সংকলনঃ আবু মাইসারা
হারব ইবনে ইসমাইল আল কারমানী (মৃত্যুঃ ২৮০ হিজরী) তার বিখ্যাত কিতাব “আস সুন্নাহ”-এ বলেনঃ
ইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ আল-আনসারী আমাদের কাছে আবু উবাইদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন: “আমার কাছে জাহমী কিংবা রাফেজীর পিছনে নামায পড়া, অথবা ইহুদী বা খ্রিস্টানের পিছনে নামায পড়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এবং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর সমস্ত সৃষ্টির উপর আবু বকর (রাঃ)-কে প্রাধান্য দেয় না, তার পিছনে নামায পড়া যাবে না। আর ক্বাদারী, খারিজী এবং মুরজি‘য়ের পিছনে নামায পড়া আমি পছন্দ করি না এবং এটাই আমার অভিমত।
তিনি আরো বলেন, আমি আহমাদ ইবন ইউনুস (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যায়দা (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: “যদি কেউ রাফেজী হয়, তাহলে আমি তার পিছনে নামায পড়ি না।”[১]
আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. তার বিখ্যাত গ্রন্থ “তালবীসে ইবলিস”-এ লিখেনঃ
ইবলিস খারেজিদের ধোঁকায় ফেলে, তারা হযরত আলী রা.-এর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অনুরূপভাব, এর বিপরীতে ইবলিস আরও একটি জাতিকে ধোঁকায় নিমজ্জিত করে। যারা হযরত আলী রা.-কে ভালোবাসার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বাড়াবাড়ি করতে শুরু করে যা সীমার অতিরিক্ত হয়ে দাঁড়ায়। কোনো কোনো রাফেযি আলী রা.-কে বলতে থাকে আল্লাহ। কারও মতে তিনি নবীর চেয়ে উত্তম। শয়তানের প্ররোচনায় কিছু রাফেযি হযরত আলী রা.-কে হযরত আবু বকর রা. ও হযরত ওমর রা.-এর চেয়ে উত্তম বলে তাদের উভয়কে গালাগালি করতে থাকে। তাদের উভয়কে আবার কেউ কেউ কাফের বলে আখ্যায়িত করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। রাফেযিদের মাঝে এমন বেদ্বীন ও অদ্ভুত মিথ্যাচারবিধী বহু শতাব্দী রয়েছে। আমি কতগুলো আর এদের কাছের কথা বলব! আমার উদ্দেশ্য কেবল তাদের ক্ষেত্রে ইবলিসের ধোঁকাবাজিগুলো প্রকাশ করা। সে দৃষ্টিকোণে তার কিঞ্চিৎ উল্লেখ করা যাক।
ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ নখয়ি অখবার বলত, আলীই আল্লাহ। মাদায়েনের ইসহাকিয়া নামক ভ্রান্ত গোষ্ঠীটি তার থেকে আবির্ভূত। খতিব বলেন, আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনে ইয়াহইয়া নাওবখতির একটি কিতাব আমার হস্তগত হয়, যা রাফেযি গোষ্ঠীদের খণ্ডনে লেখা হয়েছে। সেখানে লেখক শিয়া মুতাকাল্লিমদের ইমামিয়া মতবাদের অনুসারী। তিনি অতিরঞ্জনকারী রাফেযিদের বিভিন্ন মতবাদের কথা লিখতে আরম্ভ করেছেন। লেখায় একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, আমাদের যুগে অতিরঞ্জনের গালগল্পটিতে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আহমার মারাত্মক বাড়াবাড়ি করে গেছেন। তার ধারণা—আলীই আল্লাহ। তিনিই সর্বদা প্রকাশমান। অতঃপর একবার তিনি হাসানের সুরতে আসেন, আবার হোসাইনের আকৃতিতে। তিনিই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন। একবার আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, রাফেযিদের একটি গোষ্ঠীর বিশ্বাস হচ্ছে হযরত আবু বকর রা. ও হযরত ওমর রা. কাফের ছিলেন। কেউ কেউ বলেছে, না; বরং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর ইন্তেকালের পর মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হয়ে গিয়েছিলেন। কারো কারো মতে আলী রা. ছাড়া সবাই বিদ্রোহ করেছিলেন। সহিহ সূত্রে আমাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, মিসরারা যায়েদ ইবনে আলীর কাছে আবেদন করল, আপনি তাদের ব্যাপারে বিদ্রোহ করুন যারা হযরত আলী রা. ইমামতের বিরোধিতা করেছিল। নতুবা আমরা আপনাকে ছেড়ে দেবো।