আবু মাইসারা
এই দলের লোকেরা বিশ্বাস করে যে, ইসমাইল ছিলেন জাফরের পর নিযুক্ত ইমাম, যেমন জাফরের পুত্ররাও একমত ছিলেন। তবে তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ করে যে, তিনি তার পিতার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন কি না। তাদের কেউ কেউ বলে যে, তিনি মারা যাননি; বরং তার পিতা তাকে আব্বাসীয় খলিফাদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছিলেন; এবং তিনি একটি জানাজা সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন যাতে মদিনায় মানসুরের গভর্নরকে সাক্ষী করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কেউ কেউ বলে যে তিনি সত্যিই মারা গিয়েছিলেন। তবে, (ইমাম হিসেবে) নিয়োগ বাতিল করা যায় না এবং এর সুবিধা এই যে ইমামত অন্যদের বাদ দিয়ে নিযুক্ত ব্যক্তির বংশধরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এদের মতে ইসমাইলের পর ইমাম হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল। এই সম্প্রদায়টি মুবারাকিয়া নামে পরিচিত। তাদের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের পর আর অগ্রসর হয় না এবং তার গোপন অবস্থার পর প্রত্যাবর্তনে (রাজা’আত) বিশ্বাস করে। অন্যরা ইমামত তাদের গুপ্ত ইমামদের কাছে এবং পরে প্রকাশ্যে পরিচিত ও কায়েম (উত্থানকারী) ইমামদের কাছে হস্তান্তরিত করে। এরা হল বাতিনিয়া, যাদের মতামত আমরা পরে আলাদাভাবে বিবেচনা করব। তবে, আমরা এখন যে দলটি বিবেচনা করছি, তারা বিশ্বাস করে যে ইমামত ইসমাইল ইবনে জাফর অথবা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের পর সমাপ্ত হয়ে যায়। সর্বাধিক পরিচিত ইসমাইলি সম্প্রদায় হল বাতিনিয়া তালিমিয়া, যাদের জন্য আমরা একটি পৃথক অধ্যায় উৎসর্গ করব।
_________________________________________________________________
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৪৪

Leave a comment