রাফেজী শিয়াদের ব্যাপারে হানাফী মাযহাবের ফতোয়া

সংকলনঃ আবু মাইসারা

ইমাম আবু হানিফা (রহ) তাঁর ‘আল ফিকহুল আকবর’ গ্রন্থে লিখেছেনঃ

নবীগণের (আ.) পরে মানব জাতির মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর সিদ্দিক, তার পরে উমার, এরপর উসমান, এরপর আলী, রাদিয়াল্লাহু আনহুম। আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন। তারা আজীবন আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে, সত্যের উপরে ও সত্যের সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত থেকেছেন। আমরা তাদের সকলকেই ভালোবাসি ও গুণী হিসেবে গ্রহণ করি। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোনো একজন সাহাবির বিষয়ে ভাল কথা ছাড়া কিছু বলি না।”[১]

ইমাম আবু হানিফা (রহ) তাঁর ‘আল আসিয়াত’ গ্রন্থে লিখেছেনঃ

আমরা বিশ্বাস করি যে, এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), তার পর হযরত উমর (রা.), তার পর হযরত উসমান (রা.) এবং তার পর হযরত আলী (রা.)। এদের মধ্যে যিনি খিলাফতের দিকে এগিয়ে অগ্রগামী, তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়েও অগ্রগামী। প্রত্যেক মুত্তাকী মুমিন তাদের ভালোবাসেন আর যারা তাদের সম্পর্কে বিদ্বেষ পোষণ করে তারা তো বদবখত মুনাফিক।[২]

প্রখ্যাত হানাফী শায়েখ ইমাম তাহাবি রহ. বলেন,

وَنُحِبُّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا نُفْرِطُ فِي حُبِّ أَحَدٍ مِنْهُمْ، وَلَا نَتَبَرَّأُ مِنْ أَحَدٍ مِنْهُمْ، وَنَبْغَضُ مَنْ يُبْغِضُهُمْ، وَبِغَيْرِ الْخَيْرِ يَذْكُرُهُمْ، وَلَا نَذْكُرُهُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ، وَحُبُّهُمْ دِينٌ وَإِيمَانٌ وَإِحْسَانٌ، وَبُغْضُهُمْ كُفْرٌ وَنِفَاقٌ وَطُغْيَانٌ।

আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসি। তাদের কারও প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা বাড়াবাড়ি যেমন করি না, তেমনি তাদের কারও সঙ্গে সম্পর্কহীনতার দাবি ও করি না। যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে এবং অন্যায়ভাবে তাদেরকে স্মরণ করে, আমরা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি। আমরা তাদেরকে শুধু কল্যাণের সাথেই স্মরণ করি। তাদের ভালোবাসা হচ্ছে দ্বীন, ঈমান ও ইসলামের অংশ। আর তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর, নেফাক ও সীমালঙ্ঘন।[৩] 

ইবনে আবিদিন শামী ইমাম মোল্লা আলী কারি রহ. থেকে নকল করেন,

أما من سب أحدا من الصحابة فهو فاسق ومبتدع بالإجماع، إلا إذا اعتقد أنه مباح أو يترتب عليه ثواب كما عليه بعض الشيعة، أو اعتقد كفر الصحابة فإنه كافر بالإجماع

আর কেউ যদি কোনো সাহাবিকে গালি দেয় তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে সে ফাসেক ও বিদআতি। তবে কেউ যদি গালি দেয়াকে বৈধ ও সওয়াবের কাজ মনে করে, যেমনটা কতক শিয়াদের বিশ্বাস অথবা সাহাবিরা কুফর করেছেন এমন বিশ্বাস রাখে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফের।[৪]

ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ) বলেনঃ

আমরা সকল সাহাবির ব্যাপারে উত্তম আলোচনা ছাড়া ভিন্ন কোনো মন্তব্য ও সমালোচনা করা থেকে আমাদের মুখকে সংযত রাখি। দীনির ব্যাপারে তারা আমাদের নেতা ও অনুকরণীয়।সাহাবিদের গালি দেওয়া হারাম এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব।[৫]