যায়েদ ইবনে আলী তাদের এ আবেদন অস্বীকার করলে এ সব শিয়ারা তাঁকে ছেড়ে দেয়। তখন ‘রাফেযি’ নামে তারা পরিচিতি পায়। তাদের একটি দল মনে করে, ইমামত মূসা বিন জাফর পর্যন্ত ছিল। তারপর তার পুত্র আলীতে এসেছে, এরপর তার পুত্র মুহাম্মদ আলীতে এসেছে, পরে তার পুত্র মুহাম্মদের ওপর, এরপর হাসান ইবনে মুহাম্মদ আলআসকারীতে আসে, পরে তার পুত্র মুহাম্মদের ওপর—এই বারোজন ‘মাহদি’। যাদের অপেক্ষা করা হয়েছিল। দলটির ধারণা—এরা মারা যাননি; বরং গোপন রয়েছেন। শেষ যুগে ফিরে আসবেন। তখন পৃথিবী ইনসাফে ভরে যাবে।
আবু মানসুর আলআজলী বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী আলবাকের-এর অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের দাবিমতে, তিনি এমন খলিফা যাকে সরাসরি আকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার মাথার ওপর পরম করুণাময় হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন।
রাফেযিদের একটি দলকে ‘জানাহাই’ সম্প্রদায় বলা হয়। যারা আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মিল জানাহইনের মুরিদ। তাদের অভিমত হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার আত্মা আম্বিয়াদের পিঠে ঘোরাফেরা করত, এভাবে তা উল্লেখিত আবদুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে। এ ব্যক্তির মৃত্যু হয়নি; বরং তিনিই মাহদি—যার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাদের একটি সম্প্রদায়ের নাম ‘গারাবিয়া’। যারা তার ব্যাপারে নবুওয়তের অংশীদার বলে সাব্যস্ত করে থাকে। এদের একটি দলকে বলা হয় ‘মুফাওয়াযা’। যারা বলে, আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদকে সৃষ্টি করে অবশিষ্ট পৃথিবী সৃষ্টি করা তার এখতিয়ারে ছেড়ে দেন। তাদের আরও একটি গোষ্ঠীকে বলা হয় ‘যুমামিয়া’। এরা হযরত জিবরাইল রা. এর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বলে, তিনি আলী রা. এর কাছে অহী পাঠানোর ব্যাপারে নির্দেশিত ছিলেন, অথচ তিনি তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রেরণ করেন। তাদের কেউ কেউ বলে, আবু বকর রা. হযরত ফাতিমা রা.-কে মিরাস না দিয়ে জুলুম করেছেন।
বর্ণিত আছে, সাফাহ আব্বাসি একদিন খুতবা শুরু করলে জনৈক ব্যক্তি— যে নিজেকে আলীর বংশধর বলে মনে করে, সে বলল, হে আমিরুল মুমিনিন! আমার ওপর অন্যায় করা হয়েছে। আমার প্রাপ্য আমাকে ফিরিয়ে দিন। সাফাহ বললেন, তোমার ওপর কে জুলুম করেছে? সে বলল, আমি আলীর বংশধর। আবু বকর ফাতেমা রা.-কে মিরাসের অংশ দেয়নি, সুতরাং আমি মজলুম। অর্থাৎ আমাকে মিরাসের অংশ দেয়া হোক। সাফাহ বললেন, আবু বকরের (রা) পর কে এসেছিলেন? সে বলল, ওমর (রা)। সাফাহ বললেন, তিনিও জুলুম করেছেন? সে বলল, হ্যাঁ। সাফাহ বললেন, তারপর কে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন? সে বলল, উসমান (রা)। সাফাহ বললেন, তিনিও নিয়মমাফিক জুলুমের ওপর ছিলেন? সে বলল, হ্যাঁ। সাফাহ বললে, ওসমানের (রা) পর কে খলিফা হন? বর্ণনাকারী বলেন, এখন তার হুঁশ ফিরে এসেছে। উত্তর না দিয়ে সে এদিক-সেদিক তাকিয়ে পালাবার পন্থা খুঁজতে থাকে।
