হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নাব رضى الله تعالى عنها

নবী صلى الله تعالى عليه و​آله و​سلم-এর সম্মানিত সন্তানদের সংখ্যা হলো সাতজন। তিনজন শাহজাদা এবং চারজন শাহজাদী (رضوان الله تعالى عليهم أجمعين ‏)। (শারহুল মাওয়াহিব, ৪/৩৬৬)। নবী صلى الله تعالى عليه و​آله و​سلم-এর সম্মানিত সাতজন সন্তানের মধ্যে শুধুমাত্র একজন শাহজাদা হযরত সায়্যিদুনা ইব্রাহিম رضى الله تعالى عنه এবং হযরত বিবি মারিয়া কিবতিয়া رضى الله تعالى عنها-এর পবিত্র গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহণ করে, অবশিষ্ট সকল সন্তানই উম্মুল মুমিনিন হযরত সায়্যিদাতুনা খাদিজাতুল কুবরা رضى الله تعالى عنها-এর পবিত্র গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহণ করেছেন। (সীরাতে মুস্তফা,৬৮৭ পৃষ্ঠা)।

জন্ম

হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নাব رضى الله تعالى عنها, আমাদের প্রিয় নবী মুস্তফা صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর সবচেয়ে বড় শাহজাদী। হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নাব رضى الله تعالى عنها নবুয়তের ঘোষণার দশ বছর পূর্বে, যখন নবী করীম صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর বয়স ত্রিশ বছর ছিলো, মক্কা মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা দীক্ষা জগতের শিক্ষক নবী করীম صلى الله تعالى عليه و آله و سلم স্বয়ং নিজেই করেন। তিনি رضى الله تعالى عنها খুবই নেককার ও পরহেযগার ছিলেন। তিনি رضى الله تعالى عنها ছিলেন ধৈর্য্যের পাহাড় এবং কৃতজ্ঞ। ভাবুন তো! যার প্রশিক্ষণ স্বয়ং মুস্তফা করীম, রউফুর রাহীম صلى الله تعالى عليه و آله و سلم করেছেন, সেই ব্যক্তিত্বের চরিত্র কিরূপ উন্নত হবে, এই ব্যক্তিত্বের আখলাক কিরূপ সুন্দর হবে এবং তিনি কিরূপ উত্তম গুণাবলী সম্পন্ন হবেন।

রমযান ২য় হিজরীতে যখন আবুল আ’স বদরের যুদ্ধে গ্রেফতার হয়ে মদীনায় আসলো। ততদিন পর্যন্ত হযরত যায়নব رضى الله تعالى عنها মক্কায় মুকাররমাতেই অবস্থান করেছিলেন। তিনি رضى الله تعالى عنها আবুল আ’সকে মুক্ত করতে মদীনায় নিজের ঐ হারটি পাঠালেন যা তাঁকে তাঁর আম্মাজান উম্মুল মুমিনীন হযরত সাইয়্যিদাতুনা খাদীজা رضى الله تعالى عنها তাঁকে বিয়েতে দিয়েছিলেন। নবী করীম صلى الله تعالى عليه و آله و سلم যখন তা দেখলেন তখন উম্মুল মুমিনীন হযরত সাইয়্যিদাতুনা খাদীজা رضى الله تعالى عنها এর প্রতি ভালবাসায় তাঁর মোবারক চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগলো। এই হারটি হুযূর আকদাস صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর ইশারা পেয়ে সাহাবায়ে কিরামগণ عليهـم الرضوان হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। নবীয়ে রহমত, শাফেয়ে উম্মত صلى الله تعالى عليه و آله و سلم হযরত যায়েদ বিন হারিসা رضى الله تعالى عنه কে একজন আনসারীর সাথে পূর্বের স্থান “বতনে ইয়াজাজ” পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সুতরাং তারা উভয়ে “বতনে ইয়াজাজ” থেকে নিজেদের নিরাপত্তায় হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها কে মদীনা মুনাওয়ারায় নিয়ে আসেন। (সীরাতে মুস্তফা, ৩৬১, ৩৬২ পৃষ্ঠা)

