রাসূল (ﷺ) এর প্রিয় সাহাবীদের উপর শিয়াদের জঘন্য অপবাদ

আবু মাইসারা

রাফেজী শিয়ারা সীমা লংঘণ করতে করতে কোন পর্যায়ে গেছে তা মুসলিমরা চিন্তাও করতে পারবেন না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাহাবীদের ব্যাপারে হাদীসশাস্ত্রে আমাদের সতর্ক করে বলে গেলেন,

‘আল্লাহ তায়ালা আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। তাদেরকে আমার জন্য উজির, আনসার ও সৈন্য হিসেবে তৈরী করেছেন। যে ব্যক্তি তাদেরকে মন্দ বলবে, তার উপর আল্লাহ তায়ালা, ফেরেশতাগণ ও সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ। আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তাদের ফরয নফল কোনো প্রকার ইবাদত কবুল করবেন না।’[১]

এবার চলুন দেখে আসি রাফেজী শিয়া জাজক কুলাইনী তার কাফী কিতাবে কি বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, এই কিতাব শিয়াদের নিকট সহীহ বুখারীর সমতুল্য।


حَدَّثَنَا، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ (ع) قَالَ: كَانَ النَّاسُ أَهْلَ رِدَّةٍ بَعْدَ النَّبِيِّ (صلى الله عليه وآله) إِلَّا ثَلَاثَةً،‏ قُلْتُ: وَمَنْ الثَّلَاثَةُ؟ فَقَالَ: الْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ، وَأَبُو ذَرٍّ الْغِفَارِيُّ، وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ رَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْهِمْ،‏ ثُمَّ عَرَفْتُ أَنَّ النَّاسَ بَعْدَ بَعْضٍ يَسِيرٌ،‏ فَقَالَ: هَؤُلَاءِ الَّذِينَ دَارَتْ عَلَيْهِمُ الرَّحَى، وَأَبَوْا أَنْ يُبَايِعُوا حَتَّى جَاءُوا بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ (عليه السلام) مَكْرُهاً فَبَايَعَ، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئاً وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} [آل عمران: 144]

অনুবাদঃ

হান্নান, তার পিতার সূত্রে, তিনি আবু জাফর (আল-বাকির) (আঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ‘‘নবী (সাঃ) এর পরে কেবল তিনজন ছাড়া সমস্ত লোক মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।’’ তাঁরা বললেন, ‘‘ এই তিনজন কারা?’’ তিনি বললেন, ‘‘মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ, আবু জর আল-গিফারি এবং সালমান আল-ফারসি; আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাদের ওপর তাঁর বরকত দান করুন।’’ এরপর আরেকজন আসে এবং বলল, ‘‘এরা সেই ব্যক্তি, যাঁদের হৃদয়ে রহমতের ভালবাসা রয়ে গিয়েছিল, এবং তাঁরা আমিরুল মু’মিনীন (আঃ)-এর কাছে আনুগত্য প্রকাশ করতে এসেছিলেন, এভাবেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘‘আর মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন। কাজেই যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? আর কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করবে না; আর আল্লাহ্‌ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।” (সূরা আল-ইমরান: ১৪৪) [২]

এই হলো শিয়াদের আসল রূপ। কোন শিয়া দেখলে প্রশ্ন করবেন এই আকিদা কি কোন মুসলিমের হতে পারে? যদি সেই শিয়া বলে হ্যা এটাই সত্য তাহলে জিজ্ঞেস করুন মুসলিমদের কোরআন কি শিয়ারা বিশ্বাস করে? কারণ কোরআন সংকলন করেছিলেন সর্বপ্রথম আমিরুল মুমিনীন আবু বকর সিদ্দিক রা তার পরে সাহাবীদের সর্বসম্মতিক্রমে আমিরুল মুমিনীন উসমান রা কোরআনের একক পান্ডুলিপি সংকলন করে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে পাঠিয়ে দেন। আমরা সমগ্র মুসলিম আজও সেই কোরআন পড়ি। এখন হয় শিয়াদের মানতে হবে যে, সাহাবায়ে কেরাম তাদের এই অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত আর না হয় বলতে হবে তারা বর্তমান কোরআন মানেনা। শিয়ারাই সিদ্ধান্ত নিক তারা কি কোরাআন অস্বীকার করবে নাকি সাহাবীদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বন্ধ করবে।


তথ্যসূত্রঃ

[১]মুসতাদরাকে হাকিম, দারুল কুতুব ইলমিয়া,ভলিঃ ৩,পৃষ্ঠাঃ ৭৩২, হাদীসঃ ৬৬৫৬। ইমাম হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন] হাদীসটির সনদ সহীহ কিন্তু তারা (শায়খায়ন) এটা বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবী তালখীসে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনুল জাওজী ও হাদীসটিকে সহীহ হিসেবেই তার তালবীসে ইবলিস কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

[২] রাওদাহ’ল কাফী, ভলিঃ৮, পৃষ্ঠাঃ১৩৩, হাদীসঃ ৩৪১।মোল্লা বাকের মাজলিসী এই হাদীস উল্লেখ করে বলেনঃ হাসান অথবা মুওয়াসসাক।



Leave a comment