মেনু

সিফফিনের যুদ্ধে অগ্রসর হওয়া কি আলী রা এর সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো নাকি মুসলিম মুসলিম যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা সাহাবীদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো? [মুশাজারাতে সাহাবা]

শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া (রহ)

অনুবাদঃ আবু মাইসারা

আর তাঁর ( হিল্লী রাফেজী [১]) দাবি: “নিশ্চয়ই তিনি [মুয়াবিয়া (রা) এর কথা বলছে এখানে এই রাফেজী] আলী (রা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাড়াবাড়ি করেছেন।”
শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিইয়্যা (রহ) এর জবাবঃ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিফফিনের যুদ্ধে আলী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা) এর দুই বাহিনী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। মুয়াবিয়া (রা.) শুরুতে যুদ্ধ বেছে নেওয়ার মতো লোক ছিলেন না; বরং তিনি লড়াই না করার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। পক্ষান্তরে অন্যরা তাঁর চেয়ে যুদ্ধের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল। সিফফিনের যুদ্ধ নিয়ে মানুষের মাঝে বিভিন্ন মত রয়েছে:

একদল বলে: তারা উভয়ই ইজতিহাদকারী এবং [সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত] । যেমনটি ইলমে কালাম, ফিকহ এবং হাদিস শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিত বলেন। তাদের মতে: “প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক।” তারা আরও বলেন: “তাঁরা উভয়ই মুজতাহিদ ছিলেন।” এটি আশআরীয়া, কাররামিয়া, ফুকাহায়ে কেরাম এবং অন্যদের অনেকেরই মত। এমনকি [আবু হানিফা ও শাফেয়ীর] অনুসারীদের একটি দলেরও এটি অভিমত।

কাররামিয়া সম্প্রদায় বলে: “তাঁরা উভয়ই হকপন্থী ইমাম এবং প্রয়োজনে দুজন ইমাম নিযুক্ত করা জায়েজ।”আরেক দল বলে: বরং তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট একজন সঠিক ছিলেন, কিন্তু তাকে নাম ধরে চিহ্নিত করা যায় না। এটিও তাদের একটি দলের মত।

