সাবাইয়া বা তাবাররাইয়া শিয়া কারা?

আবু মাইসারা

গালি শিয়াদের প্রথম দল হলো সাবাইয়া। এরা হলো আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী। সেই আবদুল্লাহ যে আলী (রা)-কে বলেছিলেন, “আনতা আনতা” অর্থাৎ “আপনিই আল্লাহ”। এরপর আলী (রা.) তাকে টেসিফোনে (মাদায়েন) নির্বাসিত করেন। আবদুল্লাহ সম্পর্কে বলা হয় তিনি ছিলেন একজন ইহুদি, যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইহুদি থাকাকালীন তিনি বলতেন যে, মূসা (আ.)-এর ওয়াসী (ওছী/উত্তরাধিকারী) ছিলেন ইয়াশা বিন নূন। পরবর্তীতে তিনি আলী (রা.) সম্পর্কেও একই কথা বলেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম আলী (রা.)-কে ইমাম হিসেবে নিয়োগের দাবি তুলে ধরেন। তার থেকেই সর্বপ্রকার চরমপন্থী দলের উদ্ভব হয়।[১]

আবদুল্লাহ বিশ্বাস করতেন যে আলী (রা.) এখনও জীবিত, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। তার মধ্যে একটি ঐশ্বরিক উপাদান (রূহানিয়্যাত/লাহূত) বিদ্যমান, তাই তার পক্ষে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হওয়া অসম্ভব। তিনিই আলী (রা.), যিনি মেঘমালার মধ্যে আবির্ভূত হবেন; বজ্রধ্বনি হবে তার কণ্ঠস্বর এবং বিদ্যুৎচমক হবে তার হাসি। অবশেষে তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং এটিকে ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণ করবেন, যেমনটি বর্তমানে এটি অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ রয়েছে।[২]

ইবনে সাবা এই মতামতগুলো শুধুমাত্র আলী (রা.)-এর মৃত্যুর পরই প্রকাশ করেছিলেন। তার চারপাশে একদল লোক সমবেত হয়েছিল, যারা ইমামের উপর ‘স্থির থাকা’ (তাওয়াক্কুফ), তার গায়েবী/অন্তর্ধান (গাইবা) এবং প্রত্যাবর্তন (রাজআত) বিশ্বাসকারী প্রথম দল গঠন করেছিল। তারা এও বিশ্বাস করত যে আলী (রা.)-এর পর ঐ ঐশ্বরিক উপাদান (লাহূত) এক ইমাম থেকে পরবর্তী ইমামের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। ইবনে সাবা আরও বলেছিলেন যে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এই সত্যটি জানতেন, যদিও তারা এর অনুযায়ী কাজ করেননি। উদাহরণস্বরূপ, তারা বলে, যখন আলী (রা.) আল্লাহর হারাম শরীফে শাস্তিস্বরূপ এক ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন, এবং এ খবর উমর (রা.)-কে জানানো হলে তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর সেই হাত সম্পর্কে কি বলব , যিনি আল্লাহর হারাম শরীফে একটি চোখ উপড়ে ফেলেছেন?’ এভাবে উমর (রা.) আলী (রা.)-এর জন্য ‘ সৃষ্টিকর্তার সত্তা’র নাম ব্যবহার করেছিলেন, কারণ তিনি তার মধ্যে বিদ্যমান ঐশ্বরিক উপাদান (লাহূত) সম্পর্কে জানতেন।[৩]