ইবনে আকিল (রহ) বলেন, এটা স্পষ্ট কথা যে, যে ব্যক্তি রাফেযি মাযহাব উদ্ভাবন করেছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল দীন ইসলামে এবং মূলত নবুওয়তে মুহাম্মদকে অপদস্থ ও কালিমালিপ্ত করে ধ্বংস করে দেয়া। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলেন, তা আমাদের চোখের আড়ালে। আমরা কেবল সালফে সালেহীন অর্থাৎ সাহাবা ও তাবেয়িদের পক্ষ থেকে সে সব কথা পেয়ে থাকি। কেননা তাঁরা খুবই নিখুঁতভাবে নবীর ওপর অর্পিত দীন ও আকিদা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। রাফেযিরা এখানে এসেই বিশ্বাসে চিড় ধরাতে আগ্রাসী প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন ষোলোকলা চালাতে থাকে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর প্রথমে বলতে থাকে তিনি তাঁর বংশে খেলাফতের ব্যাপারে অন্যায় করেছেন এবং নবীকন্যা ফাতেমাকে মিরাস না দিয়ে জুলুম করেছেন। সুতরাং নবুয়্যতের সময় যিনি সঠিক পথে ছিলেন, তাকে নবীর মৃত্যুর পর আর সঠিক পাননি। তাদের ধারণা—নবীর মৃত্যুর পর তাঁর বংশধরদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। সুতরাং তারা এমনভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে যে, নবীর মৃত্যুর পর দ্বীনের সবকিছু সঠিকভাবে জাতি জানতে পারছে না। তাই সাহাবিদের কথার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাদের মূল এজেন্ডা ছিল, যাতে মুসলমানদের আকিদা নষ্ট হয়ে যায়, ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়াশয়ে মানুষ সন্দেহ-সংশয়ে পতিত হয় এবং মুজিযাপূর্ণ বর্ণনাসমূহ থেকে তারা বিমুখ হয়ে পড়ে। চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আর ধোঁকাসর্বস্ব এই সম্প্রদায়ের ফিতনা ইসলামের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনে।
গ্রন্থকার বলেন, রাফেযি সম্প্রদায় হযরত আলী রা. এর সাথে ইদানীং এমন বাড়াবাড়িতে ঠেকেছে যে, তারা তার মর্যাদার বর্ণনা দিতে গিয়ে বহু রেওয়ায়েত নিজেরা তৈরি করে নিয়েছে। তাদের এমন অন্তঃসারশূন্য আচরণে হযরত আলী রা. নিজেই এদের তিরস্কার করেন। আমি ‘কিতাবুল মাউযূয়াত’ গ্রন্থে এ ধরনের অনেক বানোয়াট বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছি। তাদের সে বানোয়াট উক্তিসমূহের কিছু হচ্ছে এমন—’সূর্য ডুবে যাচ্ছে আর হযরত আলী রা. এর আসরের নামায় ছুটে যাবার উপক্রম। এমন সময় পুনরায় সূর্য উদিত হয়।’ এই বর্ণনাটির অবস্থা এতই নাজুক যে, কোনো ‘সেকা’ তথা বিশ্বস্ত রাবি বা বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেননি। অনুরূপভাবে অর্থের দিক দিয়েও কথাটি বাতিল বলে বিবেচিত। কেননা সূর্য ডুবে গেলে তো আসরের সময় শেষ হয়ে যায়। পরে আবার সূর্য দেখা গেলে তখন নতুন সময় তৈরি হবে।