অন্যরা বলে: কেবল আলী (রা.)-ই সঠিক ছিলেন, আর মুয়াবিয়া (রা.) ছিলেন এমন একজন মুজতাহিদ যিনি ভুল করেছেন। চার মাজহাবের ফুকাহায়ে কেরাম এবং ইলমে কালামের একদল পণ্ডিত এই মত পোষণ করেন। আবু আবদুল্লাহ বিন হামিদ এই তিনটি অভিমত আহমদ (রহ.)-এর অনুসারী ও অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন [আর এটিই অগ্রগণ্য মত]: সঠিক ছিলো যুদ্ধ না করা। যুদ্ধ থেকে বিরত থাকাই উভয় দলের জন্য কল্যাণকর ছিল; সুতরাং পারস্পরিক লড়াইয়ের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। তবে আলী (রা.) হকের দিক থেকে মুয়াবিয়া (রা.)-এর তুলনায় অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। আর এই লড়াই ছিল ফিতনার লড়াই, যা ওয়াজিবও ছিল না, মুস্তাহাবও ছিল না। যুদ্ধ পরিত্যাগ করাই উভয় পক্ষের জন্য অধিক কল্যাণকর ছিল, যদিও আলী (রা.) হকের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন।আর এটিই ইমাম আহমদ (রহ.), অধিকাংশ আহলে হাদিস এবং অধিকাংশ [ফকিহ ইমামদের] বক্তব্য। এটিই প্রবীণ সাহাবা এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন [তাবেয়ীন] তাঁদের অভিমত। এটি ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-এর বক্তব্য; তিনি সেই ফিতনার সময় অস্ত্র বিক্রি করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: “এটি ফিতনার সময় অস্ত্র বিক্রি করা।” এটি উসামা বিন যায়েদ, মুহাম্মদ বিন মাসলামা, ইবনে উমর এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এরও অভিমত। অধিকন্তু [প্রথম যুগের] মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশেরই এই মত ছিল।এই কারণেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি মাযহাব বা নীতি হলো সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা। কেননা তাঁদের ফজিলতসমূহ সুপ্রমাণিত এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য পোষণ করা ওয়াজিব। তাঁদের পক্ষ থেকে যা কিছু (বিবাদ) প্রকাশ পেয়েছে, তার কোনোটির ক্ষেত্রে তাঁদের এমন ওজর থাকতে পারে যা মানুষের কাছে অস্পষ্ট; কোনোটি থেকে হয়তো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তওবা করেছেন, আবার কোনোটি হয়তো ক্ষমাযোগ্য। সুতরাং সাহাবীগণের পারস্পরিক বিবাদের গভীরে প্রবেশ করা অনেক মানুষের অন্তরে বিদ্বেষ ও নিন্দার জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি গভীরে প্রবেশ করে সে ভুলকারী, বরং পাপী; সে নিজের এবং তার সাথে যারা এ বিষয়ে লিপ্ত হয় তাদের ক্ষতি সাধন করে। যেমনটি এ বিষয়ে যারা কথা বলেছেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে; কেননা তারা এমন সব কথা বলেছেন যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না। তারা হয় এমন ব্যক্তিকে নিন্দা করেছেন যিনি নিন্দার যোগ্য নন, অথবা এমন সব বিষয়ের প্রশংসা করেছেন যা প্রশংসার যোগ্য নয়।[এই কারণেই শ্রেষ্ঠ সালাফদের তরীকা ছিল (বিরোধপূর্ণ বিষয়ে) নীরবতা অবলম্বন করা]। তবে সালাফদের বাইরে যারা রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: মুয়াবিয়া আলীকে বাদ দিয়ে ফাসেক হয়েছিলেন—যেমনটি মুতাজিলাদের কেউ কেউ বলে থাকে। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলে: বরং তিনি (মুয়াবিয়া (রা)) কাফের ছিলেন—যেমনটি রাফেজিদের কেউ কেউ বলে থাকে। [আবার কেউ কেউ বলে:] তাঁরা উভয়ই (নাউযুবিল্লাহ) কাফের ছিলেন—যেমনটি খারিজিরা বলে থাকে। আবার কেউ বলে: তাঁদের নির্দিষ্ট একজন ফাসেক ছিলেন—যেমনটি মুতাজিলাদের কেউ কেউ বলে থাকে। আবার কেউ বলে: [বরং] মুয়াবিয়া হকের ওপর ছিলেন এবং আলী জালিম ছিলেন—যেমনটি মারওয়ানিরা (বনু উমাইয়ার উগ্র সমর্থক) বলে থাকে।অথচ কুরআন ও সুন্নাহ এটি প্রমাণ করেছে যে, উভয় দলই মুসলিম ছিল এবং যুদ্ধ না করাই ছিল সর্বোত্তম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন

:﴿وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا﴾

“যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা চড়াও হয়েছে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে মীমাংসা করো এবং সুবিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।” [সূরা আল-হুজুরাত: ৯]।

সুতরাং আল্লাহ তাদের উভয়কে মুমিন হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও তাদের মধ্যে লড়াই এবং সীমালঙ্ঘন বিদ্যমান ছিল। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ নবী ﷺ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন:

«تَمْرُقُ مَارِقَةٌ عَلَى حِينِ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهُمْ أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ»

“মুসলিমদের মধ্যে বিভেদের সময় একটি বিদ্রোহী দল (খারেজি) বের হবে। (আলী ও মুয়াবিয়ার) দুই দলের মধ্যে যারা হকের অধিক নিকটবর্তী, তারা সেই বিদ্রোহীদের হত্যা করবে।”

এই বিদ্রোহী দলটি আলীর (রা.) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল; যা প্রমাণ করে যে, মুয়াবিয়ার (রা.) দলের চেয়ে আলীর (রা.) দল হকের অধিক নিকটবর্তী ছিল।সহীহ গ্রন্থে নবী ﷺ থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি (হাসান রা. সম্পর্কে) বলেছেন:

«إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ، وَإِنَّ اللَّهَ سَيُصْلِحُ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ عَظِيمَتَيْنِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ»