এই সম্প্রদায়ভুক্ত শিয়াগণ সালমান ফারসী, আবু যর গিফারী, মিক্বদাদ, আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ)-প্রমুখ সাহাবীগণ ব্যতীত অন্য সব সাহাবীগণকে গালিগালাজ দিয়ে থাকে। এমনকি-তারা উক্ত মুষ্টিকয়েকজন সাহাবী ছাড়া বাকি সব সাহাবীকেই কাফির ও মুনাফিক বলে বিশ্বাস করে এবং গালিগালাজ করে থাকে। তারা বলে বেড়ায় যে, বিদায়ী হজ্জ্ব সমাপন করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনা শরীফে প্রত্যাবর্তনকালে পথিমধ্যে ‘গাদীর খুম’ নামক স্থানে সাহাবায়ে কিরামকে একত্রিত করে হযরত আলী (রাঃ)-এর সম্পর্কে বলেছিলেন- “আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা”। তারা মাওলা শব্দের বিকৃত ব্যাখ্যা করে এই দাবি করে যে, নবী করিম (ﷺ) এই ভাষণের দ্বারা হযরত আলীকেই (রা) তাঁর পরবর্তী খলিফা নিয়োগ করে গেছেন। সুতরাং, পরবর্তীকালে ঐ সময়ে উপস্থিত সাহাবীগণ নবী করিম (ﷺ)  ইনতিকালের পর নাকি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে হযরত আলীকে (রা) খলিফা নির্বাচিত না করে বরং হযরত আবু বকর সিদ্দিকের হাতে বাইয়াত করে সকলেই মুরতাদ কাফির হয়ে গেছে (নাউযুবিল্লাহ)। এই সম্প্রদায়ের উদ্ভব আলী (রা) খিলাফতকালেই। কুখ্যাত ইহুদি মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহের কুমন্ত্রণা এবং উস্কানির ফলে এই কুফরী আকিদার সৃষ্টি হয়। এই ফেরকার লোকেরা আলী (রা) অগোচরে সুযোগ পেলেই আবু বকর সিদ্দিক (রা), উমর ফারুক (রা) এর স্মালোচনা করতো, তাদের গালিগালজ করতো। অথচ আলী (রা) তার শাহাদাতের আগ পর্যন্ত ঐ দুই মহান খলিফাকে সম্মান করতেন, তাদের সামান্য সমালোচনাতো দূরে থাক।

মুসান্নাফে ইবনে শাইবাতে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে,

“সালিম বলেন, নাজরানের অধিবাসীদের সংখ্যা চল্লিশ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। (হযরত) উমার রা. আশঙ্কা করতেন যে, তারা মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতে পারে।  ইতিমধ্যে তাদের নিজেদের মধ্যে     অর্ন্তদ্বন্দ দেখা দিল এবং তারা ওমর রা.-এর নিকটে এসে বলল, আমাদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ দেখা দিয়েছে অতএব আমাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করুন। অথচ তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লিখিত ফরমান ছিল যে, তাদেরকে বহিষ্কার করা যাবে না। (তারা নিজেরাই যখন স্থানান্তরের আবেদন করল তখন) হযরত ওমর রা. এই সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন এবং তাদেরকে স্থানান্তরিত করে দিলেন। ইতিমধ্যে তারা অনুতপ্ত হল এবং পূর্বোক্ত আরজি প্রত্যাহারের আবেদন করল। ওমর রা. তা অস্বীকার করে দিলেন। হযরত আলী রা.-এর (খিলাফতের সময়) তারা তাঁর নিকটে এল এবং বলল, আমরা আপনার নিজ হাতের লেখা ও আপনার নবীর নিকট আপনার সুপারিশের দোহাই দিয়ে বলি, আমাদের ঐ আরজি প্রত্যাহার করুন। হযরত আলী রা. অস্বীকার করলেন এবং বললেন, ‘দূর হও! নিঃসন্দেহে ওমর সুবিবেচক ছিলেন।’

সালিম বলেন, বিজ্ঞজনেরা মনে   করেন, হযরত আলী রা. যদি ওমর রা.কে কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করতেন তাহলে নাজরানবাসীদের বিষয়ে অভিযুক্ত করতেন।”[৪]

এই সাবাইয়া বা তাবাররাইয়া শিয়া ফির্কার ব্যাপারে আল্লামা ইবনুল জাওযী তার কিতাব তালবিসে ইবলিস-এ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন যা আলী (রা) এর খিলাফতেই ঘটেছিলো। পাঠকদের জন্য আমরা সেই ঘটনাটি হুবহু তুলা ধরছিঃ

সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ রা. বলেন, আমি কুফায় এমন একটি দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর সম্পর্কে কটুক্তি প্রকাশ করছিল। অতঃপর আমি হজরত আলী রা. এর দরবারে গিয়ে তাঁর খেদমতে আরয করলাম, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কিছু সৈন্যের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলাম তারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর ব্যাপারে এমন কথোপকথন করছে, যা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। সম্ভবত তারা মনে করেছে আপনিও এমন ধারণা মনে লালন করেন। নতুবা প্রকাশ্যে কী করে এমন ধৃষ্টতা দেখাতে পারে? হজরত আলী রা. বললেন, أعوذ بالله أعوذ بالله “আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” আমি আল্লাহর কাছে এ জন্য পানাহ চাচ্ছি, কারণ আমার অন্তরে তাদের সম্পর্কে কোনো বিরূপ ধারণা নেই; বরং আমি তো তাঁদের প্রতি এমন ভালোবাসা লালন করি, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমার ভালোবাসা রয়েছে। যে ব্যক্তি তাঁদের সম্পর্কে ভালো ও উত্তম ছাড়া মন্দ কোনো বিষয় মনে ঠাঁই দেবে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত। তাঁরা উভয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবি, ভাই এবং উজির ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ওপর অনুগ্রহ করুন।

