মুখতার আস সাকাফি – হোসাইন (রা)-এরর প্রতিশোধ গ্রহণকারী নাকি দুমুখো রাজনীতিবিদ?

(মূল পোস্ট-Al Mukhtar Al Thaqafi – Avenger of Al Husain or Two-Faced Politician?)

মুখতার আস সাকাফি বরাবরই সুন্নি এবং শিয়াদের মধ্যে এক বিতর্কিত চরিত্র। প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে পরিবর্তনের একটি ঢেউ তুলেছিল। হোসাইন (রা)-এর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁর ডাক বা আহ্বানের গুরুত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সেই আহ্বানের কারণেই তাঁর অন্যান্য অনেক কাজকে উপেক্ষা করা হয়। এই নিবন্ধে আমরা মুখতারের বিশ্বাস এবং তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর আলোকপাত করব যাতে তাঁর এই বিশাল ব্যক্তিত্বের স্বরূপ উন্মোচিত হয়।

এই নিবন্ধের উদ্দেশ্যে আমরা মুখতার সম্পর্কে কেবল আবু মিখনাফের বর্ণনাগুলোই উল্লেখ করব। আবু মিখনাফ হলেন ইতিহাসের সবচেয়ে আদি এবং নির্ভরযোগ্য শিয়া সূত্র। আবু মিখনাফের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা আল-তুস্তুরি তাঁর ‘মুজাম আল-রিজাল ৮/৬২০’-এ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই বলে যে, তাঁর বই “মাকতাল আল-হুসাইন (আ.)”, যা আল-তাবারী এবং আবু আল-ফারাজ বর্ণনা করেছেন, তা মাকতাল (আল-হুসাইনের মৃত্যুর বর্ণনা) হিসেবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য; কারণ তিনি সাধারণত মাত্র একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করেন।” একইভাবে আল-নাজাশি, আবু মিখনাফ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ৩২০ পৃষ্ঠায় বলেছেন, “তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।”

যদি কোনো পরিস্থিতিতে শিয়ারা আল মুখতার সম্পর্কে আবু মিখনাফের প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাঁর ইতিহাসের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না; কারণ তাঁর সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যের বিশাল অংশই আবু মিখনাফের বর্ণনার মাধ্যমে এসেছে।

নিচে আমরা এমন কিছু বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করব যা আল মুখতার সম্পর্কে বেশিরভাগ শিয়াদের জানা নেই:

  • শিয়ারা প্রাথমিকভাবে মুখতার আস সাকাফিকে ঘৃণা করত
  • উমর বিন সাদ (রহ) এবং তাঁর ছেলের মৃত্যু
  • আল মুখতারের ফেরেশতারা
  • মুখতার আস সাকাফি দাবি করেন যে মোহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ ছিলেন মাহদি এবং ইব্রাহিম বিন আল-আশতারের সন্দেহ
  • মুখতার আস সাকাফি বিশ্বাসঘাতকতা করার আগে ইবন আল-জুবায়েরে (রা)-এর কাছে আনুগত্যের শপথ নেন

শিয়ারা প্রাথমিকভাবে মুখতার আস সাকাফিকে ঘৃণা করত

আবু মিখনাফ আত-তাবারী ৩/১০৯৭-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, “শিয়ারা মুখতারকে দোষারোপ করত এবং অভিশাপ দিত কারণ তিনি ‘মুজলিম সাবাত’-এ হাসান বিন আলী (রা) কে ছুরিকাঘাত করার কারণ হয়েছিলেন।”

সময়ের সাথে সাথে হোসাইন (রা)-এর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বানের কারণে অনেকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। তবে অন্য অনেকে তাঁর মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, যেমন উবাইদুল্লাহ বিন আলী বিন আবি তালিব, যিনি ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর পক্ষ নিয়েছিলেন (দেখুন ৩/১১৫৭)। উবাইদুল্লাহ পরবর্তীতে ৬৭ হিজরি সালে মুখতারের বাহিনীর হাতে নিহত হন।

মুখতার সম্পর্কে আহলে বাইতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে শিয়া একাডেমিক নাদের জাভিরির এই আকর্ষণীয় নিবন্ধটি দেখুন

উমর বিন সা’দ এবং তাঁর ছেলের মৃত্যু

আবু মিখনাফ ৩/১১৪০-এ বর্ণনা করেছেন যে, উমর বিন সা’দের মৃত্যু কোনো যুদ্ধে হয়নি, বরং অত্যন্ত অদ্ভুত পরিস্থিতিতে হয়েছিল। মুখতার শুরুতে উমর বিন সা’দকে লিখেছিলেন যে তিনি তাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং অতীতে তার কর্মকাণ্ডের জন্য (অর্থাৎ হোসাইন (রা) কে হত্যাকারী সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া) তিনি উমর বিন সা’দের কোনো ক্ষতি করবেন না মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তিনি এটি লিখিতভাবে দিয়েছিলেন এবং কুফার বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে তা জানিয়েছিলেন। যদিও তিনি এতে একটি ব্যতিক্রমী শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন যা হলো, “ইল্লা আন ইয়াহদিসা হাদাসান” (إلا أن يحدث حدثاً), যার অর্থ: যদি না সে এমন কোনো নতুন কাজ করে যা এর দাবি রাখে।

