এরা হলেন রিযাম ইবনে রাযমের অনুসারী। তাদের মতে, আলী -এর পর ইমামত স্থানান্তরিত হয় তাঁর পুত্র মুহাম্মাদের কাছে, মুহাম্মাদের পর তাঁর পুত্র আবু হাশিমের কাছে, এবং তারপর আবু হাশিমের মনোনয়ের মাধ্যমে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কাছে। এরপর এটি মুহাম্মাদ ইবনে আলীর কাছে যায়, যিনি পালাক্রমে তাঁর পুত্র ইবরাহীমকে ইমাম নিযুক্ত করেন; তিনি আবু মুসলিমের বন্ধু ছিলেন, যিনি তাঁর ইমামতকে সমর্থন করেছিলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যের প্রচার করেছিলেন।
আর-রিযামিয়্যা গোষ্ঠীর উদ্ভব হয় খুরাসানে আবু মুসলিমের সময়। এমনকি বলা হয় যে, আবু মুসলিম নিজেও একজন রিযামী ছিলেন, কারণ রিযামিয়্যা গোষ্ঠী তাকে ইমামত দান করেছিল এ কথা বলে যে, তার এতে দাবি রয়েছে। তারা এও দাবি করত যে, আল্লাহর রূহ (আত্মা) তার মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং উমাইয়্যদের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করেছিল, তাদের ধ্বংস করতে এবং সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিতে সক্ষম করেছিল। তারা তানাসুখে (আত্মার স্থানান্তরে) বিশ্বাস করত।
আল-মুকান্না (আবৃত ব্যক্তি), যিনি তাঁর প্রদর্শিত অসাধারণ নিদর্শনগুলোর কারণে নিজের জন্য ইলাহীত (মাবুদ) দাবি করতেন, প্রথমদিকে একজন রিযামী ছিলেন। ট্রান্সঅক্সিয়ানার মুবাইয়িদা, যারা খুররামিয়্যার একটি শাখা, তার অনুসারী হয়ে ওঠে। তারা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাগুলো (ফরজ ইবাদত) ত্যাগ করতে বিশ্বাস করত, এবং ধারণা করত যে ধর্ম কেবল ইমামের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলত যে ধর্ম দুটি জিনিসের সমন্বয়: ইমামের স্বীকৃতি এবং (ইমামের কাছে) ন্যস্ত আমানত। যে ব্যক্তি এই দুটি জিনিস অর্জন করে সে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে যায় এবং আর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার অধীন থাকে না।
কিছু রিযামী মত পোষণ করত যে, আবু হাশিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যার পর থেকে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কাছে ইমামত কেবলমাত্র মনোনয়ের (নাস) মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছে, অন্য কোনোভাবে নয়।
যে আবু মুসলিম [আব্বাসীয়] বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি প্রথমে কাইসানিয়া গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের প্রচারকদের কাছ থেকে তিনি তাদের কাছে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি তাদের কাছ থেকে শিখেছিলেন যে তারা এই জ্ঞানের কেবল তত্ত্বাবধায়ক মাত্র, তাই তিনি এমন একজনকে খুঁজছিলেন যার মধ্যে এই জ্ঞানের স্থায়ী আবাস স্থাপিত হবে।অতঃপর তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আল-সাদিকের কাছে একটি বার্তা পাঠান, এ বলে যে, ‘আমি একটি বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছি এবং উমাইয়াদের কাছ থেকে আনুগত্য পরিবর্তন করে নবী বংশধরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার জন্য মানুষকে ডাক দিয়েছি। আপনি যদি এ বিষয়ে আগ্রহী হন, তাহলে আপনার আর কিছুই করার দরকার নেই।’ জাফর আল-সাদিক জবাব দিলেন, ‘তুমি আমার কোনো প্রতিনিধি নও; এবং তাছাড়া, এখনও সময়টি উপযুক্ত হয়নি।’ এরপর আবু মুসলিম আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-সাফফাহর দিকে মনোনিবেশ করেন এবং তার হাতে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১৩১-১৩২

Leave a comment