আবু মাইসারা
আমি অবাক হয়ে যাই শিয়ারা কিভাবে হোসাইন (রাঃ) কে কারবালায় ডেকে নিয়ে হত্যা করে আবার এখন তাঁকে নিয়ে ভালবাসার কথা বলে?!!! এই শিয়ারা কারবালার প্রধান কালপ্রিট। বাকী কালপ্রিটদের আলোচনাও পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ শিয়াদের হেদায়াত দিক।আল্লাহ শিয়াদের থেকে হোসাইন (রাঃ)কে হত্যার অপরাধ উত্তম ভাবে বিচার করবেন যিনি নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কলিজার টুকরা ছিলেন।
কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে আসি কিভাবে শিয়ারা হোসাইন (রাঃ) কে হত্যা করেছিলো।আমি আমাদের কোন আলেমের রেফারেন্স দিবনা।আমি প্রথমেই প্রখ্যাত শিয়া আলেম “শেইখ আব্বাস কুম্মি”-র লেখা “শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস” বই থেকে শিয়াদের বিশ্বাসঘাতকতার ফিরিস্তি তুলে ধরবো। এই বই শিয়াদের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ এবং তাদের কাছে কারবালার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বই। বইটি ছেপেছে তাদেরই প্রকাশনী আর শিয়া রাষ্ট্র ইরানের সহযোগীতায় যা আপনারা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। (নিচে স্ক্রীনশট দিয়ে দিলাম)

এবার চলুন দেখে আসি কি লিখেছে আব্বাস কুম্মি এই বইয়ে। এই বইয়ের ১ম খন্ডের ৬১ পৃষ্টায় শেইখ আব্বাস কুম্মি লিখেছে –
“ইমামের শিয়ারা (অনুসারীরা) সুলাইমান বিন সুরাদ খুযাঈর বাড়িতে জড়ো হলো মুয়াবিয়ার মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করতে এবং আল্লাহর প্রশংসা এবং তাসবীহ করতে। সুলাইমান উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “মুয়াবিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং ইমাম হোসেইন (আ.) ইয়াযীদের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে অস্বীকার করেছেন ও মক্কায় চলে গিয়েছেন। তোমরা তার ও তার বাবার শিয়া (অনুসারী)। তাই যদি তোমরা তাঁকে সাহায্য করতে চাও ও তার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাও তাকে চিঠি লিখো এবং তাকে এ বিষয়ে জানাও। কিন্তু যদি তোমরা ভয় পাও যে তোমরা ছিটকে পড়বে এবং পিছু হটবে তাহলে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না (তাকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়ে)।” প্রত্যেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ করলো যে তারা তাকে সাহায্য করবে এবং তার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তার আদেশে এবং তাদের জীবনকে এগিয়ে দিবে কোরবান করতে। যখন সুলাইমান তা শুনলেন, তিনি তাদেরকে আহ্বান জানালেন ইমামকে চিঠি লেখার জন্য এবং তারা লিখলো।” (নিচে স্ক্রীনশট দিয়ে দিলাম) [১]

