আবু মাইসারা
বাংলাদেশে শিয়ারা নিজেদের মুসলিম প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।ঠিক কাদিয়ানি কাফেরদের মতো।এই কাফের শিয়ারা সাধারণ মুসলিমদের বলে আমরা মুসলিম।আমাদের নামে মিথ্যা ছড়িয়েছে তোমাদের আলেমরা। আমাদের এক হতে হবে।আমাদের শত্রু আমেরিকা, ইসরাইল। আরও হ্যান ত্যান। সাধারণ মুসলিমরা ওদের এই তাকিয়ায় আটকে পরে যায়।তো তারপর যখন বলা হয়, শিয়ারা তো কুরআন বিকৃতিতে বিশ্বাস করে, এবং শিয়ারা বলে কুরআনের আয়াত ১৭০০০ হাজার।তখন এই শিয়া কাফেররা তাকিয়া করে বলে এগুলা সব মিথ্যা।আমরা কুরআনকে অবিকৃত বলে মানি এবং বর্তমান কুরআনকেই আল্লাহর বাণী বলে মানি।আমাদের নামে সুন্নী আলেমরা বিশেষ করে উমাইয়ারা মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।পারলে আমাদের কিতাব থেকে প্রমাণ দেখাও যে, আমরা বলি কুরআনে ১৭০০০ আয়াত ছিল।
তো এগুলা যখন বলে তখন সাধারণ মুসলিমরা ধোকায় পরে যায়।সে ওদের এই চালাকি ধরতে পারে না।সাধারণ মুসলিমরা তখন ভাবতে থাকে আসলেই শিয়ারা সত্যবাদী আর মুসলিম আলেমরা মিথ্যাবাদী। কারণ শিয়াদের কুফরীতে ভরা কিতাব আমাদের দেশে প্রচলিত নেই।এমনকি অধিকাংশ আলেম ওদের কিতাবের নাম পর্যন্ত জানেনা।
প্রিয় পাঠক,
খোমেনি ইরানের ক্ষমতায় বসার পর ঘোষণা দিয়ে ওদের কুফরীতে ভরা কিতাবাদি আরবী, ইংরেজি, বাংলায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।তারপর ওরা ওদের বই ছাপাতে থাকে যা এতদিন ওরা গোপণ করে রেখেছিলো। প্রকাশ্যে শিয়ারা মুসলিমদের শত্রুতায় লিপ্ত হয়। ইরান তেলের টাকা বিভিন্ন সুন্নী দেশে শিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরিতে ঢালতে থাকে।আপনারা ইরাক, লিবিয়া,লেবানন, বাহরাইন, সিরিয়ার দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন।এইসব দেশে শিয়া কাফেররা গণহারে মুসলিমদের হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে।জ্যান্ত কবর দিয়েছে। আপনারা আরও দেখবেন, রাফেজীদের গডফাদার খোমেনি ক্ষমতায় আসার আগে ওদের অধিকাংশ কিতাবাদীর কোন আরবী, ইংরেজী বা বাংলা অনুবাদ নেই। টুকিটাকি যা পাবেন তা ফারসীতে।আরবীতে, ইংরেজিতে খুবই সামান্য পাবেন।এভাবেই যুগে যুগে ওরা তাকিয়া করে মুসলিমদের সাথে মিশে মুসলিমদের ক্ষতি করেছে। যাই হোক, সাধারণ মুসলিমদের জন্য আমরা ওদের কিতাবাদি থেকেই দেখাবো যে ওরা কুরআন বিকৃতিতে বিশ্বাস করে কিন্তু আপনার কাছে তাকিয়া করে তা স্বীকার করবে না।মুসলিমদের কাছে অনুরোধ এই কুফফার শিয়াদের ফাদে পা দিবেন না। ওরা মুসলিমদের প্রাচীন শত্রু, রিসালাতের শত্রু, কুরআনের শত্রু।
মূল আলেচনা শুরুর পূর্বে আপনাদের জানাতে চাই, শিয়ারা বিভিন্নভাবে কুরআন বিকৃত করে এবং তা প্রচার করে।যেমনঃ
- কোন রাখঢাক ছাড়াই প্রচার করে বেড়ায় যে, বর্তমান কুরআন নাকি বিকৃত কুরআন। কুরআনের বহু আয়াত নাকি নবীজীর(ﷺ) প্রিয় সাহাবীরা গায়েব করে দিয়েছে।কুরআনে নাকি অনেক জায়গায় আহলে বাইতদের নাম ছিলো।সাহাবীরা নাকি সেসব আয়াত মুছে ফেলেছে নাউজুবিল্লাহ।