তাদের ভ্রান্ত বর্ণনার আরেকটি হচ্ছে, ‘হযরত সাইয়িদাতুন নিসা ফাতেমা রা. এর নিজে গোসল করা। পরে মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর অসিয়ত করা যে, এই গোসলই যথেষ্ট, পুনরায় আমাকে মৃতের গোসল দেবে না।’ এ বর্ণনাটি উদ্ধৃতিসূত্রেও ডাহা মিথ্যা, যা প্রকাশেই দেখা যাচ্ছে। অর্থগত দিক দিয়েও এটি রাফেযি সম্প্রদায়ের চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক। কেননা মৃত্যু সংঘটিত হলে গোসল ওয়াজিব হয়। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বে গোসলে কী লাভ? এছাড়া তারা এমন অসংখ্য ভুয়া ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বর্ণনা প্রচার করে থাকে, যার না আছে কোনো সনদগত ভিত্তি, না আছে অর্থগত সামঞ্জস্য। ফিকাহর ক্ষেত্রেও এই মাযহাবের অদ্ভুত বিদয়াত পরিলক্ষিত হয়; যা ‘ইজমা’ তথা উম্মতের সর্বসম্মত মতের সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইবনে আকিল রহ. এর পক্ষে উল্লেখিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুরতাযার গ্রন্থ থেকে এটা উদ্ধৃত করছি। রাফেযি ইমামিয়াদের মতে, সরাসরি জমিন ও উদ্ভিদের ক্ষেত্র ছাড়া অন্যত্র শুফআ দেয়া বৈধ নয়। ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা শুধু মলত্যাগের বেলায় বৈধ, পেশাবের ক্ষেত্রে বৈধ নয়। মাথা মাসেহ করা জায়েয নেই। তাদের মতে, যদি কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে ব্যভিচার করে—যার স্বামী রয়েছে, তাহলে এই মহিলা সেই ব্যভিচারকারীর ওপর চিরদিনের জন্য হারাম। তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দিলেও উক্ত ব্যভিচারকারী তাকে বিয়ে করতে পারবে না। এই সম্প্রদায় আহলে কিতাবদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে অবৈধ মনে করে। আরও বলে, কোনো শর্তারোপ করে তালাক দেয়া হলে, সেই শর্ত পতিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তালাক পতিত হবে না। শুধু তা-ই নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ তালাক পতিত হবে না। তাদের মতে, যে ব্যক্তি অর্ধরাত পর্যন্ত এশার নামায না পড়ে ঘুমে পড়ে তার ওপর কাযা ওয়াজিব হবে। নিদ্রা হতে জাগ্রত হলে এই ভুলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সকালে রোযা রাখবে। মহিলারা মাথার চুল কাটলে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। কোনো ব্যক্তি নিজের কন্যা, স্ত্রী বা স্বামীর মৃত্যুর কাপড় ছিঁড়লে তার ওপর কসমের কাফফারা ওয়াজিব হবে। যে ব্যক্তি এমন নারীকে বিয়ে করে যার স্বামী আছে, অথচ সে তা জানে না, এমতাবস্থায় তার ওপর পাঁচ দিরহাম কাফফারা ওয়াজিব হবে। মদ্যপকে দুইবার সাজা দেয়ার পর তৃতীয়বার তাকে হত্যা করা হবে। চুরির শাস্তিস্বরূপ চোরের আঙুলের গোড়া থেকে কর্তন করা হবে এবং কব্জি অবশিষ্ট রাখা হবে। পুনরায় চুরি করলে তার বাঁ পা কাটা হবে। তৃতীয়বার চুরি করলে আজীবন জেলখানায় বন্দি করে রাখা হবে।
রাফেযিরা বাইম মাছ এবং আহলে কিতাবের জবাইকৃত জন্তুকে হারাম মনে করে। জবাই করার সময় তারা কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে আরও বহু ধরনের নিয়ম-কানুনের কথা বলে থাকে—যা বর্ণনা করে আলোচনা দীর্ঘ করা অনর্থক। এগুলো সব উম্মতের সর্বসম্মত ঐক্যমতের বিপরীত। শয়তান তাদেরকে এমনভাবে প্ররোচনা দিয়েছে যে, তারা কোনো প্রকার সনদ ব্যতিরেকে বিশ্বাসবিরোধী এ-সব মতবাদ নির্ধারণ করেছে। রাফেযিদের ভ্রান্ত মতবাদ অসংখ্য। তারা নামায থেকে বঞ্চিত, কেননা তারা অযুর সময় পা ধৌত করে না। এরা জামাত থেকে বঞ্চিত, কারণ তারা নিস্পাপ ইমাম সন্ধান করে। এছাড়া তারা সাহাবাদের গালমন্দ করে থাকে।
অথচ হাদিসে আছে, আবু সা’ঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ، وَلَا نَصِيفَهُ
“তোমরা আমার সাহাবিগণকে গালমন্দ করো না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না।”[সহিহ বুখারীঃ হাদিস নং ৩৬৭৩, সহিহ মুসলিমঃ হাদিস নং ২৫৪০]
