মিসকীন আবু মাইসারা
রাফেজী শিয়ারা সাধারণ আম মুসলিমদের ঈমানহারা করার জন্য একটি হাদীস উল্লেখ করে ধোকা দেয়। চলুন হাদীসটি দেখে আসি যা বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে-
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا فَقَالَ كَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ أَبِي إِنَّهُ قَالَ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ.
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারোজন ’আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।”[1]
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ح وَحَدَّثَنَا رِفَاعَةُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْوَاسِطِيُّ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا خَالِدٌ، – يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ الطَّحَّانَ – عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” إِنَّ هَذَا الأَمْرَ لاَ يَنْقَضِي حَتَّى يَمْضِيَ فِيهِمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً ” . قَالَ ثُمَّ تَكَلَّمَ بِكَلاَمٍ خَفِيَ عَلَىَّ – قَالَ – فَقُلْتُ لأَبِي مَا قَالَ قَالَ ” كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ” .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও রিফা’আহ ইবনু হায়সাম ওয়াসিতী (রহঃ) ….. সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা তাকে বলতে শুনলাম, শাসন কর্তৃত্ব ধারাবাহিক চলতে থাকবে যতক্ষণ না উম্মাতের মধ্যে বারোজন খলীফা অতিবাহিত হবেন। তারপর তিনি অস্ফুট আওয়াজে কিছু বললেন, যা আমি শুনতে পেলাম না। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন যে, তিনি বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশ থেকে।[2]
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” لاَ يَزَالُ أَمْرُ النَّاسِ مَاضِيًا مَا وَلِيَهُمُ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً ” . ثُمَّ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَلِمَةٍ خَفِيَتْ عَلَىَّ فَسَأَلْتُ أَبِي مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ” كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ” .
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ….. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মুসলিম শাসন থাকবে যতক্ষণ না তাদের মধ্যে বারোজন শাসক শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কথা বললেন, যা আমি শুনতে পাইনি। তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন, তিনি বলেছেনঃ সবাই কুরায়শ বংশ থেকে হবে।[3]
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” لاَ يَزَالُ الإِسْلاَمُ عَزِيزًا إِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيفَةً ” . ثُمَّ قَالَ كَلِمَةً لَمْ أَفْهَمْهَا فَقُلْتُ لأَبِي مَا قَالَ فَقَالَ ” كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ”
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আযদী (রহঃ) …… জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বারোজন খলীফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম প্রবল শক্তিধর অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কী বললেন, আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশ থেকে।[4]
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ، بْنِ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” لاَ يَزَالُ هَذَا الأَمْرُ عَزِيزًا إِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيفَةً ” . قَالَ ثُمَّ تَكَلَّمَ بِشَىْءٍ لَمْ أَفْهَمْهُ فَقُلْتُ لأَبِي مَا قَالَ فَقَالَ ” كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ” .
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ….. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শাসন কর্তৃত্ব অতি শক্তিশালী থাকবে বারোজন খলীফা পর্যন্ত। রাবী বলেন, তারপর তিনি কিছু বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশের।[5]
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا أَزْهَرُ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ انْطَلَقْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي أَبِي فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” لاَ يَزَالُ هَذَا الدِّينُ عَزِيزًا مَنِيعًا إِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيفَةً ” . فَقَالَ كَلِمَةً صَمَّنِيهَا النَّاسُ فَقُلْتُ لأَبِي مَا قَالَ قَالَ ” كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ” .