শায়েখ নাজমুদ্দীন উমর বিন মুহাম্মদ নাসাফী রহ বলেনঃ

আর কল্যাণ বা প্রশংসা ব্যতীত সাহাবায়ে কিরামের আলোচনা থেকে মুখ বন্ধ রাখা (বিরত রাখা) হবে। সেসব বিশুদ্ধ হাদীসের কারণে, যেগুলো তাদের ফযিলত এবং তাদের তিরস্কার করা থেকে মুখ বন্ধ রাখার (বিরত থাকার) ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, রাসূল করীম ইরশাদ করেছেন— আমার সাহাবীদের মন্দ বলো না! কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহর পথে সদকা করে, তবে সে তাদের (সাহাবাগণের) কারও সদকাকৃত এক মুদ বা অর্ধ মুদ পর্যায়েও পৌঁছতে পারবে না। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— আমার সাহাবীদের সম্মান করো! কেননা তারা তোমাদের সকলের চেয়ে উত্তম। তিনি আরও বলেছেন— আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো! আমার (ইন্তেকালের) পরে তোমরা তাদেরকে লক্ষ্যস্থল বানিও না! সুতরাং যারা তাদেরকে ভালোবাসে, তারা আমাকে ভালোবাসার কারণে তাদেরকে ভালোবাসবে। আর যারা তাদের সাথে বিদ্বেষ রাখবে, তারা আমার সাথে বিদ্বেষ রাখবে। যারা তাদেরকে কষ্ট দেয়, তারা আমাকে কষ্ট দিল, আর যারা আমাকে কষ্ট দিল, তারা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলো। আর যারা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলো, শীঘ্রই আল্লাহ তাদের পাকড়াও করবেন। অতঃপর হযরত আবু বকর রাযি., হযরত উসমান রাযি., হযরত আলী রাযি., হযরত হাসান, হুসাইন রাযি. এর প্রত্যেকের এবং অন্যান্য বড় বড় সাহাবায়ে কিরামের ফযীলত সম্পর্কে বহু সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

তাদের মধ্যে যেমন মতপার্থক্য ও যুদ্ধ-বিষয় হয়েছে, সেগুলোর পটভূমি ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হয়েছে। সুতরাং যদি এরূপ কোনো কারণে তাদেরকে গালি দেওয়া হয় এবং তিরস্কার করা হয়, যা অকাট্য প্রমাণ বিরোধী, তা হবে কুফরী । যেমন, হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে অপবাদ দেওয়া। নতুন তা হবে বিদআত ও ফিসক।[৬]

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) এর ফতোয়া [৭]

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) তার বিখ্যাত কিতাব ইকফারুল মুলহিদিন এর বিভিন্ন জায়গায় রাফেজী শিয়াদের কাফের বলেছেন এবং সাথে তাদের কাফের বলার কারণও উল্লেখ করেছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে সারমর্ম তুলে ধরা হলোঃ

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) তার কিতাবের ১৩০ পৃষ্ঠায় বলেনঃযারা সাহাবাদের কাফির বলে, তারা কাফির এই বক্তব্যের সমর্থনে কাশ্মীরী (রহ) কাজি ইয়াজ রহ. এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, কাজি ইয়াজ রহ. শিফা নামক কিতাবে এর ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘অনুরূপভাবে আমরা ঐ ব্যক্তির কাফির হওয়া ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি, যে এমন কথা বলে, যার দ্বারা কোনো মুসলমানকে অপদস্থ করা হয় অথবা কোনো সাহাবাকে কাফির বলা হয়।‘ কাশ্মীরী (রহ) কাজি ইয়াজ রহ. এর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন, আর-রওজা গ্রন্থের লেখক ‘রিদ্দাহ’ অধ্যায়ে কাজি ইয়াজ রহ.-এর এই বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) তার কিতাবের ১৮৭ পৃষ্ঠায় বলেনঃ হযরত আয়েশা রাঃ-এর ওপর অপবাদদাতা কাফির এর সমর্থনে তিনি আল্লামা শামি রহ. এর বক্তব্য উল্লেখ করেন। শামি রহ. বলেন, ‘আমি বলি, অনুরূপভাবে ঐ ব্যক্তিও কাফির, যে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ-এর ওপর অপবাদ দেয় অথবা তাঁর সম্মানিত পিতাজান হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ-এর সাহাবী হওয়াকে অস্বীকার করে। কারণ, এটা কুরআন মজীদের ওপর প্রকাশ্য মিথ্যারোপ বৈ আর কিছু নয়। যেমন: ইতিপূর্বেই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