অনুরূপ বর্ণিত আছে, হজরত আবদুর রহমান ইবনে সালেম হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللَّهَ اخْتَارَنِي، وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابًا، فَجَعَلَهُمْ لِي وُزَرَاءَ وَأَنْصَارًا وَأَصْهَارًا فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُمْ صَرْفٌ، وَلَا عَدْلٌ
‘আল্লাহ তায়ালা আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। তাদেরকে আমার জন্য উজির, আনসার ও সৈন্য হিসেবে তৈরি করেছেন। যে ব্যক্তি তাদেরকে মন্দ বলবে, তার উপর আল্লাহ তায়ালা, ফেরেশতাগণ ও সমুদয় মানবজাতির অভিসম্পাত। আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তাদের ফরয নফল কোনো প্রকার ইবাদত কবুল করবেন না।'[মুসতাদরাকে হাকিমঃ ৩/৭৩২]
সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ রা. বলেন, আমি কুফায় এমন একটি দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর সম্পর্কে কটুক্তি প্রকাশ করছে। অতঃপর আমি হজরত আলী রা. এর দরবারে গিয়ে তাঁর খেদমতে আরয করলাম, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কিছু সৈন্যের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলাম তারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর ব্যাপারে এমন কথোপকথন করছে, যা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। সম্ভবত তারা আপনাকেও এমন ধারণা লালন করেন বলে মনে করেছে। নতুবা প্রকাশ্যে কী করে এমন ধৃষ্টতা দেখাতে পারে? হজরত আলী রা. বললেন, أعوذ بالله أعوذ بالله “আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” আমি আল্লাহর কাছে এ জন্য পানাহ চাচ্ছি, কারণ আমার অন্তরে তাদের সম্পর্কে কোনো বিরূপ ধারণা নেই; বরং আমি তো তাঁদের প্রতি এমন ভালোবাসা লালন করি, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমার ভালোবাসা রয়েছে। যে ব্যক্তি তাঁদের সম্পর্কে ভালো ও উত্তম ছাড়া মন্দ কোনো বিষয় মনে ঠাঁই দেবে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত। তাঁরা উভয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবি, ভাই এবং উজির ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ওপর অনুগ্রহ করুন।
এর পর তিনি অশ্রুসিক্ত নয়ন নিয়ে ওঠে দাঁড়ালেন। মসজিদে গিয়ে মিম্বরে দাঁড়ালেন এবং সেখানে বসলেন। সে সময় তিনি তাঁর সাদা দাড়ি হাতে নিয়ে (দাড়ির প্রতি) তাকিয়ে রইলেন। এমতাবস্থায় লোকজন এসে তাঁর পাশে জড়ো হলো। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত ও উন্নত ভাষায় আল্লাহ তায়ালার হামদ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সানা পাঠ করে খুতবা দিলেন। অতঃপর বললেন, আমার কাছে অভিযোগ এসেছে, কোনো কোনো গোত্র কুরাইশ মুহাজিরীনদের নেতা এবং মুসলমানদের নেতা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর ব্যাপারে আপত্তিজনক মন্তব্য করছে। এতে আমি ভীষণ মর্মাহত। আপত্তিজনক মন্তব্য ও কুৎসা রটনাকারীদেরকে আমি শাস্তি দেবো। সাবধান হয়ে যাও! শপথ ওই মহান সত্তার—যিনি জমি থেকে শস্য উৎপন্ন করেন এবং মানুষ সৃষ্টি করেন, হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.