সংকলনঃ ফরিদ বাহরাইনী
অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ আবু মাইসারা
কারবালার নামে গল্প বানানো শিয়াদের একটি দীর্ঘ এবং প্রথাগত প্রক্রিয়া। ইতিহাসে বিশেষ করে কারবালার ঘটনার পর থেকে শিয়া সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্টরা হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত, তার সাহসিকতা ও ত্যাগের কাহিনী নানা রূপে প্রবর্তন করেছেন। সময়ের সাথে সাথে এই কাহিনীগুলোতে অতিরঞ্জন, পরিবর্তন এবং নাটকীয়তা যোগ করার মাধ্যমে এক ধরনের কাল্পনিক গল্প রচিত হয়েছে। এসব গল্প বিভিন্ন সময়ে নানা রূপে মানুষের মন ও আবেগ আকৃষ্ট করতে লেখা হয়েছে এবং এগুলো শিয়াদের ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের মধ্যে গভীরভাবে সমধিক।
কারবালার গল্প বলা বা লিখার সময় শিয়ারা যুগে যুগে কাল্পনিক তথ্য বিশাষ করে হুসাইন (রা.)-এর সঙ্গে যুদ্ধের সৈন্য সংখ্যা, নিহত শহীদদের সংখ্যা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত বা রূপান্তরিত করে বর্ণনা করেছে। যেমন, আবু মিখনাফের প্রাথমিক বর্ণনার তুলনায় পরবর্তী সময়ে সৈন্য ও নিহত শহীদের সংখ্যা অতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই যুগে যুগে শিয়ারা কারবালার নামে বিশদ, দীর্ঘ এবং অনেক সময় অতিরঞ্জিত গল্প রচনা করেছে যা দুর্বল ঐতিহাসিক তথ্যের উপরে ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল। এই গল্পগুলোতে ব্যতিক্রমী ঘটনা, অতিপ্রাকৃত উপাদান ও নাটকীয় আবহাওয়া যুক্ত করে শিয়ারা তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।বিশেষ করে এইসব আজগুবী বানোয়াট গল্প বলে তারা তাদের পকেট ভারী করে।
সুতরাং, কারবালা নামে যে কারুকাজ ও গল্প রচিত হয়েছে তা মূলত শিয়াদের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ভাবনার প্রতিফলন যেখানে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কল্পনাময় অতিরঞ্জনের মিশ্রণ লক্ষণীয়। এসব গল্প সময়ের সাথে শিয়ারা নিজেদের ঐতিহ্য ও পরিচিতি গঢ়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। চলুন দেখে আসি কারবালার ঘটনার পরিসংখ্যানে শিয়াদের অতিরঞ্জন।
হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত সম্পর্কিত গল্পকার ও বর্ণনাসমূহের মধ্যে কতটা মাত্রায় হেরফের ও বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, পাঠক যাতে তা উপলব্ধি করতে পারেন সে উদ্দেশ্যেই এই পরিশিষ্টটি সংকলন করা হয়েছে। এটি একটি সরল তালিকা যাতে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানগুলি একজন নিরপেক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন পাঠকের কাছে সম্পূর্ণ চিত্রটি আরও স্পষ্ট করে তুলবে।
- আবু মিখনাফ (১৫৮ হিজরি) বর্ণনা করেছেন যে হুসাইন (রা.)-এর সাথে বত্রিশ জন অশ্বারোহী ও চল্লিশ জন পদাতিক সৈন্য ছিলেন[1] এবং তারা সকলেই নিহত হন।[2]
- আবু মিখনাফ বলেন যে উমর বিন সা’দ-এর বাহিনীতে চার হাজার সৈন্য ছিল।[3]
- পরবর্তী সময়ে আবি মিখনাফের নামে প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, উমর বিন সা’দ-এর বাহিনীতে আশি হাজার সৈন্য ছিল।[4]
