আবু মাইসারা
উত্তরঃ রাফেজী শিয়াদের যুক্তি আলী রা নাকি প্রথম খলিফা হওয়ার হকদার ছিলেন আর আবু বকর সিদ্দিক রা নাকি তা দখল করে আলী রা কে খিলাফত থেকে বঞ্চিত করেছেন। কেউ যদি এখন যুক্তি দিয়ে বলে মিরাজের ঘটনা বানোয়াট, মিরাজের ঘটনা জরুথাস্ত্রের আরদা বিরাফের কাহিনী থেকে বানানো হয়েছে তাতে কি মুসলিমদের কি আসে যায়। কেউ যদি যুক্তি দিয়ে বলে কোরআনের মুহাম্মদ (ﷺ) আর হাদীসের মুহাম্মদ (ﷺ) এক নয়, তাতে মুসলিমদের কি আসে যায়? কেউ যদি যুক্তি দিয়ে বলে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়া নবীজীর মুজিজা ছিলোনা, তাতে ইসলাম ও মুসলিমের কি আসে যায়? আল্লাহ যাকে চান হেদায়েত দেন। আবু জাহেল, আবু লাহাব স্বয়ং নবী (ﷺ) কে দেখেও ঈমাণ আনেনি। যাই হোক বাস্তবতা হচ্ছে, কে আমিরুল মুমিনীন আবু বকর সিদ্দিক রা এর খিলাফত মেনে নিলো বা মেনে নিলোনা, কি যুক্তি দিলো তাতে মুসলিমদের কিছু আসে যায় না।কারণ আমিরুল মুমিনীন আবু বকর সিদ্দিক রা কে খলিফা বানিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেনঃ
قُلِ اللّٰہُمَّ مٰلِکَ الۡمُلۡکِ تُؤۡتِی الۡمُلۡکَ مَنۡ تَشَآءُ وَتَنۡزِعُ الۡمُلۡکَ مِمَّنۡ تَشَآءُ ۫ وَتُعِزُّ مَنۡ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنۡ تَشَآءُ ؕ بِیَدِکَ الۡخَیۡرُ ؕ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
“বলুন, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [ আল ইমরানেঃ২৬]
মুসলমানদের মধ্যে কোন কোন লোক সৃষ্টি হয়েছে যেমন রাফেজী শিয়া গোষ্ঠী, যারা নবী করীম (ﷺ)-এর খলীফাগণ অর্থাৎ স্থলাভিষিক্তগণ সম্পর্কে উদ্ভট উদ্ভট আপত্তি উপস্থাপন করেছে। কাউকে অপরাধী ও জালিম এবং কাউকে নিষ্পাপ ও মজলুম সাব্যস্ত করেছে। অথচ খিলাফত সম্পর্কে কোন মানুষের কোন অভিযোগ বা আপত্তি উপস্থাপন করার কোন অধিকার নেই। আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর রাজত্ব ও খিলাফতকে দান করা বা কারো নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়ার কাজটি কেবল নিজের সাথেই সম্পৃক্ত রেখেছেন। বাহ্যিক বা রূপকভাবেও খিলাফত দান বা তা ছিনিয়ে নেয়ার কাজে কোন মানুষের সম্বন্ধযুক্ত করেননি। আর এ কারণেই স্বয়ং নবী করীম (ﷺ)-ও খলীফার নির্বাচন ও নিয়োগ সম্পর্কে কোন নির্দেশ দান করেননি। কুরআনুল করীম বলে দিয়েছে খলীফাকে কি কাজ করতে হবে, কোন কাজ থেকে বিরত ও ভীত থাকতে হবে। কোন সৎকর্ম খিলাফতের উপযুক্ত বানায় তাও বলে দিয়েছে। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর পর কে খলিফা হবেন তা স্পষ্ট করে বলেননি। অথচ, সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত এবং বান্দার হক ও আল্লাহর হকসহ ছোট ছোট বিষয়ও ইসলামী শরীয়াত স্পষ্ট ও প্রমাণসিদ্ধরূপে বর্ণনা করেছেন। নবী করীম (ﷺ)-এর স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ করেননি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর ইচ্ছায় খিলাফত দান করেন এবং তিনি খিলাফতের উপযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর খিলাফত লাভের উপকরণ যুগিয়ে দেন- এর মধ্যে এই গুঢ় রহস্যই নিহিত ছিলো। খিলাফত লাভের কাজ যেহেতু মানবরূপ চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও মাননীয় ফর্দি-কৌশলের ঊর্ধ্বে, তাই মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম খিলাফতের উপযুক্ত কে ছিলেন এবং তারপরে কে ছিলেন, আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং তাঁর কার্য দ্বারা তা বাতলে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে লড়াই-ঝগড়া করা ও প্রশ্ন তোলা একেবারেই অবাঞ্ছনীয় এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার নামান্তর। নবী করীম (ﷺ)-এর পর কার খলীফা হওয়া উচিত ছিল? তার জবাব পরিষ্কার: যিনি খলীফা হয়েছেন, তিনিই। একথা বলা ঠিক নয় যে, যিনি খলীফা হয়েছেন, তিনি খলীফা হওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না। অন্য দৃষ্টিকোণে একথা বলা অনিবার্য পরিণতি ডাকে এই যে, খলীফা স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা বানাননি অর্থাৎ আল্লাহ যাকে খলীফা বানাতে চেয়েছিলেন, তাকে বানাতে পারেননি এবং মাননীয় ফর্দি-কৌশলের কাছে (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা’আলা পরাজিত হয়েছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খিলাফতের বিরুদ্ধে যারা আপত্তি তুলেছেন, তারা ভুল করেছেন। তাদের অবস্থা হচ্ছে সেই ব্যক্তির মতো, যে বিচারকের আদালত থেকে নিজের প্রত্যাশা বিরোধী রায় শুনে করে আদালত থেকে বের হয়ে আসে এবং বাইরে এসে বিচারককে গালাগাল করে। কিন্তু বিচারক তবু বিচারকই থাকেন এবং এই অপরাধী অপরাধীই থাকে। বিচারকের রায় এই অসন্তুষ্ট ব্যক্তির অসন্তোষ মেটাতে পারে না। অনুরূপভাবে আল্লাহ তা’আলা খিলাফত সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন এবং যাকে খলীফা বানাতে চেয়েছেন, তাকেই খলীফা বানিয়েছেন। এখন আল্লাহর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হয়, তবে হোক।

Leave a comment