আবু মাইসারা
আমরা প্রথম পর্বে আপনাদের দেখিয়েছিলাম যে, শিয়ারা কত ভয়ংকরভাবে পবিত্র কোরআন মাজীদকে বিকৃত বলে বিশ্বাস করে। ইহুদি খ্রিস্টানরাও কোরআনের উপর এমনভাবে অপবাদ দেয়নি যা শিয়ারা দিয়াছে। কিন্ত আপনারা আশ্চর্য হবেন ওদের কোরআন বিকৃতিতে বিশ্বাসের এই ফিরিস্তি বিশাল। আমরা ইনশাল্লাহ ওদের কিতাব থেকে এক এক করে সব আপনাদের সাথে তুলে ধরবো যাতে আপনারা মুসলিমদের এই প্রাচীন শত্রু কোরআনের শত্রু রাফেজী শিয়া থেকে বেচে থাকতে পারেন।
কথা না বাড়িয়ে চলুন এবার দেখে আসি শিয়াদের কাছে শায়েখ সুদূক নামে প্রসিদ্ধ ইবনে বাবাওয়াইয়ি আল কুম্মী তার ফাযাইল আশ শিয়া গ্রন্থে কি বলেন। আপনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন এই শিয়া পন্ডিত শায়েখ সুদূক নাকি শায়েখ কাযিব। তিনি বলেন-
حدثنا محمد بن علي بن ماجيلويه رحمه الله قال حدثنا محمد بن يحيى عن حنظلة عن ميسّر قال سمعت ابا الحسن الرضا عليه السلام يقول لا يرى منكم في النار اثنان لا والله ولا واحد. قال فقلت ابن زنا من كتاب الله فامسك عنّي. قال فاجتمعنا ذات يوم في الطواف فقال لي يا ميسر أذن لي في جوابك مسألتك كذلك. قال فقلت فين هو من القران؟ فقال في سورة الرحمن وهو قوله تعالى عزوجل (فَيُومَئِذٍ لَا يُسْـَٔلُ عَنْ ذَنْبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ) فقلت له ليس فيها (منكم). قال ان اول من قد غَيَّرَها ابن أروى وذلك انها حجة عليه وعلى اصحابه ولو لم يكن فيها (منكم) لسقط عقاب الله عزوجل عن خلقه اذا لم يُسأل عن ذنبه انس ولا جان فلمن يعاقب الله اذا يوم القيامة
মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মাজিলওয়াহ (রহ.) আমাদেরকে বলেছেন যে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া তাকে বর্ণনা করেছেন… হানযালা (রহ.) থেকে, তিনি মাইসার (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে আবুল হাসান আর-রেযা (আ.) বলেছেন:“তোমাদের মধ্যে দু’জনকেও জাহান্নামে দেখা যাবে না। বরং, তোমাদের মধ্যে একজনকেও জাহান্নামে দেখা যাবে না।” আমি (মাইসার) বললাম: “আল্লাহর কিতাব (কুরআন) দিয়ে এটা কীভাবে প্রমাণিত হয়?” ইমাম (আ.) এক বছর পর্যন্ত আমার এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। পরের বছরের হজ্জের দিনে (ইয়াওমুন নাফর বা কোরবানীর পরের দিন, তাশরীকের দিন), তিনি আমাকে বললেন: “হে মাইসার, শুধু আজই আমাকে তোমার গত বছরের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।“ আমি বললাম: “তাহলে, আল্লাহর কিতাব দিয়ে এটা কীভাবে প্রমাণিত হয়?” তিনি (আ.) বললেন: এটা সূরা আর-রহমানে আছে। তা হলো: “সেদিন কোন মানুষ কিংবা জিনকে তার গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না” (৫৫:৩৯)। আমি বললাম: “এই আয়াতে তো ‘তোমাদের মধ্যে’ (فِيكُمْ – ফীকুম) শব্দটি নেই, যা আপনি বললেন।” তিনি (আ.) উত্তরে বললেন: “এই আয়াতের বিকৃতকারী প্রথম ব্যক্তি ছিল ইবনে আরওয়া[১]। কারণ এটি তার ও তার সঙ্গী-সাথীদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ ছিল। আয়াতে ‘তোমাদের মধ্যে’ (فِيكُمْ – ফীকুম) শব্দটি না থাকলে, পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর শাস্তির বিধান সমস্ত সৃষ্টির জন্য অকার্যকর হয়ে যাবে। যদি আল্লাহ কোন মানুষ বা জিনকে তার গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাই না করেন, তাহলে কিয়ামতের দিন তিনি কাকে শাস্তি দেবেন?”[১]
এভাবেই শিয়ারা কোন রাখঢাক ছাড়াই বলে বেড়াচ্ছে যে, আল্লাহর পবিত্র কোরআন নাকি বিকৃত,নাউজুবিল্লাহ। পাঠক আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন এই শিয়ারা কি মুসলিম নাকি কাফের?
(নিচে স্ক্রীনশট দিয়ে দিচ্ছি)

টীকাঃ
[১] উল্লেখ্য ইবনে আরওয়া বলতে শিয়ারা আমিরুল মুমিনীন উসমান জুন্নুরাইন রা কে বুঝিয়েছে। ওরা এই নামে তাকে গালি দেয়।নাউজুবিল্লাহ। এভাবেই নাসেবী শিয়ারা নবীজীর দুই মেয়ের জামাই, নবীজীর নাতির পিতাকে গালি দেয়
তথ্যসূত্রঃ
[১]ফাযাইল আশ শিয়া, হাদীস নং-৪৩, পৃষ্ঠাঃ ৪০


Leave a comment