আবু মাইসারা
এই সম্প্রদায়ভুক্ত শিয়াগণ সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের উপরে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বেশী ফজিলত বা মর্যাদা দেন বলে এই নামকরণ করা হয়। কিন্তু ভাই বলে অন্য কোন সাহাবীকে গালি দেয়া বা কাফির বলা কিংবা তাঁদের প্রতি বিশেষ পোষণ করা—কোনটাই এঁদের মধ্যে ছিল না। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন আরবী নাহু বিদ্যার জনক আবুল আসওয়াদ দোয়ায়লো। তাঁর শাগরেদ আবু সাদান ইয়াহইয়া, সামন ইবনে আবু হাফসা (যিনি মুহাম্মদ বিন আলী (রহ) এবং তার ছেলে জাফর (রহ) থেকে) হাদীস বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীকালের বিখ্যাত সূফী সাধক আল্লামা আবদুর রহমান জামী (রহঃ)-এর গ্রন্থাবলীতেও তাফ্বদিলী মতবাদের আভাস পাওয়া যায়। এই তাফ্বদিলী সম্প্রদায়ের প্রকৃত আত্মপ্রকাশ ঘটে মুখলিসীন শিয়াদের দুই বা তিন শতক পরে অর্থাৎ ৩৯ বা ৪০ হিজরীর সনে।
বিশুদ্ধ বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত আলী (রাঃ) তাঁর খিলাফতের সময়েই আভাস পেয়েছিলেন যে, কিছু কিছু লোক তাকে আমিরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ও হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর উপর মর্যাদা দিচ্ছেন। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে,
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাহ. বলেন,
আমি আমার পিতা (হযরত আলী রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ‘আবু বকর (রা.)।’ আমি বললাম, ‘এরপর কে?’ তিনি বললেন, ‘উমার (রা.)।’ এরপর এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলে তিনি হয়তো উসমান (রা.)-এর নাম উচ্চারণ করবেন এই আশঙ্কায় আমি বললাম, এরপর তো আপনি? তিনি বললেন, ‘আমি তো একজন সাধারণ মুসলমান।’[1]
এই হাদীস থেকে কিছুটা আভাস পাওয়া যায় যে, কিছু কিছু লোক হয়তো আলী রা কে আবু বকর সিদ্দিক রা এবং উমর ফারুক রা এর উপর মর্যাদা দিচ্ছেন তাই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাহ. আলী (রা) থেকে প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করেছেন।
যাই হোক আলী রা এ আকীদা পোষণকারীদের একদমই প্রশ্রয় দেননি। আলী (রা) ওইসব লোকদের বিভিন্নভাবে প্রতিহত করেছেন।
আলী রা. বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি (হযরত) আবু বকর (রা.)। আর আবু বকরের (রা.) পর ওমর (রা.)। তৃতীয় ব্যক্তি সম্পর্কেও যদি তোমাদেরকে জানাতে চাইতাম তবে তা-ও জানিয়ে দিতাম।[2]
[1] সহীহ বুখারী ৭/২৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৬২৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩২৬০৮।
[2] মুসনাদে আহমদ ১/১০৬, ১১০; আল মুজামুল আওসাত তবারানী, হাদীস : ৯৯৬, ১৯৮০; আরো দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩২৬১৩, ৩২৬২৬

Leave a comment