- কুরআনের অর্থ বিকৃত করে এবং তা প্রচার করে (কাদিয়ানিরাও একই কাজ করে)
- নাসিখ-মানসুখ এর বিষয় যা মুসলিমদের হাদীস-তাফসীরের কিতাবে উল্লেখ আছে তা দিয়ে ওদের কুরআন বিকৃতির পক্ষে বক্তব্য জায়েজ করে।সাধারণ মুসলিমরা যেহেতু নাসিখ-মানসুখ বিষয়ে জানেনা তাই ওরা শিয়া কাফেরদের ফাদে পরে যায়।
- সাত কিরাতের পার্থক্য উল্লেখ করে ওদের কুরআন বিকৃতির পক্ষে বক্তব্য জায়েজ করে।সাধারণ মুসলিমরা যেহেতু কুরআনের সাত কিরাত বিষয়ে জানেনা তাই ওরা ইহুদিপুত্র শিয়াদের ফাদে পরে যায়।
- কুরআনের আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা (তাফসীর) করে তা প্রচার করে ( কাদিয়ানিরাও একই কাজ করে)।পাঠক ওদের কুরআনের বিকৃত ব্যাখ্যার নমুনা দেখতে নিচের দেওয়া লিংকের পোস্টটি পড়ুনঃ
তাফসীরের নামে শিয়াদের কুরআন বিকৃত-পর্ব-১
যাই হোক আমরা ইনশাল্লাহ শিয়াদের কিতাব থেকে প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রমাণ তুলে ধরবো যাতে পাঠকের মনে কেন সন্দেহ না থাকে।যাতে শিয়া কাফেররা সাধারণ মুসলিমদের এই বলে ধোকা দিতে না পারে যে ওদের নামে মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّكۡرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوۡنَ
আমিই জিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই উহার সংরক্ষক।[১]
আল্লাহ বললেন কি আর ইহুদি ইবনে সাবাহর বংশ শিয়ারা কি বলে চলুন দেখিঃ
প্রথমেই শিয়াদের প্রধান হাদীসের কিতাব উসুলে কাফীতে কি লেখা আছে দেখে আসিঃ
عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ: إِنَّ الْقُرْآنَ الَّذِي جَاءَ ب جِبْرَائِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ سَبْعَةَ عَشَرَ أَلْفَ آيَةٍ.
অনুবাদঃ আলী ইবনুল হাকাম, হিশাম ইবন সালিম থেকে, তিনি আবি আবদিল্লাহ (আ) থেকে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই, জিবরাইল (আ) যে কুরআন মুহাম্মদ (তার উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক এবং তার পরিবারের উপরও) এর কাছে নিয়ে এসেছিলেন তাতে সতের হাজার আয়াত ছিলো।[২]
পাঠকের সুবিধার্থে নিচে উসুলে কাফীর স্ক্রীনশট দিয়ে দিয়েছি।
পাঠক,
কুরআনে নাকি সতের হাজার আয়াত ছিলো।নাউজুবিল্লাহ। এই হলো রাফেজী শিয়া কাফেরদের আকিদা।কিন্তু আপনি প্রশ্ন করলে স্বীকার করবে না।
তবে ভয়ংকর বিষয় কি জানেন রাফেজী শিয়া পাদ্রীরা কিন্তু ওদের বানানো এইসব হাদীস যুগে যুগে জোড়শোরে প্রচার করেছে। এই রাফেজি শিয়া পাদ্রী কাফেররা কিন্তু চাইলে অস্বীকার করতে পারতো বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত কিন্তু তা না করে এই শিয়া কাফেররা গর্বকরে প্রচার করেছে যে কুরআন নাকি বিকৃত হয়েছে (নাউযুবিল্লাহ)। চলুন দেখে আসি রাফেজী পাদ্রীরা কি বলে এই হাদীসের ব্যাপারে-
শিয়াদের প্রখ্যাত পাদ্রী বাকের মাজলিসী এই হাদীস এবং কুরআন বিকৃতির ব্যাপারে কি বলে চলুন দেখে আসি। বাকের মাজলিসী কাফী কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরআতুল উকুল কিতাবে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেনঃ
