শিয়ারা হল তারাই যারা শুধুমাত্র আলী (রা.)-কে অনুসরণ করে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, তাঁর খিলাফত ও ইমামত ছিল স্পষ্ট বা গোপনভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগ ও মনোনয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। তারা এও বিশ্বাস করে যে, ইমামত অবশ্যই আলী (রা.)-এর বংশধরদের মধ্যেই থাকতে হবে; যদি তা কখনও তাদের বাইরে চলে যায়, তবে তা হবে হয় অন্য কারো পক্ষ থেকে অন্যায়ের কারণে, নয়তো প্রকৃত ইমামের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপূর্ণ গোপনীয়তা (তাকিয়া) রক্ষার কারণে। তাদের মতে, ইমামত কোনো সাধারণ রাষ্ট্রীয় বা নাগরিক বিষয় নয়, যা মানুষের ইচ্ছানুসারে তাদের পছন্দের একজন ইমাম নিয়োগের মাধ্যমে বৈধভাবে নিষ্পত্তি করা যায়: বরং এটি একটি মৌলিক বিষয় ও ধর্মের একটি মৌলিক স্তম্ভ। আল্লাহর রাসূলগণ এটিকে উপেক্ষা বা অবহেলা করতে পারেন না, কিংবা সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছাচারিতার উপর ছেড়ে দিতে পারেন না।
শিয়াদের মধ্যে সাধারণ ও সর্বসম্মত মতবাদ হলো নিয়োগ ও মনোনয়নের অপরিহার্যতা। তারা সকলেই বিশ্বাস করে যে, নবী ও ইমামগণকে বড় (কবীরা) ও ছোট (সগীরা) সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত ও নিষ্পাপ হতে হবে। তারা বৈধ গোপনীয়তা (তাকিয়া) প্রয়োজনের সময় ছাড়া কথায়, কাজে ও মনে সম্পৃক্ততা ও বিচ্ছিন্নতার (অর্থাৎ, সত্যপন্থীদের সাথে সম্পর্ক রাখা ও অন্যায়কারীদের থেকে দূরে থাকা) নীতিতেও বিশ্বাস করে,। এ বিষয়ে কিছু যায়দিয়ারা ভিন্ন মত পোষণ করে। এক ইমাম থেকে অন্য ইমামের কাছে ইমামত কীভাবে হস্তান্তরিত হয় এই প্রশ্নে তাদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও মতবিরোধ রয়েছে; এবং তাই, যখনই ইমামত হস্তান্তরিত হওয়া বা না হওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে, তখন বিভিন্ন সাংঘর্ষিক মত ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপিত হয়।
শিয়ারা প্রধানত তিনটি দলে বিভক্ত পাঁচটি ভিন্ন দলে বিভক্তঃ
রাফেজীরা আবার বৃহৎ তিন দলে বিভক্তঃ
ধর্মতত্ত্বের প্রশ্নে এই দলগুলোর কিছু মু’তাজিলা মতবাদের দিকে, কিছু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দিকে এবং অন্যগুলো আল্লাহর জন্য দেহ ও আকৃতি নির্ধারণকারী মতবাদের দিকে ঝোঁক রয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ
১। শাহারাস্তানি, কিতাব আল মিলাল ওয়া আন নিহাল, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদঃ আবু মাইসারা, পৃষ্ঠাঃ ১২৫

Leave a comment