-কে ওই ব্যক্তি ভালোবাসে যে মুত্তাকি ও পরহেযগার। অন্যদিকে তাঁদের সাথে তারাই শত্রুতা পোষণ করে যারা পাপিষ্ঠ। তাঁরা উভয়ে পরিপূর্ণ সততার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহচর্য লাভ করেছেন। তাঁরা কখনো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মতের বিপরীতে কোনো কর্মকাণ্ড করেননি। এভাবেই তাঁরা শিক্ষের লালন, দুষ্টের দমন করতেন, ক্রোধানিত হতেন এবং শাস্তি প্রদান করতেন। কিন্তু কখনো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রায়ের অতিরিক্ত কিছু করতেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.-কে বেরূপ ভালোবাসতেন, তেমন ভালোবাসা আর কারও প্রতি পোষণ করতেন না। তাঁদের উভয়ের প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট থেকেই তিনি পরকালের সফরে পাড়ি জমিয়েছেন।
এভাবে হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.ও পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যে অবস্থায় সকল বিশ্বাসী মানুষ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে হজরত আবু বকর রা.-কে নামায পড়াতে নির্দেশ দিলে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাবস্থায় নয়দিন মুমিনদের নামায পড়ান। পরে আল্লাহ জাল্লা শানহু তাঁর প্রিয় হাবীবকে উঠিয়ে নিলে, জগদ্বাসীর জন্য তিনি আবু বকর রা.-কে পছন্দ করেন। সে মতে মুমিনরা তাঁকে নিজেদের অভিভাবক ও খলিফায়ে রাসুল মনোনীত করে। তারা আবু বকরের হাতে যাকাতের পণ্য অর্পণ করে খুশিমনে তাঁর হাতে হাত রেখে বায়য়াত গ্রহণ করতে থাকে। এখানে কোনো প্রকার জবরদস্তি ও প্রভাব বিস্তারের চিহ্নও ছিল না। আবদুল মুত্তালিব বংশের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই হজরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর হাতে হাত রেখে বায়য়াত গ্রহণের কার্যক্রম আরম্ভ করি। অর্থাৎ আবু বকর রা. নিজ থেকে খুশিমনে খেলাফত গ্রহণ করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন আমাদের মধ্য থেকে কেউ একজন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করুক।
আবু বকর রা. এমন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সবার চেয়ে উত্তম ও যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতেন। দয়া ও অনুগ্রহের গুণে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সবচেয়ে বয়স্ক ছিলেন তিনি। ঈমান গ্রহণের বেলায় তিনিই ছিলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী। দয়ার্দ্র ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইবরাহিম খলিলুল্লাহর সাথে তুলনা করতেন। হজরত আবু বকর রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতেন। এভাবেই তিনি অতীষ্ট লক্ষ্যপানে পাড়ি জমান। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
এরপর হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. অভিভাবক ও খলিফা মনোনীত হন। আমি এমন ব্যক্তি, যে তাঁর খেলাফতের ব্যাপারে শুরু থেকেই সন্তুষ্ট ছিলাম। তিনিও হজরত রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর অনুপম বন্ধু আবু বকর রা. এর পদাঙ্ক অনুসরণে অটল থাকেন। প্রতিটি বিষয়ে তিনি পূর্বসূরিদ্বয়ের বাতানো ও দেখানো পথে চলতেন, যেভাবে উঁটের ছানা উঁটের পেছনে পেছনে চলতে থাকে। নিঃসন্দেহে আল্লাহর শপথ! হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর এমন শান ছিল যে, তিনি দুর্বল মুমিনদের ওপর ভীষণ দয়া ও অনুগ্রহ রাখতেন এবং অন্যায় ও অত্যাচারীদের