আবু মাইসারা
শিয়ারা শূধুমাত্র আলী (রা.)-কে প্রকৃত খলিফা মনে করে এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে খিলাফত জবরদখলকারী মনে করে — এই দাবির পেছনে তাদের শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কোন ভিত্তি নেই। তাদের দাবি নবী (ﷺ) নাকি আলী রা কে নিজ মুখে খলিফা হিসেবে বলে গেছেন। এটা একটা ডাহা মিথ্যা। পৃথিবীর কোন হাদীসে এমন কোন বক্তব্য উল্লেখ নেই। আলী রা থেকেও এমন কোন বক্তব্য নেই। সহীহ বুখারীতে আলী রা থেকে বর্ণিত আছে,
তিনি বলেন, তোমরা আগে হতে যেভাবে ফয়সালা করে আসছ সেভাবেই কর কেননা পারস্পরিক বিবাদ আমি অপছন্দ করি। যেন সকল লোক এক দল ভুক্ত হয়ে থাকে। অথবা আমি এমন অবস্থায় দুনিয়া হতে বিদায় হই যেভাবে আমার সাথীগণ দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছেন। (মুহাম্মদ) ইবনু সীরীন (রহ.) এ ধারণা পোষণ করতেন যে, ‘আলী (রাঃ) এর (১ম খলীফা হওয়া সম্পর্কে) যে সব কথা তার হতে (রাফিযী সম্প্রদায় কর্তৃক) বর্ণিত তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।[১]
বাস্তবতা হচ্ছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কাওকে খলিফা নিযুক্ত করে যাননি তবে তিনি চেয়েছিলেন তার ইন্তেকালের পর যাতে আবু বকর সিদ্দিক রা কে খলিফা বানানো হয়। সহীহ বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে,
“জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল। তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বললেন। স্ত্রীলোকটি বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কী করব? এ কথা দ্বারা স্ত্রীলোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর প্রতি ইশারা করেছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আমাকে না পাও তাহলে আবূ বকরের নিকট আসবে।” [২]
এই হাদীসে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলে গেছেন তার ইন্তেকালের পর যেন আবু বকর রা এর কাছে যায়। এতে মনে হচ্ছে আল্লহর রাসূল (ﷺ) যেন জানতেন তার পরে আবু বকর রা কেই খলিফা বানানো হবে কারণ সাহাবাদের মধ্যে আবু বকর রা ই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আলী রা. বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি (হযরত) আবু বকর (রা.)। আর আবু বকরের (রা.) পর ওমর (রা.)। তৃতীয় ব্যক্তি সম্পর্কেও যদি তোমাদেরকে জানাতে চাইতাম তবে তা-ও জানিয়ে দিতাম।[৩]
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাহাবীগণের পারস্পরিক মর্যাদা নির্ণয় করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবূ বকর (রাঃ)-কে তাঁরপর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে, অতঃপর ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)-কে।[৪]
অন্যত্র আলী রা বলেন,
আলী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে আবু বকর (রা.) ও উমার (রা.) এলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আলী! এ দু’জন হলেন নবীগণের পর জান্নাতের মধ্যবয়সী মানুষের নেতা। তবে তাদেরকে একথা বলো না।[৫]
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জানতেন তার ইনেকালের পর জনগণ আবু বকর রা কে ছাড়া আর কারো খিলাফতে শান্ত হবেনা। আবু বকর রা খলিফা হন ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫৯ বছর। অন্যদিকে, আবু বকর (রা.) খলিফা হওয়ার সময় আলী (রা.)-এর বয়স ছিল প্রায় ৩২-৩৩ বছর। অর্থাৎ, আবু বকর রা ও আলী রা এর মধ্যে সম্পর্ক বাপ-বেটার মতো। পাঠক এবার আপনারাই বিচার করুন, কে খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলো? বাবার বয়সী আবু বকর রা নাকি ছেলের বয়সী আলী রা?! যার সামান্য বুদ্ধি আছে, বোধশক্তি আছে সে বলতে বাধ্য হবে আবু বকর রা এই খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলেন। আর সেটাই হয়েছে। কোন ঘরে যদি বাবা ও ছেলে দুজনেই আল্লাহ ওয়ালা, জ্ঞানী প্রজ্ঞাসম্পন্ন হয় ও ঘরের কর্তা কিন্তু বাবাই হয় ছেলে নয়। ছেলে হয়তো পরামর্শ দেয় কিভাবে আরও ঘরের কল্যাণ করা যায়। খিলাফত কোন যুদ্ধের ময়দান নয় যেখানে একজন কমবয়সী লোককে নেতা বানিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এই ভেবে যে তিনি অল্প বয়স্ক, যুদ্ধে পারদর্শী, টগবগে। খিলাফতের জন্য প্রয়োজন বয়সের অভিজ্ঞতা, দ্বীনের জ্ঞান,প্রজ্ঞা, মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা। আল্লহর রাসূল (ﷺ) এর ইন্তেকালের পর এই সব গুণ একত্রে একমাত্র আবু বকর রা এরই মধ্যে ছিলো। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট রাফেজী শিয়াদের দাবি ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। মুলহিদ শিয়ারা একটা হাদীস প্রচার করে যা তারা গাদীতে খুমের হাদীস বলে প্রচার করে বেড়ায়। সেই হাদীস দিয়ে তারা দাবি করে আল্লহর রাসূল (ﷺ) নাকি আলী রা কে খলিফা নিযুক্ত করে গেছেন। অথচ সেই হাদীসে খিলাফত শব্দের ‘খ’ ও পাবেন না। আসলে শিয়াদের কাজই হচ্ছে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দিয়ে ঈমান নষ্ট করে তাদের মুরতাদ বানানো। যাই হোক আমরা গাদীরে খুমের হাদীস আলাদাভাবে আলোচনা করবো।
_________________________________________________________________
তথ্যসূত্রঃ
[১] সহীহ বুখারী,তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদীসঃ ৩৭০৭
[২] সহীহ বুখারী,তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদীসঃ ৩৬৫৯, ৭২২০, ৭৩৬০
[৩]মুসনাদে আহমদ ১/১০৬, ১১০; আল মুজামুল আওসাত তবারানী, হাদীস : ৯৯৬, ১৯৮০; আরো দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩২৬১৩, ৩২৬২৬ ]
[৪]সহীহ বুখারী,তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদীসঃ ৩৬৫৫, ৩৬৯৭
[৫]মুসনাদে আহমদ ১/৮০

Leave a comment