আল মানারুল মুনীফ, ইবনুল কায়্যুম (রহ)
অনুবাদঃ আবু মাইসারা
শায়খুল ইসলাম ইবনুল কায়্যুম (রহ) তার বিখ্যাত কিতাব মানারুল মুনীফ-এ মাহদী নিয়ে তার সময়কাল পর্যন্ত যতগুলো মত, কল্পকাহিনী রয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। মাহদী রহ এর ব্যাপারে চতুর্থ মত হিসেবে তিনি রাফেজীদের কল্পকাহিনী উল্লেখ করে বলেনঃ
আর মাহদীর ক্ষেত্রে ইমামিয়া রাফেযী সম্প্রদায়ের মত (তাদের আকিদা) হলোঃ
মাহদী হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী।[ক] তিনি হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর বংশধর, হাসান (রা.)-এর বংশধর নন। তিনি নগর-বন্দরে উপস্থিত থাকলেও জনদৃষ্টির অন্তরালে (গায়েব)। তিনিই নবুওয়াতের প্রতীকী যষ্টির উত্তরাধিকারী হবেন এবং শেষ যুগে আবির্ভূত হবেন। তিনি শৈশবেই (২৬০ হিজরিতে) সামারার একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে (সারদাব) প্রবেশ করেন। পাঁচ শতাধিক বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো চিহ্ন বা সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র একটি ধারণা (আশা) ছাড়া। তার অনুসারীরা প্রতিদিন তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকে। তারা সারদাবের দরজায় ঘোড়াসহ প্রহরায় দাঁড়ায় এবং চিৎকার করে:
“হে আমাদের মাওলা! বেরিয়ে আসুন, হে আমাদের মাওলা! বেরিয়ে আসুন!”
অবশেষে তারা নিরাশ ও হতাশ হয়ে ফিরে যায়। এটাই তাদের নিত্যকর্ম। নিশ্চয়ই যিনি বলেছেন, তিনি ঠিকই বলেছেন:
“তোমাদের অজ্ঞতায় যাঁকে মাহদী বলে ভাবো, সেই ব্যক্তিকে কি সে ভূগর্ভস্থ কক্ষ প্রসব করবে?
নিশ্চয় তোমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা উর্ধ্বে উঠেছে!
তোমরা তো ফিনিক্স পাখি ও কাল্পনিক দানবকেও বাস্তব বলে ধরে নিয়েছ!”
নিঃসন্দেহে এরা (মাহদীর এমন ধারণা পোষণকারীরা) সমগ্র মানবজাতির জন্য কলঙ্ক এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমানের উপহাসের পাত্র।
[ক] মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী হলেন আলী আল-হাদীর পুত্র। তিনি ইমামিয়া শিয়াদের মতে ১২ ইমামের শেষ ইমাম। তিনি তাদের নিকট ‘মাহদী’, ‘সাহিবুজ জামান’ (যুগের কর্তা), ‘মুনতাজার’ (প্রত্যাশিত), ‘হুজ্জাত’ (প্রমাণ) এবং ‘সাহিবুস সারদাব’ (ভূগর্ভস্থ কক্ষের অধিবাসী) নামে পরিচিত। তিনি ২৫৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স মাত্র পাঁচ বছর। শিয়ারা দাবি করে যে তিনি ২৬৫ হিজরিতে (৯ বছর বয়সে) তাঁর পিতার বাড়ির ভূগর্ভস্থ কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, তাঁর পিতা হাসানের কোনো সন্তানাদি ছিল না। সূত্র: ‘ওয়াফাইয়াতুল আ’ইয়ান’ (৪/১৭৬), ‘আল-আ’লাম’ (৬/৮০)
তথ্যসূত্রঃ
[১] ইবনুল কায়্যুম, মানারুল মুনীফ, পৃষ্ঠাঃ ১৫৩, প্রকাশকঃ দ্বার আলাম আল ফাওয়ায়েদ

Leave a comment