এর পর তিনি অশ্রুসিক্ত নয়ন নিয়ে ওঠে দাঁড়ালেন। মসজিদে গিয়ে মিম্বরে দাঁড়ালেন এবং সেখানে বসলেন। সে সময় তিনি তাঁর সাদা দাড়ি হাতে নিয়ে (দাড়ির প্রতি) তাকিয়ে রইলেন। এমতাবস্থায় লোকজন এসে তাঁর পাশে জড়ো হলো। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত ও উন্নত ভাষায় আল্লাহ তায়ালার হামদ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সানা পাঠ করে খুতবা দিলেন। অতঃপর বললেন, আমার কাছে অভিযোগ এসেছে, কোনো কোনো গোত্র কুরাইশ মুহাজিরীনদের নেতা এবং মুসলমানদের নেতা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. এর ব্যাপারে আপত্তিজনক মন্তব্য করছে। এতে আমি ভীষণ মর্মাহত। আপত্তিজনক মন্তব্য ও কুৎসা রটনাকারীদেরকে আমি শাস্তি দেবো। সাবধান হয়ে যাও! শপথ ওই মহান সত্তার—যিনি জমি থেকে শস্য উৎপন্ন করেন এবং মানুষ সৃষ্টি করেন, হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.-কে ওই ব্যক্তি ভালোবাসে যে মুত্তাকি ও পরহেযগার। অন্যদিকে তাঁদের সাথে তারাই শত্রুতা পোষণ করে যারা পাপিষ্ঠ। তাঁরা উভয়ে পরিপূর্ণ সততার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহচর্য লাভ করেছেন। তাঁরা কখনো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মতের বিপরীতে কোনো কর্মকাণ্ড করেননি। এভাবেই তাঁরা শিক্ষের লালন, দুষ্টের দমন করতেন, ক্রোধানিত হতেন এবং শাস্তি প্রদান করতেন। কিন্তু কখনো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রায়ের অতিরিক্ত কিছু করতেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.-কে যেরূপ ভালোবাসতেন, তেমন ভালোবাসা আর কারও প্রতি পোষণ করতেন না। তাঁদের উভয়ের প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট থেকেই তিনি পরকালের সফরে পাড়ি জমিয়েছেন।

এভাবে হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.ও পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যে অবস্থায় সকল বিশ্বাসী মানুষ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে হজরত আবু বকর রা.-কে নামায পড়াতে নির্দেশ দিলে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাবস্থায় নয়দিন মুমিনদের নামায পড়ান। পরে আল্লাহ জাল্লা শানহু তাঁর প্রিয় হাবীবকে উঠিয়ে নিলে, জগদ্বাসীর জন্য তিনি আবু বকর রা.-কে পছন্দ করেন। সে মতে মুমিনরা তাঁকে নিজেদের অভিভাবক ও খলিফায়ে রাসুল মনোনীত করে। তারা আবু বকরের হাতে যাকাতের পণ্য অর্পণ করে খুশিমনে তাঁর হাতে হাত রেখে বায়য়াত গ্রহণ করতে থাকে। এখানে কোনো প্রকার জবরদস্তি ও প্রভাব বিস্তারের চিহ্নও ছিল না। আবদুল মুত্তালিব বংশের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই হজরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর হাতে হাত রেখে বায়য়াত গ্রহণের কার্যক্রম আরম্ভ করি। অর্থাৎ আবু বকর রা. নিজ থেকে খুশিমনে খেলাফত গ্রহণ করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন আমাদের মধ্য থেকে কেউ একজন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করুক।

আবু বকর রা. এমন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সবার চেয়ে উত্তম ও যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতেন। দয়া ও অনুগ্রহের গুণে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সবচেয়ে বয়স্ক ছিলেন তিনি। ঈমান গ্রহণের বেলায় তিনিই ছিলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী। দয়ার্দ্র ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইবরাহিম খলিলুল্লাহর সাথে তুলনা করতেন। হজরত আবু বকর রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতেন। এভাবেই তিনি অভীষ্ট লক্ষ্যপানে পাড়ি জমান। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