আবু মিখনাফ আল বাক্বিরের উদ্ধৃতি দিয়েছেন যিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মুখতার এখানে একটি দ্ব্যর্থবোধক অর্থ উদ্দেশ্য করেছিলেন এবং এই ক্ষেত্রে তার অর্থ ছিল, “যতক্ষণ না সে মলত্যাগ করে।” ভাষাগতভাবে ‘আহদাসা’ শব্দটি অপরাধ করা এবং মলত্যাগ করা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে পারে; তবে এই ধরণের সাক্ষ্যের প্রেক্ষাপটে এটি কেবল পূর্বোক্ত (অপরাধ করা) অর্থেই ব্যবহৃত হয়। অন্য কথায়, মুখতার উমর বিন সা’দকে একটি মিথ্যা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং তাকে কুফায় বসবাসের সুযোগ দিয়েছিলেন যতক্ষণ না হোসাইন (রা)-এর প্রতিশোধ নেওয়ার সঠিক সময় আসে।

যখন মুখতার সময় সঠিক অনুভব করলেন, তখন তিনি উমর বিন সা’দকে শিরশ্ছেদ করার জন্য লোক পাঠান। তারা যখন তার মাথা মুখতারের কাছে নিয়ে আসে, তখন উমর বিন সা’দের ছেলে হাফস বিন উমর তাঁর সাথেই ছিলেন। মুখতার তখন তাকে উপহাস করে বলেন, “তুমি কি এই মাথাটি চেনো?” হাফস তখন বলেন, “আমরা আল্লাহর এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে! তাঁর পর জীবন আর বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।” মুখতার উত্তর দিলেন, “তুমি ঠিক বলেছ, কারণ তুমিও তাঁর পর আর বেঁচে থাকবে না।” এরপর মুখতার হাফসকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং তার শিরশ্ছেদ করেন।

মুখতার আস সাকাফির ফেরেশতাগণ

আবু মিখনাফ ৩/১১৩৮-এ বর্ণনা করেছেন যে, ৬৬ হিজরি সালে মুখতার ক্ষমতায় আসার পর সুরাকা বিন মিরদাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। সুরাকা পরাজিত হওয়ার পর মুখতারের কাছে ক্ষমার প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি কসম খেয়ে বলেন যে, তিনি মুখতারের পক্ষে ফেরেশতাদের যুদ্ধ করতে দেখেছেন। মুখতার এই সুযোগটিকে প্রচারণার কাজে লাগান এবং সুরাকাকে জনসম্মুখে ফেরেশতা দেখার সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেন। সাক্ষ্য দেওয়ার পর মুখতার তাকে একান্তে বলেন, “আমি জানি যে তুমি কোনো ফেরেশতা দেখনি, তুমি কেবল জীবন বাঁচানোর জন্য এটি বলেছ। সুতরাং এখান থেকে তোমার যেখানে খুশি চলে যাও এবং আমার লোকদের আমার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলো না।”

মুখতার আস সাকাফির দাবি: মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ ছিলেন মাহদি এবং ইব্রাহিম বিন আল-আশতারের সন্দেহ

আবু মিখনাফ ৩/১০৯৪, ১০৯৯-এ বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াজিদের মৃত্যুর ছয় মাস পর রমজান মাসের মাঝামাঝি এক জুমাবারে মুখতার কুফায় প্রবেশ করেন। তিনি শিয়াদের নিজের পতাকাতলে একত্রিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নবীর (সা.) বিশিষ্ট সাহাবী সুলাইমান বিন সুরাদ আল খুজাইর পেছনে কাতারবদ্ধ হন। মুখতার তখন তাদের বলেন যে, তাকে মাহদি মুহাম্মদ বিন আলী ইবন আল-হানাফিয়্যাহ একজন বিশ্বস্ত এবং মনোনীত মন্ত্রী হিসেবে পাঠিয়েছেন।

এই তথ্যটি সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আশআরি এবং আন-নাওবাখতির মতো আদি শিয়া ঐতিহাসিকদের দ্বারাও সমর্থিত। তারা ‘ফিরাক আশ-শিয়া’ (পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪) গ্রন্থে বলেছেন: “একটি দল বলেছিল যে আলী (রা.)-এর পর ইমাম হলেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবি তালিব ইবন আল-হানাফিয়্যাহ। কারণ তিনি বাসরা যুদ্ধের দিন (জঙ্গে জামাল) তার ভাই হাসান বা হোসাইনের পরিবর্তে পিতার পতাকা বহন করেছিলেন।” তাদের ‘কায়সানিয়্যাহ’ বলা হয় এবং ‘মুখতারিয়্যাহ’ নামেও তারা পরিচিত; কারণ তাদের নেতা ছিলেন মুখতার বিন আবি উবায়েদ আস সাকাফি যার উপনাম ছিল কায়সান। তিনিই হোসাইন বিন আলীর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ ও উমর বিন সাদকে হত্যা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ তাকে এটি করার আদেশ দিয়েছেন এবং তিনি তার পিতার পর ইমাম।

