পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ইসমাইল বিন জাফর সাদিককে নিজেদের সপ্তম ইমাম দাবি করত। ১৩৯ হিজরি সালে (৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে) ইসমাইলের পূত্র মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইমামত কবুল করে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় দাবি করে যে, তিনি আত্মগোপন করে আছেন এবং অতি শীঘ্রই ইমাম মাহদি নামে আত্মপ্রকাশ করে পৃথিবীতে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। এ সময় আব্বাসি খিলাফতের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইয়ামেন, ইরাক, আরব উপদ্বীপের পূর্বাংশ ও পারস্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামাইলিয়া মতাদর্শের প্রচারকরা ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে থাকে।
২৬৮ হিজরি সনে (৮৮১ খ্রিস্টাব্দে) শামে ইসলামাইলিয়া মতাদর্শের প্রচারক উবাইদুল্লাহ আল-মাহদি (পরবর্তী সময়ে উবাইদি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা) নিজেকে মুহাম্মদ বিন ইসলাম তথা হযরত ফাতিমা রা.-এর বংশধর এবং একাদশ ইসলামাইলী ইমাম দাবি করে। ইতিহাসে উবাইদুল্লাহ আল-মাহদির অনুসারীরা ‘ফাতিমিয়া’ নামে পরিচিত হয়। ফাতিমিরা ২৯৭ হিজরি সনে (৯০৯ খ্রিস্টাব্দে) উত্তর আফ্রিকার উবাইদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, যা পরবর্তীকালীন মিশর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এরাও বাতেনী মতবাদে বিশ্বাসী। কারামিতা আর এদের আকিদা বিশ্বাস একই পার্থক্য শুধু এদের ইমাম নির্ধারণে।

Leave a comment