ওপর বজ্রকঠিন ছিলেন। আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে কোনো অপরাধকারীর অপবাদকে তিনি ভয় পেতেন না। সর্বদা তিনি হকের ওপর অটল ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে সত্যের আলো বিচ্ছুরিত হতো। মানুষ ভাবত, আল্লাহর ফেরেশতার মুখ থেকে এমন হক কথা বের হচ্ছে। তিনি ইসলামার্থে গ্রহণ করলে আল্লাহ তায়ালা ইসলামের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। মদীনায় তাঁর হিজরতের কারণে দীনের ভিত্ত এত দৃঢ় হয় যে, মদীনার মুনাফিকরা তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং মুমিনের অন্তরে তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা জন্মে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হজরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এর সাথে তুলনা দেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের ওপর ভীষণ কঠোর ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা উভয় সাহাবার ওপর রহম করুন এবং আমাদেরকে তাঁদের দেখানো পথে মানুষের মাঝখানে তথা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার তাওফিক দিন।
এখন বলো এ দু’জনের মতো আর কাউকে কি পাবে? মনে রেখো! যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে নিশ্চয় ওই দুই মহান সাহাবিকে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাঁদেরকে ভালোবাসবে না, সে নিশ্চয় আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং আমিও তার ওপর অসন্তুষ্ট। আমি যদি পূর্বে তোমাদেরকে এই সংবাদ পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে এখন যারা ওই দুই মহান সাহাবি সম্পর্কে কটুক্তি করছে, তাদেরকে শাস্তি দিতাম। এখন সাবধান হও! আগামীতে যদি এমন কোনো সংবাদ আমার কানে আসে এবং প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করব; যা অপরাধকারীদের দেয়া হয়। (অর্থাৎ নির্দোষ ও পবিত্র নারী-পুরুষের ওপর মিথ্যা অপবাদদাতার শাস্তি)। মনে রেখো, এই উম্মতের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হচ্ছেন হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.। তারপর কে উত্তম তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আবু সুলাইমান হামদানি বলেন, হজরত আলী রা. হতে বর্ণিত, শেষ জামানায় এমন লোকদের দেখা যাবে, যারা আমাদের অনুসারী বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ করবে, অথচ মনে কুফরানী পোষণ করবে। তাদেরকে রাফেযা বলা হবে। তারা কখনোই আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের চেনার উপায় হচ্ছে, তারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে। তোমরা তাদেরকে যেখানেই দেখবে হত্যা করবে। কেননা এরা মুশরিক।[২]
শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যা (রহ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ” মিনহাজুস সুন্নাহ” -এ রাফেজী শিয়া সম্পর্কে বলেনঃ
মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে রাফিজিরা। তাদের এই অভ্যাস অনেক পুরনো। তারা আহলে ইলম নয়। ইনশাআল্লাহ, আমরা তাদের লিখিত কিতাব ‘মিনহাজুন নাদামাহ’র পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বীনে অটল-অবিচল থাকার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব। শক্তি ও সামর্থ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই। আলোচ্য কিতাবের লেখক তার পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তাদের গুরুরা হলো, ইবনে নুমান আল-মুফিদ, তার সাঙ্গ-পাঙ্গ যেমন, কারাজিকি, আবুল কাসিম আল মুসাবি, আত-তুসি গং।