“নিশ্চয়ই আমার এই সন্তান (হাসান) একজন সরদার (নেতা)। অচিরেই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুমিনদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে মীমাংসা করিয়ে দেবেন।”

আল্লাহ তাআলা হাসানের (রা.) মাধ্যমে আলী ও মুয়াবিয়ার (রা.) সাথীদের মাঝে মীমাংসা করিয়ে দিয়েছিলেন। নবী ﷺ তাদের মাঝে মীমাংসা করার কারণে হাসানের প্রশংসা করেছেন এবং উভয় দলকে ‘মুমিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাদের মাঝে লড়াই নয় বরং মীমাংসাই ছিল প্রশংসনীয় কাজ। আর যদি লড়াই করা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হতো, তবে তা পরিত্যাগ করা প্রশংসনীয় হতো না।নবী ﷺ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

«سَتَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ، وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، مَنْ يَسْتَشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ، وَمَنْ وَجَدَ فِيهَا مَلْجَأً فَلْيَعُذْ بِهِ»

“অচিরেই এমন ফিতনা আসবে যে সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পথচারীর চেয়ে উত্তম হবে এবং পথচারী ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। যে ব্যক্তি সেই ফিতনার দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।” সহীহাইন ( বুখারী ও মুসলিম) -এ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী ﷺ থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন:

“অচিরেই এমন সময় আসবে যখন একজন মুসলিমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হবে কয়েকটি ছাগল, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে; সে তার দ্বীন নিয়ে ফিতনা থেকে পলায়ন করবে।” [২]

সহীহ গ্রন্থে উসামা বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

«إِنِّي لَأَرَى الْفِتَنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ»

“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ঘরবাড়ির মাঝে ফিতনা পতিত হতে দেখছি, যেমন বৃষ্টির ফোঁটা পতিত হয়।”[৩]

আর যারা ফিতনার সময় (যুদ্ধ থেকে) বিরত থাকা এবং এ বিষয়ে সতর্কীকরণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন—যেমন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, মুহাম্মদ বিন মাসলামা এবং উসামা বিন যায়েদ (রা.)—তাঁরা আলী (রা.) কিংবা মুয়াবিয়া (রা.) কারো পক্ষেই লড়াই করেননি।

হুযাইফা (রা.) বলেছেন: “এমন কোনো মানুষ নেই যাকে ফিতনা স্পর্শ করবে না, কেবল মুহাম্মদ বিন মাসলামা ব্যতীত; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাঁর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি:

«لَا تَضُرُّكَ الْفِتْنَةُ»

“ফিতনা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।” [৪]

সা’লাবা বিন দ্ববিয়াহ [৫] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা হুযাইফা (রা.)-এর নিকট গেলাম, তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি এমন এক ব্যক্তিকে চিনি যাকে ফিতনা বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না।” এরপর আমরা বের হলাম এবং দেখলাম একটি তাবু খাটানো আছে; আমরা সেখানে প্রবেশ করে মুহাম্মদ বিন মাসলামাকে দেখতে পেলাম। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: “ফিতনা দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের শহরগুলোর কোনো কিছুর সাথেই আমি যুক্ত হতে চাই না।” উভয় হাদীসই আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ।


টীকাঃ

[১] তার পূর্ণ নাম জামালুদ্দিন আবু মনসুর হাসান ইবনে ইউসুফ ইবনে মুতাহার আল-হিল্লী (১২৫০–১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ)। এই রাফেজির লেখা কিতাব ‘মিনহাজুল কারামাহ’ মিথ্যা দাবি খন্ডনেই সায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যা (রাহ) এর জগৎবিখ্যাত ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ কিতাবটি লিখেছেন।

