মানসূরীয়া

আবু মাইসারা

এরা হলেন আবু মানসূর আল-ইজলীর অনুসারী।[১] ইবনে কুতায়বা (রহ) তার নাম আবু মনসুর আল-কাসিফ উল্লেখ করেছেন।[২] সে প্রথমে আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বাকিরের অনুসারী হওয়ার দাবি করেছিল। কিন্তু যখন বাকির তার থেকে নিজেকে পৃথক করেন ও তাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তখন সে দাবি করে যে সে নিজেই ইমাম এবং মানুষকে তার অনুসরণের জন্য আহ্বান জানায়। বাকিরের মৃত্যুর পর সে ঘোষণা করে, ‘ইমামত এখন আমার কাছে এসেছে,’ এবং এই দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করে।[১]

কুফায় বনু কিন্দা গোত্রের মধ্যে তার একদল অনুসারী আবির্ভূত হয়। তবে যখন ইরাকের গভর্নর ইউসুফ ইবনে উমর আল-সাকাফী (হিশামের শাসনামলে) তার দাবি ও ক্ষতিকর প্রচারের কথা জানতে পারেন, তখন তিনি তাকে গ্রেফতার করে ক্রুশে বিদ্ধ করার আদেশ দেন।[১]

তিনি তার অনুসারীদের বলেছিলেন, এই আয়াতে— ‘তারা আকাশের কোন খন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখলেও বলবেঃ এটাতো এক পূঞ্জীভুত মেঘ।’[৩]— তার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।[২]

আবু মানসুর আরও দাবি করত যে, আলী ছিলেন ‘আসমান থেকে পড়া টুকরো’। অথবা সম্ভবত তিনি এ কথাটিই বলেছিলেন: ‘আসমান থেকে পড়া টুকরোটিই প্রভু ছিলেন’।[১]

আবু মানসূর আরও দাবি করতেন যে, পৃথিবীতে কখনও নবীর আগমন বন্ধ হবে না এবং নবুওয়াতের ধারা চিরতরে সমাপ্ত হবে না।[১] তিনি আরও বলতেন যে জান্নাত হলেন একজন মানুষ, যার সাথে আমাদের সম্পর্ক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; তিনি হলেন যুগের ইমাম।[১] জাহান্নামও একজন মানুষ, যাকে বিরোধিতা করার জন্য আমরা আদিষ্ট; এই ব্যক্তি হলেন ইমামের শত্রু।[১] সকল নিষিদ্ধ বস্তুকে তিনি কিছু নির্দিষ্ট মানুষের সাথে সম্পর্কিত করে ব্যাখ্যা করতেন, যাদের বিরোধিতা করার জন্য আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।[১] আর সকল বাধ্যতামূলক বিষয়ের ব্যাখ্যায় তিনি নির্দিষ্ট মানুষকে নির্দেশ করতেন, যাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে আল্লাহ আমাদের আদেশ করেছেন।[১] তার অনুসারীরা তাদের বিরোধীদের হত্যা করা, তাদের সম্পদ দখল করা এবং তাদের নারীদেরকে অধিকারভুক্ত করাকে বৈধ মনে করত।[১]

মানসূরিয়া হলো খুররামিয়া সম্প্রদায়ের একটি শাখা।[১] আর তাদের মধ্যে ছিল ‘আল-খানাকুন’ ও ‘আশ-শাদাখুন’ সম্প্রদায়।[২] নির্দিষ্ট মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব ও নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য হলো—যে কেউ যদি এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করে এবং চিনতে সক্ষম হয়, তাহলে সে পরবর্তীতে সকল দায়িত্ব [ইবাদত] থেকে মুক্ত এবং আর কোনো আদেশের অধীনস্থ থাকে না ; কারণ সে ইতিমধ্যেই জান্নাত লাভ করেছে এবং পূর্ণতার স্তরে পৌঁছেছে।[১] আল-ইজলির একটি অভিনব মতবাদ ছিল, তিনি বলেছিলেন আল্লাহর সৃষ্ট প্রথম বস্তু ছিলেন মরিয়মের পুত্র ঈসা, এরপর ছিলেন আলী ইবনে আবু তালিব।[১]


তথ্যসূত্রঃ

[১] শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৫৩-১৫৪

[২] আবু মুহাম্মদ ইবনে কুতায়বা, তাবিল আল হাদীস, পৃষ্ঠাঃ ১২৫, আল মাকতাবা আল ইসলামী

[৩] সূরা আত তূর, আয়াতঃ ৪৪



Leave a comment