নসর ইবনু ’আলী জাহযামী আহমদ ইবনু উসমান নাওফালী (রহঃ) ….. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। আমার সাথে আমার পিতাও ছিলেন। আমি তখন তাকে বলতে শুনলাম, এ ধর্ম শক্তিমত্তাসম্পন্ন, সংরক্ষিত থাকবে বারোজন খলীফা অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। তারপর তিনি কোন কথা বললেন, লোকজনের কথাবার্তার দরুন আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম, তিনি কী বললেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশের লোক।[6]
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، – وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ – عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ كَتَبْتُ إِلَى جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ مَعَ غُلاَمِي نَافِعٍ أَنْ أَخْبِرْنِي بِشَىْءٍ، سَمِعْتَهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَتَبَ إِلَىَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ جُمُعَةٍ عَشِيَّةَ رُجِمَ الأَسْلَمِيُّ يَقُولُ ” لاَ يَزَالُ الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ أَوْ يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ ” . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” عُصَيْبَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَفْتَتِحُونَ الْبَيْتَ الأَبْيَضَ بَيْتَ كِسْرَى أَوْ آلِ كِسْرَى ” . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ كَذَّابِينَ فَاحْذَرُوهُمْ ” . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” إِذَا أَعْطَى اللَّهُ أَحَدَكُمْ خَيْرًا فَلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ ” . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ” أَنَا الْفَرَطُ عَلَى الْحَوْضِ ” .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ….. আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) এর নিকট আমার গোলাম নাফি’র মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করলাম যে, আপনি আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে অবহিত করুন যা আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন। রাবী বলেন, তিনি আমাকে লিখলেনঃ জুমুআর দিন সন্ধ্যায় যে দিন (মায়েজ) আসলামীকে রজম (ব্যভিচারজনিত অপরাধের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যা) করা হয়, সেদিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, এ দীন অব্যাহতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ কিয়ামত কায়িম হয় অথবা তোমরা বারোজন খলীফা কর্তৃক শাসিত হও, এদের সকলেই হবে কুরায়শ থেকে। আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, মুসলিমদের একটি ছোট্ট দল জয় করবে শ্বেতভবন যা কিসরা কিংবা কিসরা বংশীয় রাজমহল। আমি আরও বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের প্রাক্কালে অনেক মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে, তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।” আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, “তোমাদের কাউকে যখন আল্লাহ কল্যাণ (সম্পদ) দান করেন তখন সে নিজের এবং তার পরিবারস্থ লোকজন দ্বারা ব্যয় শুরু করবে।” আমি তাকে আরও বলতে শুনেছি, “হাওযে (কাউসারে) আমি তোমাদের অগ্রগামী হবো।”[7]
ইসলাম বিকৃতিকারী রাফেজীদের মিথ্যার উপর হামানদিস্তা
এবার চলুন শিয়াদের প্রতারণা আর ধোকাবাজী দেখে আসি। শিয়ারা হাদীসে বর্ণিত বারো খলিফাহকে বা আমিরকে (শাসক) অত্যন্ত চতুরতার সাথে বারো ইমাম বানিয়ে দিয়েছে ।তাও আবার ওদের কল্পিত বারো ইমাম , যাদের শেষজন আবার ১৩০০ বছর ধরে নাকি সামারার গুহায় আত্নগোপন করে আছে!! অথচ একটি হাদীসেও ইমাম শব্দটিও পর্যন্ত নেই। তাদের আরো বিশ্বাস হলো এরা সবাই হবে আলী রাঃ এর বংশধরদের মধ্য থেকে অথচ বর্ণিত হাদিসগুলোর সকল বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে বারো জন খলিফা বা শাসক হবেন কুরাইশ থেকে এবং এই বারোজন শাসক দ্বারা মুসলিমরা শাসিত হবে। শিয়াদের ধোকাপূর্ণ দাবি অনুযায়ী যদি এই হাদীস দ্বারা তাদের বারো ইমামকে বোঝানো হয়ে থাকে তাহলে রাসুলুল্লাহ সাঃ কোন বক্রতা ছাড়াই কুরাইশ না বলে সরাসরি আলী (রা) এর বংশ উল্লেখ করতেন । একইভাবে যদি তারা সবাই আলী (রা) এর বংশ থেকে এসে থাকেন তাহলে প্রথমে আলী রাঃ, এরপর তাঁর সন্তান হাসান রাঃ, এরপর হুসাইন রাঃ, এরপর তাঁর সন্তান, এরপর তার সন্তান এভাবে যদি ধরা যায় তাহলে বারোজনের এই হিসাব হিজরী