[২] আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি রয়েছে: বুখারী ১/৯ (কিতাবুল ঈমান, দ্বীন রক্ষার জন্য ফিতনা থেকে পলায়ন অধ্যায়), ৪/১২৭ (কিতাব বাদউল খালক, মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হলো ঐ ছাগল যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় চলে যায় অধ্যায়); সুনানে নাসাঈ (সুয়ূতী’র শরহসহ) ৮/১০৭-১০৮ (কিতাবুল ঈমান ও শরীয়ত, দ্বীন রক্ষার জন্য ফিতনা থেকে পলায়ন অধ্যায়); সুনানে ইবনে মাজাহ ২/১৩১৭ (কিতাবুল ফিতান, নির্জনতা অধ্যায়); মুসনাদ (হালাবি সংস্করণ) ৩/৬, ৪৩, ৫৭; মুয়াত্তা ২/৯৭০ (কিতাবুল ইস্তিযান, বকরি পালনের নির্দেশ অধ্যায়)।

আর ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে আছে: কোনো বস্তুর ‘শা’ফাহ’ (شعفة) হলো তার উপরিভাগ। পাহাড়ের চূড়াকে ‘শা’ফাহ’ বলা হয়। এর বহুবচন হলো ‘শা’আফ’ (شَعَفٌ), ‘শি’আফ’ (شِعَافٌ) এবং ‘শু’উফ’ (شُعُوفٌ); যার অর্থ পাহাড়ের চূড়াসমূহ। হাদিসে এসেছে:

مِنْ خَيْرِ النَّاسِ رَجُلٌ فِي شَعَفَةٍ مِنْ الشِّعَافِ فِي غُنَيْمَةٍ لَهُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ مُعْتَزِلٌ النَّاسَ

“মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার কিছু বকরি নিয়ে পাহাড়ের কোনো এক চূড়ায় অবস্থান করে, মৃত্যু আসা পর্যন্ত সে মানুষের থেকে পৃথক (নির্জনবাসী) থাকে।”

আরও দেখুন ইবনুল আসীরের ‘আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদিস’, ‘শা-আইন-ফা’ (شعف) মূলধাতু।

[৩] উসামা বিন যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি—শব্দগত কিছু পার্থক্যসহ—রয়েছে: বুখারী ৩/২১-২২ (কিতাব ফাযাইলুল মদিনা, মদিনার সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ অধ্যায়), ৪/১৯৮ (কিতাবুল মানাকিব, ইসলামে নবুওয়তের আলামতসমূহ অধ্যায়), ৯/৪৮ (কিতাবুল ফিতান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ‘আরবদের জন্য ধ্বংস ঐ অকল্যাণের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে’ অধ্যায়); মুসলিম ৪/২২১১ (কিতাবুল ফিতান ও কিয়ামতের আলামতসমূহ, বৃষ্টির বিন্দুর ন্যায় ফিতনা পতিত হওয়া অধ্যায়); মুসনাদ (হালাবি সংস্করণ) ৫/২০০।

[৪] হাদিসটি হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: সুনানে আবু দাউদ ৪/৩০০ (কিতাবুস সুন্নাহ, ফিতনার সময় কথা বলা ত্যাগ করার প্রমাণাদি অনুচ্ছেদ)। এবং এর পরবর্তী হাদিসটিও সুনানে আবু দাউদ (একই অনুচ্ছেদে) বর্ণিত। এতে ‘সা’লাবা বিন দ্ববিয়াহ’ এর কথাও রয়েছে।

[৫] ‘তাহযীবুত তাহযীব’ ৪/৪৪৩-এ এসেছে: তিনি হলেন দ্ববিয়াহ বিন হাসীন আস-সা’লাবি আবু সা’লাবা। বলা হয়: সা’লাবা বিন দ্ববিয়াহ আল-কূফী। তিনি হুযায়ফা, মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আবু বুরদাহ বিন আবু মুসা আল-আশ’আরী বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তাকে ‘আস-সিক্বাত’ (নির্ভরযোগ্য রাবী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ তার সূত্রে ফিতনা সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। দুটি সূত্রে তাকে ভুলবশত একবার ‘দ্ববিয়াহ’ এবং অন্যবার ‘সা’লাবা’ নামে নামকরণ করা হয়েছে; তবে ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা ‘দ্ববিয়াহ’ নামটিকে অধিক সঠিক বলে প্রধান্য দিয়েছেন।


তথ্যসূত্রঃ

[১] মিনহাজুস সুন্নাহ, খন্ড ৪, পৃ. ৪৪৭-৪৫২



Leave a comment