৪৮৭ হিজরি সনে (১০৯৪ খ্রিস্টাব্দে) অষ্টম উবায়দি (ফাতিমি) শাসক (অষ্টাদশ ইসলামইলি ইমাম) মুসতানসিরের মৃত্যুর পর উবায়দি রাজপরিবারের পরবর্ত্তী শাসক ও ইমাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক দল তার পুত্র নিযার আল-মুসতাফা লি দ্বীনিল্লাহকে ইমাম দাবি করে। এরাই ইতিহাসে নিযারিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু এক সময় নিযার আল-মুসতাফার ভাই আহমাদ মুসতালি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তার ভাই নিযারকে বন্দি করেন। বন্দি অবস্থায় নিযারের মৃত্যুর পর তার পুত্র আল-মাহদি বিন নিযার মিশর থেকে পালিয়ে পারস্যে ইসমাইলি ধর্মপ্রচারক হাসান সাবাহর কাছে চলে যায় এবং নিযারিয়া মতাদর্শের প্রসারে কাজ করতে থাকে। এই হাসান সাবাহই ছিল কুখ্যাত হাশাশিন গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে ইসমাইলিয়া বলতে এই নিযারিয়া গোষ্ঠীকেই বোঝানো হয়। বর্তমানে তারা ‘আগাখানিয়া’ নামে অধিক পরিচিত। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল, ইউরোপ ও ভারতে প্রচুর সংখ্যক আগাখানিয়া মতাদর্শী বাসবাস করে। বর্তমানে তাদের প্রধান নেতা ফ্রান্সে বসবাসকারী ও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী করিম হাসাইন শাহ (৪র্থ আগাখান), যিনি বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভাষা অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনী একজন।
তথ্যসূত্রঃ
[১]সারজানি, রাগিব, ইসলামি ইতিহাস, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬২-১৬৩

Leave a comment