তৃতীয় শতকেই শেষ হয়ে যায়। তাহলে পরবর্তি আলী বংশের কি হবে? আরও মজার বিষয় মুসলিম ইতিহাসে একমাত্র আলী (রা) ও তার প্রায় ১৫ ছেলের মধ্যে শুধু তার বড় ছেলে হাসান (রা) খলিফা হয়েছিলেন। তাও হাসান (রা) এর খিলাফতকে আলী (রা) এর খিলাফতের অংশ বলে গণ্য করা হয়। যদি এই দুই জনের খিলাফতকে আলাদা খিলাফত ধরিও তবে আলী বংশের মাত্র দুইজন দ্বার শাসিত হয়েছে মুসলিম উম্মাহ। শিয়াদের বাকি ১০ জন ইমামের কেউই শাসক হননি। ওদের শেষ ইমামতো ওদের মতে আজ ১৩০০ বছর ধরে সামারার গুহায় পলাতক। সুতরাং উপরে বর্ণিত হাদীসের সাথে শিয়াদের এই কল্পিত ইমামতের কোন সংযোগই নেই। আর এই যায়গা থেকেই উৎপত্তি হতে শুরু করেছে শিয়াদের নানা অবাস্তব বিশ্বাসের। কেউ কেউ আবার তাদের পছন্দের লোককে ইমাম বলে আখ্যা দিয়ে তার সম্বন্ধে নানা বানোয়াট বিশ্বাসের অবতরণা করেছে। এরপরও এ ব্যাপারে শিয়াদের বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে এতো বেশী মতপার্থক্য করেছে যে এর দ্বারা তাদের নিজেদের বিশ্বাসই টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ) তার লিখিত ‘তাবীল আল আহাদীস‘ গ্রন্থে বারোজন খলিফার হাদীস উল্লেখ করে বলেনঃ[8]
একইভাবে, তিনি (রাসূল সা) বলেছেন: “এই দ্বীন ততক্ষণ পর্যন্ত বিজয়ী (বা প্রবল) থাকবে, যতক্ষণ না বারোজন খলিফার আগমন ঘটে।”
এখানে একটি সংশয় জাগতে পারে যে, নবীজি (সা.) যদি এর দ্বারা ‘খিলাফতে নবুওয়াত’ বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা তো ত্রিশ বছরের সমাপ্তি এবং প্রথম চার খলিফার শাসনের সাথেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।[9] কিন্তু তিনি যদি এর দ্বারা ন্যায়বিচার ও সততার শাসন বুঝিয়ে থাকেন, তবে তাঁদের পরবর্তী যুগে আসা আরও অনেকের মাঝেও এই গুণাবলী উত্তমরূপে বিদ্যমান ছিল। আবার, যদি তিনি অনিয়মিত ক্রমে একের পর এক আগত বারোজন খলিফাকে বুঝিয়ে থাকেন, তবুও ন্যায়পরায়ণ ও সৎকর্মশীলদের সংখ্যা তার (বারো জনের) চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
বাস্তবতা হলো, জাতির মধ্যে অবক্ষয় এবং পরিবর্তন ধাপে ধাপে আসে। প্রথম চার খলিফার যুগে যা দেখা গিয়েছিল, অন্যদের যুগে তা পরিলক্ষিত হয়নি। একইভাবে, সিরিয় শাসনামলে (উমাইয়া যুগে) যা দেখা গিয়েছিল, পরবর্তীতে আর তা পাওয়া যায়নি। নবীজি (সা.) কেবল ওই দুটি স্তর বা মর্যাদাকেই গণ্য করেছেন এবং এরপর যা ঘটেছে তার প্রতি খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করেননি।
এভাবেই, দ্বাদশ খলিফার (শাসনের) মাধ্যমে উভয় স্তরই পূর্ণতা লাভ করে; তাঁরা সকলেই ছিলেন কুরাইশ বংশের। তাঁরা হলেন: প্রথম চার খলিফা (খুলাফায়ে রাশেদীন), মুয়াবিয়া, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের, আব্দুল মালিক ও তাঁর চার পুত্র, এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজ। এরপর যা ঘটার, তা-ই ঘটেছে।
তথ্যসূত্রঃ
[1] সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকাশন, ভলিঃ ৬, হাদীসঃ ৭২২২
[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৫৯৯
[3] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৬০০
[4] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৬০২
[5] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৬০৩
[6] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৬০৪
[7] সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, ভলিঃ ৪, হাদীসঃ ৪৬০৫
[8] শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী, তাবীল আল হাদীস, পৃষ্ঠাঃ ৭৯-৮০
[9] শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ) এখানে সাফীনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসের দিকে ইংগিত করেছেনঃ
তিনি (সাফীনাহ্ (রাঃ)) বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রাসূল (সা.) এ বলেছেন] খিলাফত ত্রিশ বছর অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর তা রাজতন্ত্রে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। বর্ণনাকারী সাফীনাহ (রাঃ) বলেন, তা এরূপে বর্ণনা করে নাও- আবূ বা সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফতকাল দু বছর, ’উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকাল দশ বছর, উসমান (রাঃ)-এর বারো বছর এবং ’আলী (রাঃ)-এর ছয় বছর। (হাসান: মুসনাদে আহমাদ ১৮৪৩০, আবূ দাউদ ৪৬৪৬, তিরমিযী ২২২৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৪৫৯, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৮১৫৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৯৪৩।)


Leave a comment