হে মুসলিম উম্মাহ! নবী صلى الله تعالى عليه و آله و سلم হলেন সেই সম্মানিত ব্যক্তি, যাঁকে আল্লাহর পথে অনেক বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন ভাবে পীড়ন করা হয়েছে, অত্যাচার ও নিপীড়নের পাহাড় ভাঙা হয়েছে। অত্যাচারীদের অত্যাচার ও নিপীড়ন এতই বৃদ্ধি পায় যে, তারা শুধুমাত্র হুযূর صلى الله تعالى عليه و آله و سلم কে নয় বরং তাঁর সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী ও কারিনীদের প্রতিও অত্যাচার ও নিপীড়ন করাতে কোন পার্থক্য রাখেনি। শাহজাদীয়ে মুস্তফা, হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها সেইসব মজলুমদের একজন , যিনি কাফেরদের নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ইন্তেকাল

তাজেদারের রিসালাত, শাহানশাহে নবুয়ত صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর শাহজাদী হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها কে তাঁর স্বামী আবুল আ’স বিন রবী رضى الله تعالى عنه বদরের যুদ্ধের পর মদীনা মুনাওয়ারার অভিমুখে প্রেরণ করলেন। যখন মক্কার কুরাইশরা তাঁর গমনের সংবাদ শুনলো তখন তারা হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها এর পিছু নিলো, এমনকি “যী তুয়া” নামক স্থানে পৌঁছে গেলো। হাব্বার বিন আসওয়াদ হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নব رضى الله تعالى عنها কে বল্লম নিক্ষেপ করলো, যার কারণে তিনি رضى الله تعالى عنها উট থেকে নিচে পরে গেলেন এবং তাঁর গর্ভপাত হয়ে গেলো। (সীরাতুন নবূইয়্যা লি ইবনে হিশাম, ২৭০-২৭১ পৃষ্ঠা)

নবীয়ে করীম, রউফুর রহীম صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এই ঘটনায় খুবই ব্যথিত হলেন। নবী صلى الله تعالى عليه و آله و سلم তাঁর ফযীলাত সম্পর্কে ইরশাদ করলেনঃ

هِيَ أَفْضَلُ بَنَاتِي أُصِيبَتْ فِيَّ

অর্থাৎ সে আমার কন্যাদের মধ্যে এই দিক দিয়ে ফযীলাতপূর্ণ যে, আমার নিকট হিজরত করতে গিয়ে এত বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। (শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়া , ৪র্থ খণ্ড, ৩১৮-৩১৯ পৃষ্ঠা। মাদারিজুন নবুয়্যত,২য় খণ্ড, ৪৫৫-৪৫৬ পৃষ্ঠা)। অষ্টম হিজরীতে তিনি رضى الله تعالى عنها ইন্তিকাল করেন। হযরত উম্মে আইমান ও হযরত সাওদা বিনতে যামআ এবং হযরত উম্মে সালমা رضى الله تعالى عنهن তাঁকে গোসল প্রদান করেন।

তাঁর শান, মহত্ত্ব ও সৌভাগ্য অনেক উচ্চ, কেননা হুযূর আকদাস صلى الله تعالى عليه و آله و سلم তাঁর কন্যার জন্য শুধু নিজের মোবারক তেহবন্দ দান করেননি বরং দয়ার উপর আরো দয়া হলো তার জানাজার নামাজ পড়িয়ে স্বয়ং নিজের মোবারক হাতে তাঁকে কবরে নামান। (শরহে যুরকানী, ৪/৫১৮)

صَلُّوا عَلَى الْحَبِيب! صلى الله تعالى على محمد

সন্তান-সন্ততি

নবী মুস্তফা صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর এই প্রিয় শাহজাদী সাইয়্যিদাতুনা যায়নাব رضى الله تعالى عنها -এর ঘরে একজন নাতি ও একজন নাতনীর জন্ম হয়। হযরত সাইয়্যিদাতুনা যায়নাব رضى الله تعالى عنها -এর ছেলের নাম ছিলো আলী رضى الله تعالى عنه আর তার মেয়ের নাম ছিলো উমামা رضى الله تعالى عنها ।



Leave a comment