শিয়াদের উৎপত্তি ও ইতিহাস

  • আফতাহিয়া সম্প্রদায় কারা?

    আফতাহিয়ারা ইমামতের ধারা জাফর আল-সাদিক-এর পর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ আল-আফতাহের কাছে স্থানান্তরিত হওয়ায় বিশ্বাস করে। তিনি ইসমাইল বিন জাফরের-এর সহোদর ভাই ছিলেন। তাদের মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে হুসাইন ইবনে হাসান ইবনে আলী। আবদুল্লাহ ছিলেন সাদিক-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। আফতাহিয়াদের মতে, জাফর সাদিক বলেছেনঃ ইমামত ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্রের প্রাপ্য। ইমাম হচ্ছেন তিনি, যিনি আমার আসনে বসেন। আফতাহিয়াদের Continue reading

  • নাউসিয়া ফেরকা

    এরা নাউস নামক এক ব্যক্তির অনুসারী, যদিও কিছু বর্ণনা অনুযায়ী তারা নাউসা গ্রামের অধিবাসী ছিল। তাদের বিশ্বাস, ইমাম জাফর আল-সাদিক এখনও জীবিত এবং তিনি পুনরাগমন না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি বিজয়ী হবেন। সাদিকই হচ্ছেন কায়েম (উদিত হবেন) ও মাহদি (পথপ্রদর্শক)। তাদের মতে, তিনি বলেছেনঃ “যদি তোমরা দেখো যে আমার মস্তক Continue reading

  • বাকিরিয়া ও জাফরিয়ার ‘ওয়াকিফা’ কারা?

    আবু মাইসারা ওয়াকিফারা মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী যাইনুল আবিদীন ও তাঁর পুত্র জাফর আস-সাদিকের অনুসারী, যারা তাঁদের ইমামত ও বাকিরের পিতা যাইনুল আবিদীনের ইমামতে বিশ্বাস করে। তবে তাদের কেউ কেউ শুধু বাকির বা সাদিক পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, ফলে ইমামত তাঁদের বংশধরদের কাছে হস্তান্তরিত হওয়াকে স্বীকার করে না; অন্যদের মধ্যে এ বিশ্বাস বিদ্যমান। শিয়া সম্প্রদায়ের আলোচনায় Continue reading

  • ইমামিয়া শিয়াদের পরিচিতি- ভূমিকা

    আবু মাইসারা আমরা ইমামিয়া শিয়াদের পরিচিতি শাহারাস্তানি লিখিত আল মিলাল ওয়ান নিহাল থেকে হুবহু তুলে ধরছি। ইমামিয়া (শিয়া) সম্প্রদায়ের বিশ্বাস হলো যে, নবীর (সা.) পর ইমামাতের দায়িত্ব স্পষ্ট নির্দেশনা ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে আলী (রা.)-এর প্রাপ্য। এটি কোনো বর্ণনা বা গুণাবলীর মাধ্যমে নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে তাঁকেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, দ্বীন তথা ইসলামের ক্ষেত্রে ইমাম নিয়োগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো Continue reading

  • যাইদিয়া শিয়াদের ইতিহাস ও বিভক্তি-ভূমিকা

    অনুবাদঃ আবু মাইসারা যাইদিয়া এরা হলো যায়েদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালিবের অনুসারী। তাদের মতে, ইমামত ফাতিমা (রা.)-এর বংশধরদেরই প্রাপ্য এবং অন্যদের জন্য তা বৈধভাবে বহাল থাকতে পারে না। তবে, তারা যেকোনো ফাতেমি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে স্বীকার করে থাকে যিনি জ্ঞানী, খোদাভীরু, বীর্যবান ও উদার এবং যিনি তাঁর ইমামত ঘোষণা Continue reading

  • কাইসানিয়া শিয়া-ভূমিকা

    এরা হল আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-এর মুক্তদাস কাইসানের অনুসারী। কথিত আছে, কাইসান মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যার শিষ্য ছিলেন। তার অনুসারীরা তার প্রতি সীমালঙ্ঘনকারী বিশ্বাস পোষণ করত। উদাহরণস্বরূপ, তারা দাবি করত যে তার জ্ঞান সকল বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল; তিনি তাঁর দুই শিক্ষকের নিকট থেকে সকল গূঢ় রহস্য, রূপক ব্যাখ্যার ক্ষমতা এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান আহরণ করেছিলেন; তিনি Continue reading

  • ঘালী বা চরমপন্থী শিয়া কারা?-ভূমিকা

    আবু মাইসারা ঘালি শিয়ারা (চরমপন্থী) হচ্ছে তারাই যারা তাদের ইমামদের ব্যাপারে চরম সীমা অতিক্রম করেছিল। তারা ইমামদেরকে সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছিল এবং তাদের উপর দৈব গুণাবলী আরোপ করেছিল।[১] কখনও তারা একজন ইমামকে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য করত, আবার কখনও আল্লাহকে মানুষের সাথে সাদৃশ্য করত।[২] এভাবে তারা দুটি চরমপন্থায় পতিত হয়েছিল। ঘালিয়াদের এই ভ্রান্ত ধারণাগুলোর উৎপত্তি Continue reading

  • সাবাইয়া বা তাবাররাইয়া শিয়া কারা?

    আবু মাইসারা গালি শিয়াদের প্রথম দল হলো সাবাইয়া। এরা হলো আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী। সেই আবদুল্লাহ যে আলী (রা)-কে বলেছিলেন, “আনতা আনতা” অর্থাৎ “আপনিই আল্লাহ”। এরপর আলী (রা.) তাকে টেসিফোনে (মাদায়েন) নির্বাসিত করেন। আবদুল্লাহ সম্পর্কে বলা হয় তিনি ছিলেন একজন ইহুদি, যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইহুদি থাকাকালীন তিনি বলতেন যে, মূসা (আ.)-এর ওয়াসী (ওছী/উত্তরাধিকারী) ছিলেন ইয়াশা বিন নূন। Continue reading

  • তাফদিলিয়া শিয়া কারা?

    আবু মাইসারা এই সম্প্রদায়ভুক্ত শিয়াগণ সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের উপরে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বেশী ফজিলত বা মর্যাদা দেন বলে এই নামকরণ করা হয়। কিন্তু ভাই বলে অন্য কোন সাহাবীকে গালি দেয়া বা কাফির বলা কিংবা তাঁদের প্রতি বিশেষ পোষণ করা—কোনটাই এঁদের মধ্যে ছিল না। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন আরবী নাহু বিদ্যার জনক Continue reading

  • মুখলিসীন শিয়া কারা?

    আবু মাইসারা ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাজির, আনসারদের মধ্যে অনেকেই আলী রা এর সাথে চলাচল করতেন, গল্প করতেন, আড্ডা দিতেন, ইসলামিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।এদেরকেই মুখলিসীন শিয়া বলা। আমরা যেমন কথার ধরণ, চালচল্ন, ব্যবহার ইত্যাদির কারণে কারো কারো সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হই, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলি কিন্তু অন্য দ্বীনি ভাইকে হিংসা করিনা, ঘৃণা করিনা তেমনি Continue reading