ানো হয়েছে এবং অনেক কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এই মতটিকে অস্বীকার করেন এবং এর প্রবক্তাদের কাফির মনে করেন—যেমন আলী ইবনুল হোসেন বিন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম ইবনে মুসা বিন জাফর[৩] (যিনি ইমামিয়া হওয়া সত্ত্বেও মুতাজিলা মতবাদ প্রকাশ করতেন), এবং তাঁর দুই সঙ্গী আবু ইয়ালা ও আবু কাসেম আল-রাজি[৪]। তবে এছাড়া অন্যান্য ইমামিয়াদের অবস্থা আমরা যা বর্ণনা করেছি তেমনই। এটিই যাদের দ্বীন, বিশ্বাস ও মাযহাব, সে কীভাবে ধারালো ও কর্তনকারী তলোয়ার ব্যতীত অন্য কোনো উত্তর পাওয়ার যোগ্য হতে পারে?
তথ্যসূত্রঃ
[১] আস-সুবকী, আল-ফাতাওয়া, খ.২, পৃ.৫৭৫-৬, আহমদ আলী, ইসলামের শাস্তি আইন, পৃ.১৯৭
[২] মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী, আর রাদ্দুর রাফিজা, পৃ.৭০, মাকতাবা আল ইমাম বুখারী
[৩] তিনি হলেন আলী বিন আল-হুসাইন বিন মুসা, আবু কাসিম আল-মুরতাজা, মৃত্যু (৪৩৬ হিজরি)। তিনি একজন ‘রাফেযী’ মুতাজিলা বক্তা এবং বহু গ্রন্থের লেখক। তিনি ‘নাহজুল বালাগাহ’ গ্রন্থটি সংকলন করেন, যা আলী বিন আবি তালিবের ওপর আরোপিত একটি মিথ্যাচার। যদিও এতে আলীর কিছু খুতবা রয়েছে, তবে এর অধিকাংশ অংশই মিথ্যা এবং আলীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া। তার ভালো দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি তাকে কাফের বলতেন যে দাবি করে কুরআন পরিবর্তন করা হয়েছে বা এতে কিছু কমানো-বাড়ানো হয়েছে। ইবনুল জাওযী তার ‘আল-মুনতাযাম’ (৮/১২৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-মুরতাজা যে রোগে মারা যান, সেই অবস্থায় তিনি তার মাথা দেয়ালের দিকে ঘুরিয়ে বলতেন: “আবু বকর ও উমর ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী ছিলেন…”, আমি যখন দরজার চৌকাঠে পৌঁছালাম তখন এক আর্তনাদ শুনতে পেলাম (তার মৃত্যুর সংকেত)।
[৪] এমনটিই রয়েছে ‘আল-ফাসল’ (৪/১৩৯), ‘লিসানুল মিজান’ (৪/২২৩) এবং ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত’ (২৮৬২) গ্রন্থে। এই সবকটি উৎস ইবনে হাজম-এর ‘আল-ফাসল’ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ‘আবু ইয়ালা আল-তুসী’ বলা হয়েছে। আমি ‘তারিখ-এ বাগদাদ’ (১১/৩০৭) ছাড়া অন্য কোথাও তার জীবনী পাইনি। তিনি ৩৬৭ হিজরিতে মারা যান। এছাড়া ‘আবু কাসিম আল-রাজি’ নামটি অনেক মুহাদ্দিসের উপাধি। এখানে উদ্দেশ্য হলো দুজন শিয়া ব্যক্তি।

Leave a comment