সংকলনঃ আবু মাইসারা
হাদীস-১ঃ
دَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الأَعْمَشِ قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِيْ فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيْفَهُ تَابَعَهُ جَرِيْرٌ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ وَأَبُوْ مُعَاوِيَةَ وَمُحَاضِرٌ عَنْ الأَعْمَشِ
অনুবাদঃ আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণের সমালোচনা কর না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না।
জারীর ‘আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মু‘আবিয়াহ ও মুহাযির (রহ.) আ‘মাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।[১]
হাদীস-২ঃ
– حدثنا علي بن حمشاد العدل، ثنا بشر بن موسى، ثنا الحميدي، ثنا محمد بن طلحة التيمي، حدثني عبد الرحمن بن سالم بن عتبة بن عويم بن ساعدة، عن أبيه، عن جده، عن عويم بن ساعدة رضي الله عنه أن رسول الله ﷺ قال:«إن الله تبارك وتعالى اختارني واختار بي أصحاباً فجعل لي منهم وزراء وأنصاراً وأصهاراً فمن سبهم فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين لا يقبل منه يوم القيامة صرف ولا عدل
هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه
অনুবাদঃ হযরত আবদুর রহমান ইবনে সালেম হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। তাদেরকে আমার জন্য উজির, আনসার ও সৈন্য হিসেবে তৈরী করেছেন। যে ব্যক্তি তাদেরকে মন্দ বলবে, তার উপর আল্লাহ তায়ালা, ফেরেশতাগণ ও সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ। আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তাদের ফরয নফল কোনো প্রকার ইবাদত কবুল করবেন না।’
[ইমাম হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন] হাদীসটির সনদ সহীহ কিন্তু তারা এটা বর্ণনা করেননি।[২]
ইমাম যাহাবী তালখীসে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনুল জাওজী ও হাদীসটিকে সহীহ ভেবেই তার তালবীসে ইবলিস কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস-৩ঃ
حدثنا عبد الله قال حدثني أبي، قثنا وكيع، قثنا الأعمش، عن أبي صالح، عن أبي سعيد، قال: قال النبي ﷺ:لا تسبوا أصحابي فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهباً ما أدرك مُدَّ أحدهم ولا نصيفه
অনুবাদঃ আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “আমার সাহাবীদের সমালোচনা করো না। সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তবুও সে তাদের একজন সাহাবীর এক মুদ্দ (এক মুষ্টি পরিমাণ সদকা) বা অর্ধেকেরও সমান সওয়াব অর্জন করতে পারবে না।”
সনদ সহীহ [৩]
হাদীস-৪ঃ
حدثنا عبد الله قال حدثني أبي، قثنا أبو معاوية عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ:لا تسبوا أصحابي فإن أحدكم لو أنفق مثل أحد ذهباً ما أدرك مد أحدهم ولا نصيفه
অনুবাদঃ আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের সমালোচনা করো না।। কেননা তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড়ের সমান স্বর্ণও (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তবুও তাদের একজনের এক মুদ্দ (পরিমাণ সদকা) কিংবা তার অর্ধেকেরও সমান সওয়াব পাবে না।
সনদ সহীহ [৪]
হাদীস-৫ঃ
:حدثنا عبد الله قال حدثني أبي قثنا وكيع وأبو معاوية قالا نا هشام يعني ابن عروة عن أبيه عن عائشة
.أمروا بالاستغفار لأصحاب محمد فسبوهم
وقال أبو معاوية في حديثه يا ابن أختي أمروا أن يستغفروا لأصحاب محمد فسبوهم
অনুবাদঃ আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত, লোকদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের (সাহাবীদের) দোষত্রুটি অনুসন্ধান করতে লাগল।
আবু মু‘আবিয়া (রহ.) তাঁর বর্ণনায় এভাবে বলেছেনঃ
হে আমার ভাতিজা! লোকদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের (দোষ) খুঁজতে লাগল।
সনদ সহীহ [৫]
হাদীস-৬ঃ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ “ لاَ يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ ”
অনুবাদঃ জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা গাছের নীচে বাই’আত করেছে তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
নাসিরউদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[৬]
হাদীস-৭ঃ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مُوسَى ” فَلَعَلَّ اللَّهَ ” . وَقَالَ ابْنُ سِنَانٍ ” اطَّلَعَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ ” .
অনুবাদঃ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বর্ণনাকারী মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ ’’আশা করা যায়, মহান আল্লাহ’’ এবং বর্ণনাকারী ইবনু সিনান (রহঃ) এর বর্ণনা রয়েছেঃ “আল্লাহ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে অবহিত করে বলেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল করো, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”
নাসিরউদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।[৭]
হাদীস-৮ঃ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ح، وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَذَكَرَ الثَّالِثَ أَمْ لَا، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ، وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَنْذِرُونَ، وَلَا يُوفُونَ، وَيَخُونُونَ، وَلَا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَفْشُو فِيهِمُ السِّمَنُ
صحيح
অনুবাদঃ ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর যারা তাদের সঙ্গে সংলগ্ন, আল্লাহই ভালো জানেন যে, তিনি তৃতীয় স্তরটি উল্লেখ করেছেন কি না। তারপর এমন সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা সাক্ষী হিসেবে তাদেরকে না ডাকা হলেও সাক্ষ্য দিবে। তার মান্নাত করে তা পূর্ণ করবে না, তারা আত্মসাৎ করবে এবং আমানতদার হবে না। আর তাদের মধ্যে মেদ-ভূঁড়ি প্রকাশ পাবে।
নাসিরউদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[৮]
তথ্যসূত্রঃ
[১] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬৭৩, সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ২৫৪০
[২] মুসতাদরাকে হাকিম, দারুল কুতুব ইলমিয়া,ভলিঃ ৩,পৃষ্ঠাঃ ৭৩২, হাদীসঃ ৬৬৫৬,
[৩] ইমাম আহমদ, ফাজায়েলুস সাহাবা, পৃষ্ঠা-৫০ হাদীস নং- ৫
[৪] ইমাম আহমদ, ফাজায়েলুস সাহাবা, পৃষ্ঠা-৫০ হাদীস নং- ৬
[৫] ইমাম আহমদ, ফাজায়েলুস সাহাবা, পৃষ্ঠা-৫৭ হাদীস নং- ১৪
[৬] আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৫২, আলবানী একাডেমী
[৭] আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৫৩, আলবানী একাডেমী
[৮] আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৫৭, আলবানী একাডেমী

Leave a comment