মুতা বিবাহ (আরবি: نكاح المتعة, নিকাহুল মুতা’হ) ইসলামি ইতিহাসে একটি বিশেষ ধরনের সাময়িক বা অস্থায়ী বিবাহ, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট অর্থের (মহর) বিনিময়ে একজন নারী ও পুরুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বিবাহের চুক্তি নির্দিষ্ট সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তালাকের প্রয়োজন হয় না।
মূল বৈশিষ্ট্য
- সময়সীমা: চুক্তিতে বিবাহের সময়সীমা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে—এটি কয়েক ঘণ্টা, দিন, মাস বা বছর হতে পারে।
- মহর: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নারীকে নির্দিষ্ট অর্থ বা সম্পদ (মহর) প্রদান করতে হয়।
- তালাকের দরকার নেই: নির্ধারিত সময় শেষে বিবাহ নিজে থেকেই শেষ হয়ে যায়, আলাদাভাবে তালাক দিতে হয় না।
- উত্তরাধিকার: এই বিবাহে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের উত্তরাধিকারী হন না।
- সাক্ষী ও ঘোষণা: রাফেজী শিয়া ফিকহ অনুযায়ী, সাক্ষী বা প্রকাশ্য ঘোষণার প্রয়োজন নেই, তবে মৌখিক চুক্তি আবশ্যক।
ইসলামে অবস্থান
- ইতিহাস: ইসলামপূর্ব আরবে এটি প্রচলিত ছিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও কিছু সময়ের জন্য অনুমোদিত ছিল।
- নিষিদ্ধকরণ: রাসূল মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে সাময়িক সময়ের জন্য অনুমতি দিলেও পরে এটি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সমগ্র মুসলিম উম্মাহের মতে, এটি বর্তমানে নিষিদ্ধ; তবে শিয়া ফেরকার একটি অংশ (বিশেষত দ্বাদশী ইমামী শিয়া) এখনও এটি বৈধ মনে করেন।
মুতআ ও ইসলামি বিবাহের পার্থক্য
| বিষয় | মুতা বিবাহ | ইসলামি বিবাহ (নিকাহ) |
|---|---|---|
| সময়সীমা | নির্দিষ্ট ও সীমিত | স্থায়ী |
| মহর | আবশ্যক | আবশ্যক |
| সাক্ষী | আবশ্যক নয় | আবশ্যক |
| তালাক | দরকার নেই (স্বয়ংক্রিয় শেষ) | প্রয়োজন |
| উত্তরাধিকার | নেই | আছে |
পাঠক চিন্তা করুন কি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ইসলামের বিরুদ্ধে। আজ যদি আপনার ছেলে পতিতালয়ে যেয়ে কোন পতিতাকে বলে আমি তোমাকে ২০০ টাকার বিনিময়ে ১ ঘন্টার জন্য মুতা বিয়ে করলাম। তারপর যা ইচ্ছা করল। রাফেজী মুলহিদদের মতে এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ সে তো মুতা ব্বিয়ে করেছে ১ ঘন্টার জন্য। আর এই বিয়েতে কন সাক্ষীর দরকার নেই, নেই কোন সময়ের সীমাবদ্ধতা। আপনারা অবাক হবেন আজকাল এই মুতা বিয়ের নাম দিয়ে হালাল পতিতালয়ও চালু হয়েছে। দেখুন এই লিংকে।

Leave a comment