এই বক্তব্য থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট –
- শিয়ারা হোসাইন (রাঃ) এর কাছে চিঠি লিখেছিল
- শিয়ারা বলেছিল তারা হোসাইন (রাঃ) কে সাহায্য করবে
- শিয়ারা বলেছিলো যে তারা হোসাইন রা এর আদেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং তাদের জীবনকে কোরবান করতে এগিয়ে দিবে ।
এবার চলুন জেনে আসি কি করেছিল এই আহলে বাইত বিদ্বেষী নাসেবী শিয়ারা সেই দযে যারা কিনা আজ বলে তারা আহলে বাইতদের ভালোবাসে!!!!!
শিয়ারা কি হোসাইন (রাঃ) কে সাহায্য করেছিলো?!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিয়ারা তাকে ডেকে এনে তাকে কি সাহায্য করেছিলো নাকি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো? এর উত্তর আমরা স্বয়ং হোসাইন রা এর মুখ থেকেই শুনবো। প্রখ্যাত শিয়া আলেম আব্বস কুম্মী তার বইয়ের ১ম খন্ডের ১৯৯-২০০ পৃষ্টায় হোসাইন রা এর ভাষণ সংরক্ষণ করেছেন যেখানে এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। আমরা পাঠকদের জন্য সেই ভাষণটি হুবহু উদ্ধৃত করছি-
কুফাবাসীদের প্রতি ইমাম হোসেইন (আ.)-এর বক্তব্য
সাইয়েদ ইবনে তাউস বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম হোসেইন (আ.) তার উটে চড়লেন (অন্যরা বলেন তার ঘোড়ায়) এবং তাদের ইশারা করলেন চুপ করার জন্য। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ ও মর্যাদা বর্ণনা করলেন যা তার প্রাপ্য। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাষায় সালাম পাঠালেন ফেরেশতা, নবী ও রাসূলদের উপর। তারপর বললেন, “হে জনতা, তোমরা যেন ধ্বংস হও, দুর্দশাগ্রস্ত হও। তোমরা উৎসাহের সাথে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে তোমাদের সাহায্য করার জন্য এবং আমরা তা করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু তোমরা এখন সে তরবারিগুলো কোষমুক্ত করেছো যা আমরা তোমাদের দিয়েছি এবং তোমরা আমাদের জন্য আগুন জ্বালিয়েছো যা আমরা তোমাদের ও আমাদের শত্রুদের জন্য জ্বালিয়েছিলাম। তোমরা তোমাদের শত্রুদের পক্ষ নিয়েছো এবং তাদের সাথে থেকে তোমাদের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হয়েছো, যদিও তারা তোমাদের সাথে ন্যায়পরায়ণ আচরণ করে নি, না তোমরা তাদের কাছ থেকে কোন দয়া ও সদয় আচরণ আশা কর। তোমাদের উপর শত দুর্ভোগ আসুক। তোমরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো যখন তরবারিগুলো এখনও তাদের খাপে রয়েছে, হৃদয়গুলো শান্তিতে আছে, মতামতগুলো যথাযথভাবে স্পষ্ট এবং ভুল থেকে মুক্ত। কিন্তু তোমরা পঙ্গপালের মত, যারা যুদ্ধের দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং মথের (প্রজাপতি) মত, একজনের উপর আরেকজন যেমন পড়ে। তোমরা ধ্বংস হও, হে যারা দাসীদের প্রেমিক, যারা দলত্যাগ করেছে, যারা কোরআন পরিত্যাগ করেছে, যারা সঠিক বক্তব্যকে বদলে নিয়েছো, যারা খারাপের স্তম্ভ, হে যারা শয়তানদের দ্বারা উস্কানি পাচ্ছো এবং যারা আসমানী আদেশ ছিন্নকারী, তোমরা তাদের পক্ষ নিচ্ছো এবং আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করা তোমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য, যা তোমাদের পিতৃপুরুষেরা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তা থেকে শাখা বেরিয়েছে। তোমরা নোংরা এবং এর বিস্বাদ ফল এর বপনকারীর গলায় আটকে যায় এবং তা অত্যাচারীদের কাছে আনন্দের। সাবধান, এখন অবৈধ পিতার অবৈধ সন্তান (উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ) আমাকে তরবারি কোষমুক্ত করা ও অপমান সহ্য করার মাঝে স্থাপন করেছে এবং আমরা অপমান গ্রহণ করবো তা কখনোই হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং পবিত্র কোলগুলো যা আমাদের দুধ খাইয়েছে, যারা ভদ্র ও যারা অপমান ঘৃণা করে তারা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করে যে, আমরা ঘৃণ্য মানুষদের কাছে মাথা নোয়াবো এবং তারা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এ বিষয়ে যুদ্ধের ময়দানে পৌরুষের সাথে নিহত হতে। জেনে রাখো, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো যদিও আমার সাথে রয়েছে অল্প কয়েকজন মানুষ এবং যদিও কিছু ব্যক্তি আমাকে পরিত্যাগ করে চলে গেছে।”(নিচে স্ক্রীনশট দিয়ে দিলাম)

হোসেইনের (রা) এর বক্তব্যের সারমর্ম পয়েন্ট বাই পয়েন্ট নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- হোসেইন রা নিজে সাক্ষ্য দিলেন যে, শিয়ারা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
- হোসাইন (রা) শিয়াদের অভিশাপ দেন যাতে তারা ধ্বংস ও দুর্দশার মধ্যে পরেন।
- হোসাইন (রা) জানান, শিয়ারা নিজেদের শত্রুদের পক্ষ নিয়েছে এবং অনৈতিকভাবে বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
- হোসাইন (রা) তাদের সতর্ক করেন যে, শিয়ারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের হৃদয় শান্ত এবং যুক্তি স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও, তারা পঙ্গপালের মতো যুদ্ধের দিকে এগিয়েছে।
- হোসাইন (রা) শিয়াদের গুণ্ডামির জন্য তিরস্কার করেন,
- হোসাইন (রা) বলেন, শিয়ারা দলত্যাগ করেছে, কোরআন পরিত্যাগ করেছে এবং শয়তানের উস্কানিতে আছে।
- হোসেইন (রা) বলেন, শিয়াদের এই বিশ্বাসঘাতকতা তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং তা তাদের ক্ষতির কারণ হবে।
পাঠক এভাবেই শিয়ারা হোসাইন (রা) এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো।
চলবে—————————————-


Leave a comment