অতঃপর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) তার কিতাবের ১৮৮ পৃষ্ঠায় বলেনঃ হযরত আবু বকর ও উমর রাঃ-এর খেলাফত অস্বীকারকারীরাও কাফিরআল্লামা কাশ্মীরী রহ. খেলাফতে শায়খাইনের অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে শারহু মুনয়াতুল মুসাল্লির বিবরণের[১] সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘যারা হযরত আবু বকর রাঃ এবং হযরত উমর রাঃ-এর খেলাফতকে অস্বীকার করে, তাদেরকে অধিকাংশ ফকিহগণ কাফির বলেছেন। তাই আদ-দুররুল মুনতাকা গ্রন্থে শারহুল ওয়াহবানিয়া কিতাব থেকে এর প্রমাণ হিসেবে নিম্নলিখিত কবিতাটি উল্লেখ করেন,

وَضَعَ نُقَصَاءُ خِلَافَةَ أَبِي بَكْرٍ عَيْنٍ وَفِي الْفَارُوقِ ذَاكَ أَظْهَرُ

অর্থ: খেলাফতে আতিক তথা যারা হযরত আবু বকর রাঃ-এর খেলাফতকে অস্বীকার করে, তারা কাফির। হযরত উমর রাঃ-এর খেলাফতকে অস্বীকার করলেও কাফির হয়ে যাবে। আর এটা শক্তিশালী কথা।

তিনি (কাশ্মীরী (রহ)) বলেন, খুলাসাতুল ফাতাওয়া এবং সাওয়াইক কিতাবে ফকিহগণ এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, আল-মাবসুত গ্রন্থে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান রহ.-এর মতে, যারা হযরত আবু বকর রাঃ এবং হযরত উমর রাঃ-এর খেলাফত অস্বীকার করবে, তারাও কাফির। অনুরূপভাবে ফাতাওয়া জহিরিয়্যাহ গ্রন্থে এ উক্তিটিকে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে; যা ফাতাওয়া হিন্দিয়াতেও উল্লেখিত হয়েছে।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) অতঃপর আল্লামা শামী রহ.-এর শিথিলতা শিরোনামে বলেনঃ

আল্লামা ইবনু আবিদীন শামী রহ. উপরিউক্ত আলোচনায় শারহু মুনয়াতুল মুসাল্লির উদ্ধৃতিতে সন্দেহের ভিত্তিতে হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি.-এর খেলাফতের অস্বীকারকারীকে কাফির না বলার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। অথচ, খিজানাতুল মুফতিন গ্রন্থে হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি.-এর খেলাফত অস্বীকারকারীরা অকাট্য কাফির, হুওয়ার বিষয়টিকে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে। যেমনটি ফাতাওয়া উনকুরবিয়াহতে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ফাতাওয়া আজিজিয়্যাহ গ্রন্থে (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৪) বুরহান ও ফাতাওয়া বাদিইয়্যাহ এর বরাতে এবং অন্যান্য ফাতাওয়ার গ্রন্থাদিতে কতক হাম্বলি ও শাফেয়ী আলিমদের সূত্রেও এ কথা বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আবু বকর রাযি. এবং হযরত উমর রাযি.-এর খেলাফত অস্বীকারকারীরা কাফির।

অতঃপর কাশ্মিরী রহ. বুরহান গ্রন্থের আলোচনা উল্লেখ করেন যা নিম্নরূপ :

