মেনু

রাফেজীদের হাত থেকে ইসলাম রক্ষায় উসমানী খলিফাদের জিহাদ

বর্তমানে উসমানী খেলাফত নিয়ে খুব কথা হচ্ছে, বিভিন্ন মুভি তৈরী হচ্ছে।সমস্যা এখানে নয় সমস্যা হলো এমন কিছু লোক উসমানী খেলাফত নিয়ে কথা বলছে যাদের কাছে শিয়া সুন্নী বিভেদ করা উচিত নয় বরং এক হয়ে যাওয়া উচিত। আসলে এরা মূর্খ। এরা রাফেজী সম্পর্কে কিছু জানেনা, ইতিহাসও জানেনা। এইসব অযোগ্য লোকদের কারণে মুসলিমরা শিয়াদের ফাদে পড়ছে। আজ সংক্ষেপে উসমানী খেলাফত বনাম রাফেজী শিয়ার ব্যাপারে লিখছি।

শাহ ইসমাইল সাফাবী পারস্য দখল করে সেখানে শিয়া সাফাবী সাম্রাজ্য ( ইসনা আশারিয়া) প্রতিষ্ঠা করেন ১৫০২ থেকে ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।চলুন এবার দেখে আসি উসমানি খলিফারা এই রাফেজী শিয়া সাম্রাজ্যের সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন। আশা করি ঔসব মূর্খগুলো এতে কিছুটা সংশোধন হবে।

যুদ্ধ ১ঃ

শিয়া সাফাভী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর উসমানী সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদ তাহার রাজ্যের রাফেজী শিয়াদের দমন শুরু করেন এবং তাহার রাজ্যে রাফেজী শিয়া মতবাদ প্রচার নিষিদ্ধ করেন।১৫১১ সালে বায়েজীদ চার হাজার সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন যুদ্ধের জন্য।এই যুদ্ধ সিভার্সের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এতে বায়েজীদের বাহিনী জয়ী হয়।রাফেজী শিয়ারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

যুদ্ধ ২ঃ

বায়েজিদের পর ক্ষমতায় বসেন প্রথম সেলিম। তার রাজ্যের বসবাসকারী সত্তর হাজার রাফেজী শিয়াদের জন্য তিনি গুপ্তচর নিয়োগ করেন।পরবর্তীতে তাদের ষড়যন্ত্রের প্রমান পান।বিচার স্বরুপ চল্লিশ হাজার শিয়া রাফেজীকে হত্যা করেন ( জাস্ট কল্পনা করুন)। পরবর্তীতে ১৫১৪ সালে সেলিম ১ লক্ষ চল্লিশ হাজার সৈন্য এবং তিনশত কামানসহ যুদ্ধের জন্য শাহ ইসমাইলের বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করেন। ১৪ ই আগস্ট চালডিরানের রনক্ষেত্রে রাফেজীরা উসমানীদের নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

যুদ্ধ ৩ঃ

১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সোলায়মান প্রথমবার রাফেজী সাম্রাজ্যে আক্রমন করেন এবং তাব্রিজ,মসুল আর বাগদাদ দখল করেন। রাফেজী শিয়ারা এবারও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

যুদ্ধ ৪ঃ

সুলতান সোলায়মান ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দে আবারও শিয়া রাজ্যে হামলা করে তাব্রিজের ভ্যান দূর্গ দখল করে নেন।

যুদ্ধ ৫ঃ

সুলতান সোলায়মান ১৫৫৩ সালে তৃতীয়বারের মতো শিয়া রাজ্য হামলা করেন এবং এরজেরুম দূর্গ দখল করে নেন।

যুদ্ধ ৬ঃ

সুলতান সোলায়মান ১৫৫৪ সালে চতুর্থবারের মতো শিয়া রাজ্যে হামলা চালান। অর্থাৎ সুলতান সোলায়মান চারবার শিয়াদের বিরুদ্ধে হামলা করেন।

যুদ্ধ ৭ঃ

শিয়াদের শাহ খুদাবন্দার সময়ে উসমানীরা আবার রাফেজী শিয়ারাজ্যে হামলা করে আজারবাইজান দখল করে নেয়।

যুদ্ধ ৮ঃ

১৫৮৭ সালে সুলতান তৃতীয় মুরাদ রাফেজী শিয়া রাজ্য পারস্যে হামলা করেন এবং রাফেজী শিয়াদের পর্যুদস্তু করেন।

যুদ্ধ ৯ঃ

১৫৮৮ সালে উসমানীরা আবার রাফেজী শিয়া রাজ্যে হামলা করে কারাবাগ ও গানজ দখল করে।

যুদ্ধ ১০ঃ

১৬০২ সালে উসমানীরা আবারও শিয়া রাজ্যের সালমাস আক্রমন করে।

যুদ্ধ ১১ঃ

১৬০৩ সালে উসমানী সাম্রাজ্য ও রাফেজী শিয়াদের মধ্য আবারও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়।এ যুদ্ধে উসমানীদের পরাজয় হয়।

যুদ্ধ ১২ঃ

১৬৩০ সালে উসমানীরা আবারও শিয়া রাজ্য পারস্যে হামলা করেন। এসময় সুলতান ছিলেন চতুর্থ মুরাদ।

যুদ্ধ ১৩ঃ

শিয়াদের শাহ হুসাইন কাফের বাকের মাজলিসীর পরামর্শে পারস্যের সুন্নীদের উপর গনহত্যা চালায়। ফলশ্রতিতে ১৭২২ সালে সুন্নী আফগানরা মীর মাহমুদের নেতৃত্বে রাফেজী শিয়াদের রাজ্যে হামলা চালায়।

এই হলে সংক্ষেপে রাফেজী শিয়া রাজ্য সাফাভী সাম্রাজ্য ও উসমানীদের মধ্যকার কতিপয় যুদ্ধ।ছোটখাট আরও বহু সংঘর্ষ হয়েছে।

এখন যেসব লোক খিলাফতের আশা করে আবার শিয়াদের সাথে ঔক্য চায় তাদের বলব আপনারা ইসলামের খিলাফতের ইতিহাস জানেন না।আপনাদের মুখে খিলাফত শব্দ মানায় না।উসমানীরা কি বলদ ছিলো যে শিয়াদের দমনের জন্য একের পর এক হামলা করেছেন?? শিয়ারা ইসলামের অংশ নয়।দয়া করে ইসলামে এদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।



Leave a comment