মাতম করা হারামঃ শিয়াদের কিতাবের দলিল

আবু মাইসারা

রাফেজী শিয়ারা আশুরা আসলেই মাতম করা শুরু করে অথচ মাতম ইসলামে হারাম। আমরা পাঠকদের জন্য শিয়াদের কিতাব থেকেই প্রমাণ দিচ্ছি। আশা করি শিয়ারা ইসলামের সঠিক পথে ফিরে আসবে।

দলিল-১ঃ

সর্বপ্রথম আমরা শিয়াদের বিখ্যাত গ্রন্থ কাফী থেকে দলিল দিব যে রাসুল (সা) কি মাতম করতেন নাকি মাতম করতে নিষেধ করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই কাফী কিতাব শিয়াদের কাছে সহীহ বুখারীর সমতুল্য। চলুন শিয়াদের কিতাব থেকে দেখে আসি রাসূল সা কি বলেছেন মাতম করার ব্যাপারে-

عنه، عن إسماعيل بن بهران، عن عمرو بن شمر، عن جابر، عن أبي جعفر عليه السلام قال: لما توفي طاهر ابن رسول الله صلى الله عليه وآله نهى رسول الله خديجة عن البكاء، فقالت: بلى يا رسول الله ولكن درت عليه الدموع فبكيت، فقال: أما ترضين أن تجديه قائما على باب الجنة، فإذا رأك أخذ بيدك فأدخلك الجنة أظهرها مكانا وأطيبها، قالت: وإن ذلك كذلك؟ قال: الله أعز وأكرم من أن يسلب عبدا ثمرة فؤاده فيصبر ويحتسب ويحمد الله عز وجل ثم يعذبه

অনুবাদঃ

আবু জাফর (আ.) থেকে বর্ণিত: যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র তাহের (রা) ইন্তেকাল করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) খাদিজা (রা.)-কে কাঁদতে নিষেধ করেন। তখন খাদিজা (রা.) বললেন: “ঠিক আছে হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু আমার চোখে অশ্রু চলে এসেছে, তাই আমি কেঁদেছি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তাকে জান্নাতের দরজার সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় পাবে? যখন সে তোমাকে দেখবে, তখন তোমার হাত ধরে তোমাকে জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু ও পবিত্র স্থানে প্রবেশ করাবে।” খাদিজা (রা.) বললেন: “এটা কি সত্যি?” রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “আল্লাহ এতটাই মহান ও সম্মানিত যে, তিনি যখন কোনো বান্দার হৃদয়ের ফল (সন্তান) কেড়ে নেন, আর সে ধৈর্য ধারণ করে, সওয়াবের আশায় থাকে ও আল্লাহর প্রশংসা করে—এরপরও আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন, এটা হতে পারে না।”[১]

পাঠক এই রাফেজী শিয়ারা কি রাসূল (সা) এর চাইতেও বেশী ঈমানদার?! (নাউজুবিল্লাহ)।স্বয়ং রাসূল (সা) মাতম করতে নিষেধ করছে আর এই মাজুস শিয়ারা আহলে বাইতের ভালোবাসার নাম দিয়ে মাতম করে ইসলামকে আজ হাসির পাত্র বানিয়েছে।

দলিল-২ঃ

এবার চলুন দেখে আসি হোসাইন রা এর আদেষ যেখানে তিনি মাতম করতে নিষেধ করে গিয়েছিলেন তাও তার শাহাদাতের আগে। শিয়াদের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাব আল ইরশাদ’-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, হোসাইন রা এর শাহাদাতের আগে মাতম কুরতে নিষেধ করে গেছেন। পাঠকদের জন্য আমরা তা এখানে উল্লাখ করছি।

فَقَامَ إِلَيْهَا الحُسَيْنُ عليهِ السَّلامُ فَصَبَّ على وَجْهِهَا المَاء، وَقَالَ لَهَا: يا أُخْتَاهُ! اتَّقِي الله وَتَعَزَّي بِعَزَاءِ اللهِ، وَاعْلَمِي أَنَّ أَهْلَ الأَرْضِ يَمُوتُونَ وَأَهْلَ السَّمَاءِ لا يَبْقَوْنَ، وَأَنَّ كُلَّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَ اللهِ الَّذِي خَلَقَ الخَلْقَ بِقُدْرَتِهِ، وَيَبْعَثُ الخَلْقَ وَيَعُودُونَ، وَهُوَ فَرْدٌ وَحْدَهُ. أَبِي خَيْرٌ مِنِّي، وَأُمِّي خَيْرٌ مِنِّي، وَأَخِي خَيْرٌ مِنِّي، وَلِي وَلِكُلِّ مُسْلِمٍ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ أُسْوَةٌ. فَعَزَّاهَا بِهَذَا وَنَحْوِهِ وَقَالَ لَهَا: يا أُخْتَهُ! إِنِّي أُقْسِمْتِ فَبَرِي قَسَمِي، لا تَشْقَي عَلَيَّ جَيْباً، وَلا تَخْمِشِي عَلَي وَجْهاً، وَلا تَدْعِي عَلَي بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ إِذَا أَنَا هَلَكْتُ. ثُمَّ جَاءَ بِهَا حَتَّى أَجْلَسَهَا عِندِي