موثق، و في بعض النسخ عن هشام بن سالم موضع هارون بن مسلم، فالخبر صحيح و لا يخفى أن هذا الخبر و كثير من الأخبار الصحيحة صريحة في نقص القرآن و تغييره، و عندي أن الأخبار في هذا الباب متواترة معنى، و طرح جميعها يوجب رفع الاعتماد عن الأخبار رأساً بل ظنى أن الأخبار في هذا الباب لا يقصر عن أخبار الإمامة فكيف يثبتونها بالخبر
অনুবাদঃ হাদীসটি নির্ভরযোগ্য, এবং কিছু বর্ণনায় হিশাম ইবনে সালিমের স্থলে হারুন ইবনে মুসলিমের উল্লেখ রয়েছে। এই হাদীসটি সহীহ এবং এটি গোপন নয় যে, এই হাদীসসহ অনেক সহীহ বর্ণনা কুরআনের অসম্পূর্ণতা ও পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। আমার মতে, এই বিষয়ে খবরগুলো অর্থের দিক থেকে মুতাওয়াতির (বহু সূত্রে বর্ণিত), এবং সবগুলো প্রত্যাখ্যান করলে সাধারণভাবে খবরের উপর আস্থা উঠে যাবে, বরং আমার ধারণা এই বিষয়ে খবরগুলো ইমামতের খবরের চেয়ে কম নয়, তাহলে খবরের মাধ্যমে তারা (রাফেজী শিয়ারা) কীভাবে এটি (ইমামত) প্রমাণ করবে?[৩] ।
পাঠকদের জন্য নিচে মিরআতুল উকুলের স্ক্রীনশট দিয়ে দিয়েছি।
কুখ্যাত শিয়া পাদ্রী তাকী মাজলিসী (বাকের মাজলিসীর পিতা) তার লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রাওদাহ আল মুত্তাকুউন এ বলেনঃ
وروى الكليني في الصحيح ، عن أبي عبدالله عليه السلام أنه قال : ان القرآن الذي جاء به جبرئيل على محمد صلى الله عليه وآله سبعة عشر آلف آية والذي بيننا ستة آلاف وكسر.
অনুবাদঃ সহীহসূত্রে কুলাইনী আবি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই এই কুরআন যা জিবরাইল (আ) মুহাম্মদ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে এসেছিলেন তাতে সতের হাজার আয়াত ছিলো, আর আমাদের কাছে যা আছে তা ছয় হাজারের কিছু বেশী।[৪]
পাঠকদের জন্য নিচে রাওদাহ আল মুত্তাকিইন এর স্ক্রীনশট দিয়ে দিয়েছি।
আরেক কুখ্যাত শিয়া পাদ্রী হুরর আল আমিলী ও এই হাদীসকে সহীহ বলেছে।[৫]
আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট এই কুফরী আকিদা ও পবিত্র কুরআনের উপর মিথ্যা অপবাদ থেকে পানাহ চাই। আর যেসব শিয়া রাফেজী পাদ্রী ইহুদি খ্রিস্টানদের সাথে জোটবেধে পবিত্র কুরআন কারীম বিকৃত হওয়ার দাবি করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ ও শাস্তি বর্ষিত হোক।
[চলবে]
___________________________________________
দলিলঃ
[১]সূরাঃআল হিজর,আয়াতঃ৯
[২] উসুলে কাফী,খন্ডঃ ২,পৃষ্ঠাঃ ৩৫০, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন,হাদীস নাম্বারঃ২৯
[৩] মিরআতুল উকুল, খন্ডঃ ১২, পৃষ্ঠাঃ ৫২৫, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন,হাদীস নাম্বারঃ২৮ এর আলোচনা।
[৪] রাওদাহ আল মুত্তাকিইন, খন্ডঃ১০, পৃষ্ঠাঃ ২০-২১
[৫] আল ফাওয়াইদ আল তুসিইয়া, ৯৬ নাম্বার বিষয়ের আলোচনা, পৃষ্ঠাঃ৪৮৩





Leave a comment