‘আমাদের হানাফি উলামায় কেরাম এবং ইমাম শাফেয়ী রহ. ফাসিকের ইমামতিকে এবং এমন বিদআতী ও পথভ্রষ্ট লোকের ইমামতিকে মাকরূহ বলেন, যাদের ভ্রষ্টতা ও বিদআতি কাজক কুফর বলা হয়নি। তাঁরা এ ধরনের লোকের ইমামতিকে মাকরূহ বলেন, ফাসিদ বলেন না। ইমাম মালিক রহ. এ ধরনের লোকের ইমামতিকে ফাসিদ বলেন। অতএব, আমাদের নিকট এ ধরনের লোকের পেছনে নামাজ পড়া জায়িয। তবে জাহমিয়াহ, কাদরিয়া, চরমপন্থী রাফেজি, কুরআন মাখলুক অভিমতের প্রবক্তা , খাত্তাবিয়াহ এবং মুশাব্বিহা সম্প্রদায়ের পেছনে নামাজ পড়া একেবারেই জায়িয নেই। [কারণ, এরা সকলেই কাফির সম্প্রদায়।]

তিনি আরো বলেন, যেসব আহলে কিবলা চরমপন্থী নয়, তাদের ওপর কাফির হওয়ার বিধান আরোপ করা হবে না। তাদের পেছনে নামাজ পড়া জায়িয, তবে মাকরূহ। আর যারা শাফায়াত [সুপারিশ], আল্লাহ তাআলার দর্শন, কবরের আজাব এবং কিরামান কাতেবিনসহ যাবতীয় মুতাওয়াতির বিষয়ের অস্বীকার করে তাদের পেছনে কখনোই নামাজ পড়া জায়িয হবে না। এরা নিঃসন্দেহে কাফির। কারণ, এসব বিষয়ের প্রামাণ্যসূত্র রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি বলবে, আল্লাহ তাআলাকে তার মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দেখা যায় না, সে বিদআতী, কাফির নয়। কারণ, সে মূল দর্শনের বিষয়টিকে অস্বীকার করেনি। বরং নিজের অজ্ঞতা ও অক্ষমতার কারণে ওই দর্শনকে সাধ্যের বাহিরে মনে করেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মোজার ওপর মাসাহ করার হুকুম অস্বীকার করবে অথবা যারা হযরত আবু বকর রাযি., হযরত উমর রাযি. এবং হযরত উসমান রাযি.-এর খেলাফতকে অস্বীকার করবে, তাদের পেছনে নামাজ পড়া কোনোক্রমেই জায়িয হবে না। কারণ, তারা মুতাওয়াতির ও উম্মতের সর্বসম্মত বিষয়ের অস্বীকার করেছে। তাই তারা কাফির। হ্যাঁ, যারা হযরত আলী রাযি.-কে অন্যান্য তিন খলিফা অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ মনে করে, তাদের পেছনে নামাজ জায়িয হবে। কারণ, তারাও বিদআতী, কাফির নয়।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ইমাম মুহাম্মাদ রহ., ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ও ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে বর্ণনা করেন, বিদআতিদের পিছনে নামাজের ইক্তেদা করা মোটেও জায়িয নয়।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) তার কিতাবের ১৯৬ পৃষ্ঠায় রাফেজি ও চরমপন্থী শিয়া সম্পর্কে বলেনঃ
গুনয়াতুত তালিবিন কিতাবে বর্ণিত, রাফেজিরা দাবি করে, ‘হযরত আলি রাঃ নবী ছিলেন।’

এরপর তাদের যাথাযথ কুফরি আকিদা-বিশ্বাসের কথা আলোচনা করার পর তাদের নামে বদদুয়া করে তিনি (কাশ্মীরী (রহ) বলেন, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ এবং সকল মাখলুক যেন তাদের (রাফেজীদের) ওপর কেয়ামত পর্যন্ত অভিশাপ বর্ষণ করেন।আল্লাহ তাআলা তাদের বসতিকে উজাড় করে দিন। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে তাদের নিশানা মুছে দিন; যাতে তাদের মধ্যে কেউ জীবিত না থাকে। কারণ তারা আপন বাড়াবাড়িতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। উপরন্তু তারা তাদের কুফরি-আকিদা-বিশ্বাসে অনড় হয়ে আছে।ইসলামকে তারা বহু আগেই বিদায় করে দিয়েছে। ইমানের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলী, নবী-রাসূলদের শিক্ষা ও দীক্ষা এবং কুরআন মাজিদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে।আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাদের কুফরি আকিদা-বিশ্বাস থেকে নিরাপদ করুন। আমিন।

