কামিলিয়া কারা?

আবু মাইসারা

এরা হলো আবু কামিলের অনুসারী। আবু কামিল ঘোষণা করেছিলেন যে, আলী (রা.)-এর প্রতি আনুগত্যের শপথ না করায় সকল সাহাবাই কাফির। একই সময়ে তিনি আলী (রা.)-কেও তিরস্কার করেন তার দাবি জোরালোভাবে না তোলার জন্য এবং তার এই নিষ্ক্রিয়তাকে অক্ষমতা বলে মনে করেন। তিনি বলতেন, আলী (রা.)-এর উচিত ছিল প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে সত্যকে ঘোষণা করা। তবুও আবু কামিল আলী (রা.)-এর পক্ষ সমর্থনে চরম সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

আবু কামিল বলতেন যে, ইমামত হলো একপ্রকার নূর (আলো) যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে প্রবাহিত হয়। এক ব্যক্তির মধ্যে সেই নূর নবুয়্যতে পরিণত হয় এবং অন্যজনের মধ্যে ইমামতে। পুনর্জন্ম (তানাসুখ) প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো ইমামত নবুয়্যতেও রূপান্তরিত হতে পারে। আবু কামিল মৃত্যুর সময় আত্মার স্থানান্তর (তানাসুখ-এ রূহ) এ বিশ্বাসও করতেন। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হলেও ঘালিয়া (চরমপন্থী) সম্প্রদায়গুলো এই আত্মার স্থানান্তর ও অবতারবাদে বিশ্বাসে সাধারণভাবে একমত। প্রকৃতপক্ষে, প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কোনো না কোনো দল এই আত্মার স্থানান্তরবাদ ধারণ করেছে; তারা এটা হয় মাজদাকী মাজুসী, ভারতীয় ব্রাহ্মণ, দার্শনিক অথবা সাবেঈদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে।

কামিলিয়ারা বিশ্বাস করত যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, তিনি প্রতিটি জবানের মাধ্যমে কথা বলেন এবং তিনি প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করেন। এটি ঘটে অবতারবাদের (হুলূল) মাধ্যমে। তাদের মতে, অবতারবাদ আংশিক বা সম্পূর্ণ উভয় প্রকার হতে পারে। আংশিক অবতারণ হল সূর্য যেমন একটি কুলুঙ্গি বা স্ফটিকের টুকরোয় প্রতিফলিত হয় তার মতো। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ অবতারণ হল ফেরেশতার মানুষের রূপে কিংবা শয়তানের পশুর রূপে আবির্ভাবের মতো।

তানাসুখ (আত্মার স্থানান্তর) চার প্রকার, যথা: নাসখ (naskh), মাসখ (maskh), ফাসখ (faskh)  রাসখ (raskh)। এগুলো সম্পর্কে আমরা মাজুসীদের আলোচনার সময় (জরথুস্ত্রীয়) বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেব। তানাসুখের সর্বোচ্চ স্তর হলো ফেরেশতা ও নবীদের স্তর, আর সর্বনিম্ন স্তর হলো শয়তান ও জিনদের স্তর। আবু কামিল বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে সাধারণ অর্থে তানাসুখে বিশ্বাস করতেন।


তথ্যসূত্রঃ

[১] শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৫০-১৫১



Leave a comment