আল-কাশশি (পৃষ্ঠা ৯৯) এটি নিশ্চিত করে বলেছেন, “মুখতার মানুষকে মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবি তালিব ইবন আল-হানাফিয়্যাহর দিকে আহ্বান করেছিলেন; তাদের কায়সানিয়্যাহ এবং মুখতারিয়্যাহ বলা হয়।”

আবু মিখনাফ ৩/১১২৩-এ বর্ণনা করেছেন যে, মুখতার শিয়াদের একটি চিঠি দেখিয়েছিলেন যা মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যাহ (রা)-এর পক্ষ থেকে এসেছে বলে দাবি করা হয়। এই চিঠিতে মুখতারকে তাঁর মনোনীত মন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল যাতে তিনি তাঁর হয়ে বিদ্রোহ পরিচালনা করতে পারেন। তিনি এটি করেছিলেন কুফাবাসীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য। মুখতারের অন্যতম প্রধান অনুসারী ইব্রাহিম বিন আশতার আন-নাখায়ি স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি চিঠিটির সত্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন; তা সত্ত্বেও তিনি মুখতারের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের সাথে একমত হওয়ায় তাকে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে ইব্রাহিম বিন আশতার সফলভাবে উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদকে পরাজিত ও হত্যা করেন। তবে তিনি কখনোই মুখতারকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি, যার কারণে তাঁর বাহিনীর অনেক সৈন্য দলত্যাগ করে পুনরায় মুখতারের বাহিনীতে ফিরে যায় (দেখুন ৩/১১৫৪)। মুখতারের মৃত্যুর পর ইব্রাহিম বিন আশতার ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন, যা নির্দেশ করে যে প্রথম থেকেই মুখতারের প্রতি তাঁর তেমন কোনো আনুগত্য ছিল না (দেখুন ৩/১১৬০)।

মুখতার আস সাকাফি ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর কাছে আনুগত্যের শপথ নেন এবং পরে বিশ্বাসঘাতকতা করেন

আবু মিখনাফ ৩/১০৯৯-এ বর্ণনা করেছেন যে, হোসাইন (রা)-এর শাহাদাতের পর মুখতার মক্কায় যান। তিনি ইবনুজ জুবায়ের (রা) কে বলেন, “আমি আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ নিতে এসেছি, তবে শর্ত হলো আপনি আমাকে ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেবেন না এবং আমিই হব আপনার কাছ থেকে অনুমতি প্রাপ্ত প্রথম ব্যক্তি। এছাড়া আপনি ক্ষমতায় গেলে আমাকে সর্বোচ্চ পদমর্যাদা দেবেন।”

এই প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবেই মুখতার আস সাকাফিকে একজন এমন রাজনীতিবিদ হিসেবে ফুটিয়ে তোলে যিনি কেবল নিজের স্বার্থের চিন্তায় মগ্ন ছিলেন।

আবু মিখনাফ আরও বর্ণনা করেছেন যে, এরপর মুখতার ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর অধীনে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। হোসাইন (রা)-এর শাহাদাতের পর পাঁচ মাস পর্যন্ত তিনি ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর মিত্র হিসেবে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি খবর পান যে কুফাবাসীদের একজন নেতার প্রয়োজন। ঠিক তখনই তিনি কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

কুফায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এবং ক্ষমতা দখলের মাত্র এক বছর পরেই মুখতার ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করেন। আবু মিখনাফ ৩/১১৪৫-এ বর্ণনা করেছেন যে মুখতার লিখেছিলেন: “আমি খবর পেয়েছি যে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান আপনার বিরুদ্ধে একটি সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে এবং আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই।” ইবনুজ জুবায়ের (রা) বাইরে থেকে এই সাহায্য গ্রহণ করলেও তিনি বিশ্বাসঘাতকতার সন্দেহ করেছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে মুখতারের পাঠানো সাহায্যকারী বাহিনীটি আসলে মদিনা দখলের জন্য পাঠানো একটি সৈন্যদল, যা তখন ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর শাসনাধীন ছিল; এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল তাঁর রাজধানী মক্কা অবরোধ করা। ইবনুজ জুবায়ের (রা) তখন আব্বাস বিন সাহল বিন সাদকে পাঠান, যিনি এই ষড়যন্ত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং শেষ পর্যন্ত মুখতারের বাহিনীকে পরাজিত করেন।

এই কর্মকাণ্ডগুলোই শেষ পর্যন্ত এক বছর পর মুখতার আস সাকাফির পতন ডেকে আনে যখন তিনি ইবনুজ জুবায়ের (রা)-এর বাহিনীর হাতে পরাজিত ও নিহত হন, এবং লক্ষ্যণীয় যে তাঁকে হত্যাকারীরা তাঁর আদি শত্রু বনু উমাইয়্যাহর কেউ ছিল না।



Leave a comment