এরপর আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) রাফেজীদের অকাট্য কাফির হওয়ার সমর্থনে তার কিতাবের ১৯৭ পৃষ্ঠায় আরিফ বিল্লাহ আল্লামা আবদুল গনি নাবলুসী রহ. এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেনঃ

আরিফ বিল্লাহ আল্লামা আবদুল গনি নাবলুসী রহ. শারহুল ফারায়িদ গ্রন্থে লেখেন, রাফেজীদের ধর্ম ত্রুটিযুক্ত ও বাতিল হওয়ার বিষয়টি এতটাই স্পষ্ট যে, তা প্রমাণ করার জন্য কোনো দলিল-প্রমাণের প্রয়োজন নেই। তাদের আকিদা-শিক্ষা কীভাবে বিশুদ্ধ হতে পারে? অথচ তাদের আকিদা হলো আমাদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোনো নবী বা রাসূল আসতে পারে।[২] এতে কুরআন মজীদকেও মিথ্যারোপ করা হয়। কারণ, কুরআন মাজীদ পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছে, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবি। তাঁর পর আর কোনো নবি আসবে না। নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন, ‘أَنَا الْعَاقِبُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي’ অর্থ: আমিই শেষ নবি। আমার পর আর কোনো নবি আসবে না। তাহলে তো রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও মিথ্যারোপ করা হলো। এ বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্যও রয়েছে। কুরআন মাজিদ এ বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ও সরল ভাষায় বলে দিয়েছে, যা বোধগম্য করা কারও পক্ষে কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না। আর কুরআন ও হাদিসকে মিথ্যারোপ করার হুকুম হলো, সে কাফির হয়ে যাবে। এ ভিত্তিতে আমরা বস্তুবাদী দার্শনিকদের কাফির বলি। তাহলে রাফেজিদের কেন কাফির বলব না? আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। আমিন।

এরপর আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) ১৯৮ পৃষ্ঠায় বলেনঃ আবু শাকুর সালিমি রহ. তামহিদ গ্রন্থে লেখেন, রাফেজিদের আকিদা হলো, পৃথিবী কখনোই নবিশূণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে, এটি পরিষ্কার কুফরি আকিদা। কারণ, আল্লাহ তাআলা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবি উপাধিতে ভূষিত করেছেন। তাই এখন যে কেউ নবুওয়াতির দাবি করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। আর যদি কেউ সেই ভণ্ড নবিকে সত্যায়নের জন্য কোনো ধরনের মুজিজা প্রত্যাশা করে, সে-ও কাফির। কারণ, তার থেকে মুজিজা সে-ই প্রত্যাশা করতে পারে, যে খতমে নবুওয়াতির আকিদায় সন্দেহ পোষণ করে। [সেই সন্দেহ তা নবুওয়াত অস্বীকারের নামান্তর।] আর রাফেজিদের কাফির হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, তারা এ আকিদা পোষণ করে যে, হজরত আলী রাযি. রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে নবুওয়াতির মধ্যে শরিক ছিলেন। নাউজুবিল্লাহ! এটাও পরিষ্কার কুফর।

পাঠকরা শিয়া কাফেরদের খতমে নবুয়্যুত অস্বীকারের ফিরিস্তি জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন। শিউরে উঠবেন।

(শিয়ারা কি খতমে নবুয়্যতে বিশ্বাস করে??)

