আবু মাইসারা
আমরা পূর্বের পর্বে দেখিয়েছি যে রাফেজীরা আল্লাহর নাযিলকৃত পবিত গ্রন্থ আল কোরআনের উপর ঈমান রাখেনা। এরা সেই প্রাচীন আরব কাফের আর ইহুদী খ্রিস্টানদের মত পবিত্র কোরআনকে বানোয়াট বলে (নাউজুবিল্লাহ)। পৃথিবীর ইতিহাসে যত কাফের ফিরকা সৃষ্টি হয়েছে কোন ফিরকাই কোরআন নিয়ে কোন কথা বলার দুঃসাহস দেখায়নি কারণ কোরআন উপর অভিযোগ তোলা মানে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া। কাদিয়ানি ফিরকা হোক, খারিজি ফিরকা হোক মুসলিম বলে পরিচয় দেওয়া কেউ কোরআন নিয়ে কোন বাজে কথা বলার দুঃসাহস দেখায়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র রাফেজী ফিরকাই কোরআনকে বিকৃত বলে বিশ্বাস করে এবং টা প্রচার করে বেড়ায় (নাউজুবিল্লাহ)। কোরআনকে বিকৃত বলে বিশ্বাস করলে কেউ কি মুসলিম থাকে?! সত্যি বলে রাফেজীদের পক্ষে কোরআনের উপর ঈমান থাকা সম্ভব নয় আর মুসলিম হওয়াও সম্ভব নয়। রাফেজীদের ইমান কেন কোনভাবেই কোরআনের উপর থাকা সম্ভব নয় তা বিস্তারিত জানতে আমরা পাঠকদের আমদের অনূদিত ও ইমামে আহলে সুন্নাহ আব্দুশ শাকুর লাখনভী (রহ) এর তানবীহুল হায়েরীন কিতাবটি পড়ার অনুরোধ করছি। যাই হোক আর কথা না বাড়িয়ে চলুন রাফেজীদের কোরআন বিকৃতি বিশ্বাসের আরোও একটি বর্ণনা দেখে আসি।
আবিল হাসান আলী বিন ইবরাহিম আল কুম্মী আর রাফেজী তার লিখিত তাফসীর ‘তাফসীর আল কুম্মী’-এ পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ১০ নং আয়াত [তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত,যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। তাদের অধিকাংশই ফাসিক। ] এর ব্যাখ্যায় একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। চলুন হাদীসটি দেখে আসি।
হাদীস
حدثني أبي، عن ابن أبي عمير، عن ابن سنان، قال: قرأت عند أبي عبدالله (عليه السلام): ﴿كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ﴾، فقال أبو عبدالله (عليه السلام): خير أمة يقتلون أمير المؤمنين، والحسن والحسين (عليهم السلام)؟! فقال القارئ: جُعلتُ فداك، كيف نزلت؟ قال: نزلت: «كُنْتُمْ خَيْرَ أَئِمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ ـ ألا ترى مدح الله لهم [بأن قال:] ـ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ».
আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবি উমায়ের থেকে, তিনি ইবনে সিনান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম জাফর সাদিক আ.)-এর নিকট উপস্থিত থেকে কাউকে এই আয়াতটি পড়তে শুনলাম: “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি (উম্মাতিন) যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে…”। তখন আবু আব্দুল্লাহ (আ.) বললেন: “সর্বোত্তম জাতি (উম্মাতিন)— যারা কি না আমিরুল মুমিনীন (আলী আ.), হাসান এবং হোসাইনকে (আ.) হত্যা করে?!” তখন পাঠকারী ব্যক্তিটি বললেন: “আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই! তাহলে আয়াতটি কিভাবে নাজিল হয়েছে?” তিনি (ইমাম) বললেন: এটি নাজিল হয়েছে এভাবে— “তোমরাই সর্বোত্তম ইমাম (আইম্মাতিন) যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে।” তুমি কি দেখছ না যে, আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করে বলছেন: “তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখো।” [১]
পাঠক এই হলো আল্লাহর বাণীর ব্যাপারে রাফেজীদের বিশ্বাস । এভাবেই এই রাফেজীরা পবিত্র কোআনকে বিকৃত বলে এবং তা প্রচার করে বেড়ায় ইরানিদের টাকার জোড়ে। এরা গণহারে মুসলিমদের কাফের বানাচ্ছে। রাফেজীদের টুপি পাগড়ী দেখে ধোকা খাবেননা। এরা ইসলামের গন্ডীর বাহিরে। ইহুদি, খ্রিস্টা্ কাদিয়ানি,নুসাইরীরা যেমন মুসলিমদের কোরআনের শত্রু এই রাফেজীরাও একই রকম কোরআনের শত্রু। সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দেওয়ার জন্য এরা নিজেদের আহলে বাইতের প্রেমিক সাজে ঠিক যেমন কাদিয়ানিরা টুপি পরে পাগড়ী পরে মানুষদেরকে কাফের বানাচ্ছে।

তথ্যসূত্র
[১] তাফসীর আল কুম্মী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৪, মাওসুয়াতাল ইমাম মাহদী, কুম্ম


Leave a comment