আবু মিখনাফ (১৫৭ হিজরি)[5], ইবনে বাবাওয়াই আল-কুম্মী (৩৮১ হিজরি)[6], এবং আবু মিখনাফের বর্ণনার পরবর্তী সময়ের বিবরণী (৯ম-১০ম শতাব্দী) অনুযায়ী নিহতের সংখ্যার কিছু তুলনা[7]:
কারবালার শহীদদের তালিকা (শিয়াদের তিনটি সূত্র অনুযায়ী)
| নাম | আবু মিখনাফ -১ (১৫৭ হিজরি) | আল-কুম্মি (৩৮১ হিজরি) | আবু মিখনাফ- ২ (৯ম-১০ম শতাব্দী) |
| আব্বাস বিন আলী | ১৮০ | ||
| আব্দুল্লাহ বিন উমায়র আল-কালবি | ৪ | ||
| আব্দুল্লাহ বিন আবি উরওয়া | ২০ | ||
| আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন আকীল | ৩ | ৯০ | |
| আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আলী | ১৯০ | ||
| আহমাদ বিন মোহাম্মদ আল-হাশিমি | ৮০ | ||
| আলী বিন আল-হুসাইন আল-আকবর | ৫৪ | ১৮০ | |
| আলী বিন আল-মুজাহির | ৭০ | ||
| আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর | ৮০ | ||
| বুরাইর বিন খুদাইর | ১ | ৩০ | |
| আল-দাহাক বিন আব্দুল্লাহ আল-শার্কি | ২ | ||
| হাবিব বিন আল-মুজাহির | ৩১ | ৩৫ | |
| হিলাল বিন আল-হাজ্জাজ | ১৩ | ||
| হিলাল বিন নাফি | ৭০ | ||
| আল-হুর বিন ইয়াজিদ | ১ | ১৮ | ১৮০ |
| আল-হুসাইন বিন আলী | ১ | ১৫০০ | |
| ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন | ৫০ | ||
| জাবির বিন উরওয়া আল-ঘিফারী | ৮০ | ||
| জুয়াইন বিন আবি মালিক | ৭০ | ||
| মালিক বিন আনাস আল-কাহিলি | ১৮ | ||
| মালিক বিন দাউদ | ৬০ | ||
| আল-মুআলা | ৫০ | ||
| মূসা বিন আকীল | ৭০ | ||
| নাফি বিন হিলাল আল-বাজালি | ১২ | ||
| আল-কাসিম বিন আল-হাসান বিন আলী | ৩ | ৭০ | |
| আল-তিরমাহ | ৭০ | ||
| উমায়ের বিন আল-মুতাআ | ৩০ | ||
| ওয়াহব বিন ওয়াহব | ৭ | ||
| ইয়াহইয়া বিন কাছির আল-আনসারী | ৫০ | ||
| ইয়াজিদ বিন মুযাহির/মুহাসির | ৫ | ৫০ | |
| জিয়াদ বিন মুহাসির | ৯ | ||
| জুহাইর বিন আল-কাইন | ১৯ | ১২০ | |
| আল-হুর বিন ইয়াজিদের পুত্র | ৭০ | ||
| আল-কালবির দাস | ৪০ | ||
| আল-কালবির মাতার দাস | ১ | ||
| মোট | ২৬ | ২৫৫ | ৩৫৩৬ |
আবু মিখনাফের (১৫৭ হিজরি) মাত্র ২৬ জন শহীদের সংখ্যা পরবর্তীতে ৩৫৩৬ জন বানিয়ে ফেলেছে এই মিথ্যাবাদী শিয়ারা। চিন্তা করুন কোথায় ২৬ আর কোথায় ৩৫৩৬!! অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই শিয়াদের খাসলত। পরবর্তী পর্বে আমরা যা দেখাবো তাতে আপনাদের চোখ কপালে উঠবে।
| পর্ব ২ |
[1] তাবারি তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে (৩/১০৪০) এটি আবু মিখনাফ থেকে বর্ণনা করেছেন।
[2] তাবারি তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে (৩/১০৫৩) এটি আবু মিখনাফ থেকে বর্ণনা করেছেন।
[3] তাবারি তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে (৩/১০৩৫) এটি আবু মিখনাফ থেকে বর্ণনা করেছেন।
[4] মাক্বতাল আল ইমাম হুসাইন, পৃষ্ঠাঃ ৯৭
[5] ইবনে জারীর তাবারী,তারিখ আত তাবারীঃ৩/১০৪৩-১০৫১
[6] ইবনে বাবাওয়াই,আল আমালী, পৃষ্ঠাঃ১২৪-১৬৩
[7] মাক্বতাল আল ইমাম হুসাইন, পৃষ্ঠাঃ ১২৪-১৬৩

Leave a comment