আবু মাইসারা
এরা মুহাম্মাদ ইবনুল নু‘মান আবু জা‘ফর আল-আ‘ওয়ার (তেঁতলা) এর অনুসারী, যিনি শাইতান আত-তাক নামেও পরিচিত; তাদের শাইফানিয়া নামেও ডাকা হয়। শিয়া সম্প্রদায় মুহাম্মাদ ইবনুল নু‘মান-কে ‘মু’মিন আত-তাক’ (তাকের বিশ্বস্ত ব্যক্তি) বলে ডাকে। তিনি মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী ইবন হুসাইন আল-বাকির-এর শিষ্য ছিলেন, যিনি তার নিজের ও তার জ্ঞান সম্পর্কিত গোপন বিষয়গুলো তার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তিনি আল্লাহর জন্য দেহ-আকৃতি নির্ধারণ করতেন—এ অভিযোগটি সত্য নয়। বলা হয় যে, কোনো বস্তু অস্তিত্বে আসার আগ পর্যন্ত আল্লাহ সে বিষয়ে জানেন না—হিশাম ইবনুল হাকামের এই মতের সাথে তিনি একমত ছিলেন বলে জানা যায়। তার মতে, আল্লাহ স্বভাবগতভাবেই জ্ঞানী, তিনি জ্ঞান অর্জন করেন না। কিন্তু তিনি কোনো বিষয় তখনই জানেন যখন তিনি তা ফয়সালা করেন ও ইচ্ছা করেন। এ ঘটনার আগে তার পক্ষে সেগুলো জানা অসম্ভব; এটা এই কারণে নয় যে তিনি জ্ঞানী নন, বরং এই কারণে যে, কোনো বস্তু তখনই একটি বস্তুতে পরিণত হয় যখন তিনি তা ফয়সালা করেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত দ্বারা তা সৃষ্টি করেন। তাঁর মতে, এই ফয়সালাই হলো আল্লাহর ইচ্ছা, আর আল্লাহর ইচ্ছাই হলো তাঁর কর্মের সমতুল্য।
মুহাম্মাদ ইবনুল নু‘মান বলতেন যে, আল্লাহ হলেন এক আলো, যিনি এক স্বর্গীয় মানুষের আকৃতিতে বিরাজমান। তিনি এ কথা অস্বীকার করতেন যে আল্লাহর কোনো দেহ আছে, কিন্তু বলতেন, ‘হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ মানুষকে তাঁর নিজের আকৃতিতে বা পরম করুণাময়ের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। এ কথা মানতে হবে।’ আল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে একই রকম কথা মুকাতিল ইবন সুলাইমানের সম্পর্কেও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও দাউদ আল-জাওয়ারিবী, নাঈম ইবন হাম্মাদ আল-মিসরী এবং অন্যান্য হাদীসবিশারদদের সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয় যে, তারা বিশ্বাস করতেন আল্লাহর একটি আকৃতি ও অঙ্গ-প্রতঙ্গ আছে। দাউদ সম্পর্কে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা কোরো না যে তাঁর লজ্জাস্থান বা দাড়ি আছে কিনা, কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে তোমরা জিজ্ঞাসা করতে পারো, কারণ সেগুলো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।’
মুহাম্মাদ ইবনুল নু‘মান শিয়াদের জন্য অনেক গ্রন্থ রচনা করেন, তার মধ্যে রয়েছে: “করো (এটা)। তুমি কেন (এটা) করলে?” এবং “করো (এটা)। (এটা) করো না।” তিনি এগুলিতে উল্লেখ করেন যে, চারটি প্রধান গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর মতে প্রথম গোষ্ঠী হল কদরিয়া, দ্বিতীয় গোষ্ঠী খারিজী, তৃতীয় গোষ্ঠী সাধারণ জনতা এবং চতুর্থ গোষ্ঠী শিয়া। তিনি মত পোষণ করতেন যে এদের মধ্যে কেবল শিয়ারাই পরকালে মুক্তি লাভ করবে।
বর্ণিত আছে যে, হিশাম ইবন সালিম ও মুহাম্মাদ ইবনুল নু‘মান আল্লাহ সম্পর্কে যেকোনো আলোচনা থেকে বিরত থাকতেন। তারা এমন এক ব্যক্তির বাণী বর্ণনা করতেন, যার কথা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে বলে তারা বিশ্বাস করতেন। যখন আল্লাহর বাণী “তোমার প্রতিপালকই হলেন তোমার চূড়ান্ত গন্তব্য” (সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৪২) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন ঐ ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা চালানো হলে তা শেষ করতে হবে।’ তাই তারা তাদের মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ সম্পর্কে কিছু বলতে বা চিন্তা-ভাবনা করতেও বিরত থাকতেন। এটি পান্ডুলিপি অনুলিপিকারের বর্ণনা।
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৬০-১৬১

Leave a comment