এরপর হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. অভিভাবক ও খলিফা মনোনীত হন। আমি এমন ব্যক্তি, যে তাঁর খেলাফতের ব্যাপারে শুরু থেকেই সন্তুষ্ট ছিলাম। তিনিও হজরত রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর অনুপম বন্ধু আবু বকর রা. এর পদাঙ্ক অনুসরণে অটল থাকেন। প্রতিটি বিষয়ে তিনি পূর্বসূরিদ্বয়ের বাতানো ও দেখানো পথে চলতেন, যেভাবে উঁটের ছানা উঁটের পেছনে পেছনে চলতে থাকে। নিঃসন্দেহে আল্লাহর শপথ! হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর এমন শান ছিল যে, তিনি দুর্বল মুমিনদের ওপর ভীষণ দয়া ও অনুগ্রহ রাখতেন এবং অন্যায় ও অত্যাচারীদের ওপর বজ্রকঠিন ছিলেন। আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে কোনো অপরাধকারীর অপবাদকে তিনি ভয় পেতেন না। সর্বদা তিনি হকের ওপর অটল ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে সত্যের আলো বিচ্ছুরিত হতো। মানুষ ভাবত, আল্লাহর ফেরেশতার মুখ থেকে এমন হক কথা বের হচ্ছে। তিনি ইসলামা গ্রহণ করলে আল্লাহ তায়ালা ইসলামের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। মদীনায় তাঁর হিজরতের কারণে দীনের ভিত এত দৃঢ় হয় যে, মদীনার মুনাফিকরা তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং মুমিনের অন্তরে তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা জন্মে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হজরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এর সাথে তুলনা দেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের ওপর ভীষণ কঠোর ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা উভয় সাহাবার ওপর রহম করুন এবং আমাদেরকে তাঁদের দেখানো পথে মানুষের মাঝখানে তথা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার তাওফিক দিন।

এখন বলো এ দু’জনের মতো আর কাউকে কি পাবে? মনে রেখো! যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে নিশ্চয় ওই দুই মহান সাহাবিকে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাঁদেরকে ভালোবাসবে না, সে নিশ্চয় আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং আমিও তার ওপর অসন্তুষ্ট। আমি যদি পূর্বে তোমাদেরকে এই সংবাদ পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে এখন যারা ওই দুই মহান সাহাবি সম্পর্কে কটুক্তি করছে, তাদেরকে শাস্তি দিতাম। এখন সাবধান হও! আগামীতে যদি এমন কোনো সংবাদ আমার কানে আসে এবং প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করব; যা অপরাধকারীদের দেয়া হয়। (অর্থাৎ নির্দোষ ও পবিত্র নারী-পুরুষের ওপর মিথ্যা অপবাদদাতার শাস্তি)। মনে রেখো, এই উম্মতের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হচ্ছেন হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা.। তারপর কে উত্তম তা আল্লাহই ভালো জানেন।[৫]

শুধু তাই নয় ভবিষ্যতে এই ধরণের লোকের সংখ্যা যে বৃদ্ধি পাবে এবং তারা যে আলী (রা) কে ভালোবাসার দাবি করে কুফরী করবে সে ব্যাপারেও আলী (রা) সতর্ক করে যান।

আবু সুলাইমান হামদানি বলেন, হজরত আলী রা. হতে বর্ণিত,

শেষ জামানায় এমন লোকদের দেখা যাবে, যারা আমাদের অনুসারী বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ করবে, অথচ মনে কুফরানী পোষণ করবে। তাদেরকে রাফেযা বলা হবে। তারা কখনোই আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের চেনার উপায় হচ্ছে, তারা হজরত আবু বকর রা. ও হজরত ওমর রা. সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে। তোমরা তাদেরকে যেখানেই দেখবে হত্যা করবে। কেননা এরা মুশরিক।[৬]


তথ্যসূত্রঃ

[১]শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৫০

[২]শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৫০

[৩]শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৫০-১৫১

[৪] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৮১৭২, আরো দেখুন : হাদীস : ৩২৬৬৭

[৫] আল্লামা ইবনুল জাওযী , তালবিসে ইবলিস, অনুবাদকঃ মুফতি আবু সাআদ, পৃষ্ঠাঃ ১৬৮-১৭১

[৬] আল্লামা ইবনুল জাওযী , তালবিসে ইবলিস, অনুবাদকঃ মুফতি আবু সাআদ, পৃষ্ঠাঃ ১৭১-১৭২, অনুলীখনঃ আবু মাইসারা



Leave a comment