রাফিজিরা মূলত আহলে ইলম নয়। তাঁরা গবেষণা, পর্যালোচনা, বিতর্ক ও দলিলাদি সম্পর্কে বিদগ্ধ নয়। তারা দ্বীনি বিধি-নিষেধ সম্পর্কে অজ্ঞ। হাদিসের সানাদ নিরূপণ করা, সহিহ-দ্বইফ নির্ণয় করা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানে না। তারা এগুলো সম্পর্কে একেবারেই গণ্ডমূর্খ। তাদের ভিত্তি হলো কতগুলো সানাদ বিহীন রেওয়ায়েতের উপর, যার অধিকাংশই জাল। মিথ্যুক ও মুলহিদেরা সেগুলো তৈরি করেছে।
তাদের আলিমেরা আবু মুখান্নাফ লুত বিন আলি, হুশাম বিন মুহাম্মাদ বিন সাইবের মত প্রসিদ্ধ মিথ্যুকদের রেওয়াতের উপর নির্ভর করে। আহলে ইলমগণ তাদেরকে মিথ্যুক হিসেব চিহ্নিত করেছেন। শুধু তাই নয় একেবারেই অজ্ঞ, কিতাবে যাদের নামই নাই, আহলে ইলমগণ মোটেও চেনেন না এমন ব্যক্তির বর্ণনা দ্বারাও তারা দলিলগ্রহণ করে।
আহলে ইলমগণ রেওয়ায়েত ও সানাদ দ্বারা প্রমাণ করেছেন, রাফিজিরা সবচেয়ে মিথ্যুক ফিরকা। মিথ্যা বলা তাদের পুরনো অভ্যাস। ইসলামি মনীষীগণ জানতেন বেশি বেশি মিথ্যা বলা তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
আবু হাতিম আর-রাজি বলেন, আমি ইউনুস বিন আব্দুল আ’লাকে বলতে শুনেছি, আশহাব বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহকে রাফিজিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো। তিনি প্রতুত্তরে বলেন, তারা মিথ্যা বলে; তুমি তাদের সঙ্গে কথা বলবে না এবং তাদের থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করবে না।
আবু হাতিম আরো বলেন, আমাদের নিকট হারমালা বলেছেন, ‘আমি ইমাম শাফিঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, রাফিজিদের ছাড়া অন্য কাউকে আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে দেখিনি।
মুআম্মাল বিন আহাব বলেন, আমি ইয়াজিদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি, বিদআতের প্রতি আহ্বান করে না এমন বিদআতিদের নিকট থেকেও আমরা হাদিস লিপিবদ্ধ করি তবে রাফিজিদের ছাড়া। কারণ তারা মিথ্যা বলে।
মুহাম্মাদ বিন সাইদ আল-ইসপাহানি বলেন, আমি শারিককে বলতে শুনেছি, কেবল রাফিজিদের ছাড়া বাকি যার সঙ্গেই সাক্ষাত ঘটেছে তার থেকে ইলম গ্রহণ করেছি। তাদের থেকে গ্রহণ না করার কারণ হলো, আমি হাদিস তৈরি করে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে। এই শারিক হলেন, শারিক বিন আব্দুল্লাহ আল-কাজি। তিনি সুফিয়ান সাওরি ও আবু হানিফা রহিমাহুমাল্লাহর সমযোগী। সে ছিলো শিআ। সে নিজেই স্বীকার করেছে, সে শিআ। অথচ রাফিজিদের ব্যাপারে তার মন্তব্যও এমন ছিলো।
আবু মুআবিয়া বলেন, আমি আ’মাশকে বলতে শুনেছি, আমি, মুগিরা বিন সাইদের অনুসারীদের দেখেছি লোকজন তাদেরকে চরম মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করে। আমি তাদেরকে বিশ্বাস করতে পারি না তারা হয়তো এ-ই ও দাবি করবে যে, আমরা আ’মাশকে এক মহিলার সাথে জিনা করতে দেখেছি। [৩]
তথ্যসূত্রঃ
[১]হারব ইবনে ইসমাইল আল কারমানী, কিতাব আস সুন্নাহ, পৃষ্ঠাঃ১১৫
[২]আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহ),তালবিসে ইবলিস, পৃষ্ঠাঃ১৬৩-১৭২
[৩] ইবনে তায়মিয়্যা, মুখতাসার মিনহাজুস সুন্নাহ,

Leave a comment