অনুবাদঃ

ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) উঠে দাঁড়ালেন এবং তার মুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন এবং তাকে বললেন: “হে আমার প্রিয়! আল্লাহকে ভয় কর এবং আল্লাহর ফয়সালায় সান্ত্বনা নাও, এবং জেনে রাখ যে পৃথিবীর মানুষেরা মরবে এবং আসমানের অধিবাসীরাও থাকবে না, এবং আল্লাহর চেহারা ছাড়া সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে – তিনি যিনি তাঁর শক্তি দিয়ে সৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন, এবং সৃষ্টিকে পুনরুত্থিত করবেন এবং তাঁর কাছেই একাকী ফিরে যাবেন। তিনি সবার চেয়ে উত্তম, এবং আমার পিতা আমার চেয়ে উত্তম, এবং আমার মা আমার চেয়ে উত্তম, এবং আমার ভাই আমার চেয়ে উত্তম। এবং প্রতিটি মুসলমানের জন্য আল্লাহর রাসূল – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – একটি উত্তম আদর্শ রয়েছে।”

তারপর তিনি আস্তে করে তার হাত সরিয়ে দিলেন এবং তাকে বললেন: “হে আমার প্রিয়! আমার উপর তোমার অধিকারের শপথ দিয়ে বলছি, আমার জন্য কোন কাপড় ছিঁড়ো না, এবং তোমার মুখে আঘাত করো না, এবং আমি নিহত হলে হায় হায় করে বিলাপ করো না।” তারপর তিনি তাকে নিয়ে এলেন এবং আমার কাছে বসালেন। [১]

নিচে স্ক্রীনশট দিয়ে দিচ্ছি

দলিল-৩ঃ

পাঠক, এখন আমরা যে দলিল দিব তাতে আপনারা দেখবেন স্বয়ং শিয়াদের পঞ্চম ইমাম আবু আব্দিল্লাহ জাফর (রহ) তার ছেলের ইন্তেকালের পর স্থির ছিলেন (মাতম করেননি), তার চিন্তা দূর হয়েছিলো।শুধু তাই নয় আহলে বাইতের মৃত্যুর পর আল্লাহর বিচারে সন্তুষ্ট থেকে স্থির হয়ে থাকাই (মাতম না করা) যে আহলে বাইতের ব্যবহার তাও বলেছেন। চলুন দেখে আসি সেই হাদীস যা কাফী কিতাদে রয়েছে।শিয়াদের নিকট এই কিতাব সহীহ বুখারীর সমতুল্য।

 الحسين بن محمد، عن عبد الله بن عامر، عن علي بن مهزيار، عن الحسن بن محمد بن مهزيار، عن قتيبة الأعشى قال: أتيت أبا عبد الله عليه السلام أعوده ابنًا له فوجدته على الباب فإذا هو مهموم حزين، فقلت: جعلت فداك كيف الصبي؟ فقال: والله إنه لما به، ثم دخل فمكث ساعة ثم خرج إلينا وقد أسفر وجهه وذهب التغير والحزن، فقلت: كيف الصبي جعلت فداك؟ فقال: قد مضى لسبيله، فقلت: جعلت فداك لقد كنت مهمومًا حزينًا وقد رأيت حالك قبل الساعة وقد مات غير ذلك الحال فكيف هذا؟ فقال: إنا أهل البيت إنما نجزع قبل المصيبة فإذا وقع أمر الله رضينا بقضائه وسلمنا لأمره

অনুবাদঃ

কুতাইবা আল-আ’শা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আবু আবদুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে তাঁর এক পুত্রের অসুস্থতার খোঁজ নিতে গেলাম। আমি তাঁকে দরজায় পেলাম এবং তিনি চিন্তিত ও দুঃখিত ছিলেন। তখন আমি বললাম: “আমি আপনার জন্য কুরবান হই, ছেলেটির অবস্থা কেমন?” তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম, সে গুরুতর অসুস্থ।” এরপর তিনি ভিতরে গেলেন এবং কিছুক্ষণ থাকলেন, তারপর আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন। তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়েছিল এবং চিন্তা ও দুঃখ দূর হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি বললাম: “আমি আপনার জন্য কুরবান হই, ছেলেটির অবস্থা কেমন?” তিনি বললেন: “সে তার নিয়তির পথে চলে গেছে [অর্থাৎ, ইন্তেকাল করেছে]।” তখন আমি বললাম: “আমি আপনার জন্য কুরবান হই, আমি যখন এসেছিলাম তখন আপনি চিন্তিত ও দুঃখিত ছিলেন, এবং আমি সেই মুহূর্তে আপনার অবস্থা দেখেছিলাম – চিন্তিত ও শোকাহত। এখন সে মারা গেছে, অথচ আমি আপনাকে সেই মুহূর্তের চেয়ে ভিন্ন অবস্থায় দেখছি। এটা কীভাবে হলো?” তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমরা আহলে বাইত, আমরা মুসিবত আসার আগেই দুঃখ করি, কিন্তু যখন আল্লাহর ফয়সালা এসে যায়, তখন আমরা তাঁর বিচারে সন্তুষ্ট হই এবং তাঁর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করি।”[২]

পাঠক আপনারাই বলুন, এই রাফেজী শিয়ারা কি তাদের ইমামদের কথা মানে?! শিয়াদের পঞ্চম ইমামের সন্তানকে কে বেশী ভালোবাসে? ঐ সন্তানের পিতা নাকি আজকের যুগে আহলে বাইতের ভালোবাসার নামধারী রাফেজী শিয়ারা?! এই রাফেজীদের কারণে ইসলাম আজ অমুসলিমদের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে।

যাই হোক এই হাদীসের স্ক্রীনশট নিচে দিয়ে দিচ্ছি


তথ্যসূত্রঃ

[১]ফুরু-এ কাফী, ভলিঃ৩, কিতাবুল জানায়িয, অধ্যায়ঃ ১৫১, হাদীসঃ৮

[২] কিতাব আল ইরশাদ, ভলিয়্যুমঃ২, পৃষ্ঠাঃ ৯৪

[৩] ফুরু-এ কাফী, ভলিঃ৩, কিতাবুল জানায়িয, অধ্যায়ঃ ১৫৩, হাদীসঃ১১



Leave a comment