আবু মাইসারা
এরা হল চরমপন্থী শিয়া উপদল, যাদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অনুসারী রয়েছে যারা তাদের মতবাদকে সমর্থন করে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির মুখ্য ব্যাখ্যাতাদের রক্ষা করে। নবীর পরিবারের ইমামদের জন্য আধ্যাত্মিক নাম কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে একটি আধ্যাত্মিক সত্তা দৈহিক রূপ ধারণ করতে পারে – এমন একটি বিষয় যা যুক্তি দ্বারা অস্বীকার করা যায় না। ভালো দৃষ্টান্তের মধ্যে জিবরাইলের উপস্থিতিকে বিবেচনা করা যেতে পারে, যিনি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, অথবা একজন বেদুইন বা অন্য কোনো মানুষের রূপে আবির্ভূত হন। খারাপ দৃষ্টান্তের মধ্যে শয়তানের মানুষের রূপে আবির্ভূত হওয়াকে বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে সে সেই রূপে খারাপ কাজ করতে পারে, অথবা জিনের মানুষের রূপ ধারণ করাকে, যাতে তারা মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে। একইভাবে, আমরা বলি, আল্লাহ মানুষের রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। নবীর (ﷺ) পরে আলীর চেয়ে উত্তম কেউ ছিলেন না, এবং আলীর পরে তাঁর মনোনীত পুত্রদের চেয়ে উত্তম কেউ ছিলেন না, যারা ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; তাই আল্লাহ তাদের রূপে আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের জিহবা দিয়ে কথা বলেছেন এবং তাদের হাত ব্যবহার করেছেন। এই অর্থেই আমরা তাদের জন্য ঐশ্বরিক (divine) শব্দটি ব্যবহার করেছি। আমরা আলী এবং অন্য কারও জন্য এই বিশেষাধিকার দাবি করি না, কারণ তিনিই বিশেষভাবে নির্বাচিত এবং আল্লাহর দ্বারা সমর্থিত ছিলেন, যাতে বস্তুর গভীরতম রহস্যের গ্রহীতা হতে পারেন। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি বাহ্যিক অবস্থা দেখে বিষয়গুলোর বিচার করি, কিন্তু আল্লাহ গোপন বিষয় জানেন।’ এই কারণেই কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দায়িত্ব নবীর (ﷺ) ছিল, কিন্তু মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়িত্ব ছিল আলীর। এই কারণেই নবী (ﷺ) আলীর সাথে মরিয়ম-তনয় ঈসার তুলনা করেছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন, ‘লোকেরা তোমার সম্পর্কে তাই বলবে না এমন নিশ্চয়তা থাকলে, আমি তোমার সম্পর্কে এমন কিছু বলতাম যা তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে বলেছে।’ কখনও কখনও এই উপদলগুলো দাবি করত যে আলীর নবুয়তের মধ্যে একটি অংশ ছিল, কারণ নবী (ﷺ) বলেছিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি কুরআনের ব্যাখ্যা রক্ষায় যুদ্ধ করবেন, যেমন আমি এর প্রত্যাদেশ রক্ষায় যুদ্ধ করেছি: এই ব্যক্তি হলেন ‘জুতো সেলাইকারী’ (আলী)’। সুতরাং, কুরআনের ব্যাখ্যার জ্ঞান, মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জিনের সাথে কথোপকথন এবং খায়বারের দুর্গ ধ্বংস করা (যা শারীরিক শক্তি দ্বারা করা সম্ভব ছিল না): এই সবকিছুই সর্বোত্তম প্রমাণ যে আলীর মধ্যে একটি ঐশ্বরিক উপাদান এবং একটি অতিপ্রাকৃত শক্তি বিদ্যমান। তাই তিনিই হলেন সেই রূপ যাতে আল্লাহ আবির্ভূত হয়েছিলেন, যার হাত দিয়ে আল্লাহ সৃষ্টি করেছিলেন এবং যার জিহবা দিয়ে আল্লাহ আদেশ করেছিলেন। তাই তারা বলে যে আলী আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির আগে থেকেই বিদ্যমান ছিলেন। [আলী] বলেছেন, ‘আমরা [ইমামগণ] আরশের ডান পাশে ছায়ারূপে ছিলাম: আমরা আল্লাহর তাসবিহ করতাম এবং ফেরেশতারা আমাদের সাথে মিলিতভাবে তাঁর তাসবিহ করতেন।’ এই ছায়াসমূহ এবং এই রূপসমূহ, যা এই ছায়াগুলোকে প্রকাশ করে, তারা আলীর সারমর্ম এবং তারা এই দুনিয়া ও পরকালে নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর নূর দিয়ে উদ্ভাসিত। এই কারণেই আলী বলেছিলেন, ‘আহমাদ ও আমি এক আলো থেকে আরেক আলোর মতো’: অর্থাৎ, দুটি নূরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, শুধুমাত্র একটি আগে এবং অন্যটি পরে এসেছে। এই শিয়াদের মতে, এটি একধরনের অংশীদারিত্বেরই প্রকাশ।
নুসাইরিয়ারা আল্লাহর উপাদানের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করে, অন্যদিকে ইশহাকিয়া দল নবুয়ত ভাগাভাগির বিষয়টি বেশি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে। তাদের মধ্যে আরও বহু পার্থক্য রয়েছে, তবে সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে না।
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৬১-১৬৩

Leave a comment