মুসাবিয়া ও মুফাদ্দালিয়া

আবু মাইসারা

মুসাবিয়া ও মুফায্যালিয়া একটি দল গঠন করে। তারা ইমাম মুসা ইবনে জাফরের (আ.) ইমামতে বিশ্বাসী, যিনি সাদিক (রহ) কর্তৃক নামে নামে মনোনীত হয়েছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন, “তোমাদের সপ্তম ইমামই তোমাদের ক্বায়েম।’ (অথবা তিনি বলেছিলেন: তোমাদের মাওলা-ই তোমাদের ক্বায়েম)। তিনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তির নামসাক্ষী যিনি তাওরাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন।”

যখন শিয়ারা সচেতন হল যে সাদিক (রহ)-এর পুত্রদের জীবন বিভিন্ন পথে পরিচালিত হয়েছিল (একজন পিতার জীবদ্দশায় নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন; আরেকজনের মৃত্যু নিয়ে মতভেদ ছিল; একজন পিতার মৃত্যুর অল্প সময় পরেই মারা যান, এবং আরেকজন কোনও সন্তান রেখে যাননি), এবং কেবল মুসাই (রহ) তার পিতার মৃত্যুর পর বিষয়াদির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তখন তারা তার দিকে ফিরল এবং তার সমর্থনে একত্রিত হল। যারা এমন করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন মুফাদ্দাল ইবনে উমর, যুরারা ইবনে আ’য়ুন এবং আম্মার আল-সাবাতি।

মুসাবিয়্যা (মুসা আল-কাযিমের অনুসারীগণ) বর্ণনা করেন যে, জাফর আস-সাদিক তাঁর এক অনুসারীকে বললেন, ‘দিনগুলো গণনা করো।’ অতঃপর সে রবিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত গণনা করল। জাফর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কয়দিন গণনা করলে?’ সে উত্তর দিল, ‘সাত।’ তখন জাফর তাঁর পুত্র মুসা আল-কাযিমের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন:“সব্বাতুস সাব্বাতীন, যামানার সূর্য ও মাসসমূহের আলোকস্বরূপ, যিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও বিলম্ব করেন না – তোমাদের এই ক্বায়েম (উদীয়মান ইমাম) তোমাদের সপ্তম [ইমাম]।” জাফর আরও বলেছিলেন যে, মুসা (আল-কাযিম) ঈসা (আ) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

যখন মুসা (রহ) বিদ্রোহ করে উঠেন এবং নিজের ইমামত ঘোষণা করেন, হারুন আল-রশিদ তাকে মদিনা থেকে ধরে এনে ঈসা ইবনে জা’ফারের গৃহে অন্তরীণ রাখেন। পরবর্তীতে তাকে বাগদাদে পাঠানো হয় যেখানে তাকে সিন্দি ইবনে শাহিকের গৃহে বন্দী রাখা হয়। কথিত আছে যে, তিনি তখনও কারাগারে থাকা অবস্থায়, ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাক তাকে বিষ প্রলেপ দেওয়া খেজুর খাওয়ান এবং এভাবে তার মৃত্যু ঘটে; এরপর তাকে সেই গৃহ থেকে বের করে বাগদাদের কুরাইশ গোরস্থানে দাফন করা হয়।

মুসার (রহ) মৃত্যুর পর শিয়ারা তার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে মতভেদে পড়ে। কেউ কেউ তার মৃত্যু সম্পর্কে অনিশ্চিত ছিল, বলতে থাকে, ‘আমরা জানি না সে মারা গেছে কি না।’ এদেরকে বলা হত ‘মামতুরা’ (বৃষ্টিভেজা কুকুর), এই নামটি তাদের দিয়েছিলেন আলী ইবনে ইসমাঈল, যিনি তাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা তো বৃষ্টিভেজা কুকুর ছাড়া কিছুই নও।’ অন্যদিকে, কিছু লোক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত যে মুসা মারা গেছেন। এদের বলা হত ‘কাতঈয়া’ (মৃত্যু সম্বন্ধে নিশ্চিতকারী দল)। আরেক দল মুসার পরবর্তী কোনো ইমামকে মান্য করত না, তারা ঘোষণা করত যে তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, বরং তার গায়েবী অবস্থার পর আবার ফিরে আসবেন। এদের বলা হত ‘ওয়াকিফা’ (যারা মুসার ইমামতেই থেমে গেল/স্থির থাকল)।

_________________________________________________________________

তথ্যসূত্রঃ

১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৪৪-১৪৫



Leave a comment