এরা হল আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-এর মুক্তদাস কাইসানের অনুসারী। কথিত আছে, কাইসান মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যার শিষ্য ছিলেন। তার অনুসারীরা তার প্রতি সীমালঙ্ঘনকারী বিশ্বাস পোষণ করত। উদাহরণস্বরূপ, তারা দাবি করত যে তার জ্ঞান সকল বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল; তিনি তাঁর দুই শিক্ষকের নিকট থেকে সকল গূঢ় রহস্য, রূপক ব্যাখ্যার ক্ষমতা এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান আহরণ করেছিলেন; তিনি আসমান ও মানুষের আত্মা সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান রাখতেন।
কাইসানিয়াদের মধ্যে প্রচলিত মূল মতবাদটি হলো: “দীন হলো একজন ব্যক্তির আনুগত্য”। তাই তারা সালাত, সাওম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি মৌলিক ইবাদতের ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি [এর আনুগত্য] এর আলোকে করত। তাদের কিছু গোষ্ঠী তো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আনুগত্য লাভ করলে ধর্মীয় বিধানই পরিত্যাগ করত; অন্যদের পুনরুত্থান সম্পর্কে বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছিল; আবার কেউ কেউ দেহান্তরবাদ, অবতারবাদ ও মৃত্যুপরবর্তী পুনরাগমন (পুনর্জন্ম)-এ বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ তাদের আনুগত্য শুধুমাত্র একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল, এ বিশ্বাসে যে তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না, বরং তিনি তার গোপণাবস্থা থেকে ফিরে আসবেন। অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী প্রকৃত ইমামত অন্য এক ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত করেছিল, কিন্তু পরে তারা এই বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। কেউ কেউ আলী (রা.)-এর বংশধর না হয়েও ইমামতের দাবিদার হয়েছিল। মূলত তারা সকলেই বিভ্রান্ত ও নিজেদের মধ্যে বিভক্ত ছিল।
যদি কেউ এই বিশ্বাস পোষণ করে যে ধর্মই হল একজন মানুষের আনুগত্য, আর সে যদি কাউকেই না পায়, তবে তার কোনো ধর্মই থাকে না। আল্লাহ আমাদের এই সকল বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের রব, আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
এই কাইসানিয়ারা পরবর্তীতে নিম্নোক্ত উপদলে বিভক্ত হয়ঃ
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১২৬

Leave a comment