এরপর আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) ২০৩ পৃষ্ঠায় বলেনঃ খাফফাজি রহ. বলেন, অনুরূপভাবে প্রত্যেক ওই লোককেও কাফির বলা অকাট্যতাবে আবশ্যক, যে ব্যক্তি তার মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা প্রকাশ করে, যা দ্বারা তার উদ্দেশ্য হয় গোটা মুসলিম উম্মাহকে পথভ্রষ্ট করা এবং সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত করা। এমনকি তার কথা দ্বারা সকল সাহাবা ও সালাফে সালেহিনের কাফির হওয়া আবশ্যক হয়। যেমন : রাফেজিদের মধ্য থেকে কামিলিয়া সম্প্রদায়। তারা রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর গোটা মুসলিম জাতিকে শুধু এ জন্য কাফির বলে যে, তারা হজরত আলী রাযি. কে খলিফা বানায়নি। এমনকি তারা আলী রাযি.-কেও এ ভিত্তিতে কাফির বলে যে,তিনি নিজে কেন খেলাফত গ্রহণের জন্য অগ্রসর হলেন না। আর তারা শুধু এ কারণেই গোটা মুসলিম উম্মাহকে ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট বলে আখ্যা দেয়।

অতঃপর আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) ২৩৭ পৃষ্ঠায় ঐসব লোকদের কাফের বলে সাব্যস্ত করেন যারা বলে, আল্লাহ তাআলা হযরত আলী রাযি.-এর অস্তিত্ত্বের ভিত্তর ঢুকে গেছেন। [উল্লেখ্য, শিয়াদের নুসাইরী ফিরকা এই আকিদায় বিশ্বাসী।সিরিয়ার বাসার আল আসাদ এই নুসাইরী ফিরকার ছিলো]

তথ্যসূত্রঃ

[১] আল ফিকহুল আকবর, আস সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠাঃ৩০৯

[২] আল ফিকহুল আকবর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠাঃ৬৭

[৩] আল আকিদাতুত তাহাবিয়া,২৯

[৪]মাজমুয়াতু রাসায়লি ইবনে আবেদিন, ১/৩৬৭

[৫] শাহ ওয়ালীঊল্লাহ, আল আকিদাতুল হাসানা্হ, অনুবাদঃ আলী হাসান উসামাহ, পৃষ্ঠাঃ৯১

[৬] শরহুল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ, আল কাউসার প্রকাশণি, পৃষ্ঠা-৪১৭

[৭] ইকফারুল মুলহিদীন, আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী,অনুবাদঃ মুফতি নাজমুল হুদা মিরপুরী, পৃষ্ঠাঃ ১৩০,১৮৭-১৮৮,১৯৬-১৯৮,২০৩-২০৪


টিকাঃ

[১] শারহু মুনাওয়াতুল মুসল্লিতে বর্ণিত আছেঃ

“কোনো সন্দেহ ও সংশয়ের কারণে যদি কেউ শায়খাইন তথা হুজরত আবু বকর রাযি. এবং হুজরত উমর রাযি.-এর খেলাফতকে অস্বীকার করে ও নাউজুবিল্লাহ তাদেরকে গালমন্দ করে, তাহলে তাকে কাফির বলা যাবে না। বরং ফাসিক ও বিদআতি বলা হবে। পক্ষান্তরে যে হুজরত আলী রাযি.-কে খোদা মনে করে, যেমনটা হুলুলিয়া ফেরকার আকিদা, তারা বলে, হুজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম হুজরত আলী রাযি.-এর নিকট ওহী না এনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওহী এনে ভুল করেছে [শীয়াদের মধ্যে চরমপন্থীরাও এ ধরনের আকিদা পোষণ করে।] এমন লোকদের অবশ্যই কাফির বলা হবে। কারণ, এ ধরনের আকিদা কোনো সন্দেহ-সংশয় বা কোনো ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল নয়।[সূত্রঃ ইকফারুল মুলহিদীন, আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী,অনুবাদঃ মুফতি নাজমুল হুদা মিরপুরী, পৃষ্ঠাঃ ১৮৭] বরং এটি কুফর ও নোংরামি।”আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) এই বক্তব্যেরই খন্ডণ উপরে করেছেন।

[২] রাফেজী শিয়ারা তাদের ইমামকে নিষ্পাপ মনে করে, তাদের কাছে ওহী আসে বলে বিশ্বাস করে যা মূলত নবী রাসূলদের বৈশিষ্ট্য। এভাবে শিয়ারা রিসালাতকে কলংকিত করেছে। লেখক মূলত এদিকেই ইংগিত করেছেন।



Leave a comment