মেনু

ঐতিহাসিক ও গল্পকারদের বর্ণনায় বিদ্যমান কারবালার ঘটনায় বৈপরীত্য ও সংযোজন

সংকলনঃ ফরিদ বাহরাইনী

অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ আবু মাইসারা


ঐতিহাসিক ও কিসসাকারদের বর্ণনায় বিদ্যমান সেই সকল বৈপরীত্য ও সংযোজন যা আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর শাহাদাতের সহীহ বর্ণনার বিরোধী

এই পরিচ্ছেদে আমি আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর শাহাদাতের সহীহ বর্ণনার বিপরীতে ঐতিহাসিক ও কিসসাকারদের বর্ণনাগুলোতে যেসব সংযোজন ও বৈপরীত্য রয়েছে তা উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বেশ কিছু কারণে এই বিষয়টি বেছে নিয়েছি যার মধ্যে প্রধান কারণ হলো বইপুস্তক ও আলোচনা সভাগুলোতে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যাচারগুলো চিহ্নিত করা এবং অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সহীহ বর্ণনার ভেতর যা কিছু প্রক্ষিপ্ত হয়েছে তা উন্মোচন করা।

আমি দীর্ঘতম এবং প্রাচীনতম বর্ণনাগুলোর ওপর আলোকপাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ এগুলোই সেই মূল উৎস যার ওপর ভিত্তি করে কারবালার (کَرْبَلَاء) ঘটনাবলির পরবর্তী সকল বিবরণ দাঁড়িয়ে আছে। এই বর্ণনাগুলো হলো আবু মিখনাফ, ইবনে সাদ, আবু মাশার, আম্মার আদ দুহানি এবং ইবনে বাবওয়াইহ এর বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ।

১. আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া (أَبُو مِخْنَف لُوط بْن يَحْيَى) (১৫৭ হিজরী) এর বর্ণনা

আবু মিখনাফ (أَبُو مِخْنَف) এর বর্ণনাটি এর বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের কারণে সর্বাধিক প্রচলিত। এটি দীর্ঘতম বর্ণনাও বটে। তবে এটি হাদীস বিশারদগণের দৃষ্টিতে লুত বিন ইয়াহইয়া (لُوط بْن يَحْيَى) এর মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি। আবু হাতিম (أَبُو حَاتِم) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: তার বর্ণনাগুলো বর্জনীয় (মাতরূক)। [1] ইয়াহইয়া বিন মাঈন (يَحْيَى بْن مَعِين) রাহিমাহুল্লাহও তার সমালোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে সে নির্ভরযোগ্য ছিল না [2] এবং সে আমর বিন শিমর (عَمْرُو بْنُ شِمْر) এর মতো ছিল। [3] আমি বলি: আমর বিন শিমর হাদীস বিশারদগণের নিকট জাল হাদীস তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। [4]

একজন বুদ্ধিমান পাঠকের মনে যা সন্দেহের উদ্রেক করে তা হলো আবু মিখনাফের অতি সূক্ষ্ম বিবরণের প্রতি মনোযোগ। কারণ কারবালায় (کَرْبَلَاء) যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের বংশপরিচয় এবং প্রতিটি শিকারকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার বিবরণের মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তিনিই একমাত্র উৎস [5], সেইসাথে যুদ্ধের সময় পাঠ করা কবিতাগুলোর লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রেও। [6] এই সূক্ষ্মতা প্রশংসার যোগ্য হওয়া উচিত ছিল তবে হাদীস বিশারদগণের দৃষ্টিতে তার দুর্বলতা এবং এই ধরনের ঘটনাবলির ক্ষেত্রে তার একমাত্র বর্ণনাকারী হওয়া পাঠকদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে।

আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো তিনি গুপ্তচরদের সম্পর্কেও বর্ণনা প্রদান করেন [7], পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল এবং তার বর্ণনার সর্বত্র গোপন বার্তার পাঠ্যসমূহ উল্লেখ করেছেন। নিচে এই পত্রগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:

  • ওয়ালিদ (الْوَلِيد) এর কাছে ইয়াজিদ (يَزِيد) এর পত্র (৩/১০০৭)।
  •  সুলায়মান বিন সুরাদ (سُلَيْمَان بْن صُرَد), আল মুসাইয়্যাব বিন নাজাবা (الْمُسَيَّب بْن نَجَبَة), রিফাআ বিন শাদ্দাদ (رِفَاعَة بْن شَدَّاد) এবং হাবীব বিন মুতাহির (حَبِيب بْن مُظَاهِر) সহ
  • কুফাবাসীদের পক্ষ থেকে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট অন্যদের প্রেরিত পত্রাবলী (৩/১০১২)।
  • শাবাস বিন রিবঈ, হাজ্জার বিন আবজার, ইয়াযীদ বিন আল হারিস, আযরা বিন কায়স, আমর বিন আল হাজ্জাজ এবং মুহাম্মদ বিন উমাইর এর পক্ষ থেকে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট প্রেরিত পত্র (৩/১০১৩)।
  •  কুফাবাসীদের পত্রের উত্তরে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জবাব (৩/১০১৩)।
  • মুসলিম বিন আকীল রাহিমাহুল্লাহ এর পক্ষ থেকে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট প্রেরিত পত্র (৩/১০১৩)।
  • মুসলিমের প্রতি আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উত্তর (৩/১০১৩)।
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি মুসলিমের উত্তর (৩/১০১৩)।
  • আবদুল্লাহ বিন মূসা, উমারা বিন উকবা এবং উমর বিন সাদ এর পক্ষ থেকে ইয়াযীদের নিকট প্রেরিত পত্র (৩/১০১৪)।
  • মালিক বিন মাসমা, আল আহনাফ বিন কায়স, আল মুনযির বিন জারূদ, মাসঊদ বিন আমর, কায়স বিন আল হাইসাম এবং আমর বিন আবদুল্লাহ বিন মা’মার এর নিকট আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রেরিত পত্র (৩/১০১৪)।
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি মুসলিমের পত্র (৩/১০২১)।
  • ইয়াযীদের নিকট উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ এর পত্র (৩/১০২৩)।
  • উবায়দুল্লাহর প্রতি ইয়াযীদের উত্তর (৩/১০২৪)।
  • কুফাবাসীদের প্রতি আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পত্র (৩/১০২৯)।
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি মুসলিমের পত্র (৩/১০২৯)।
  • আল হুর বিন ইয়াযীদের নিকট উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ এর পত্র (৩/১০৩৪)।
  • উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ এর নিকট উমর বিন সাদ এর পত্র (৩/১০৩৬)।
  • উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ এর উত্তর (৩/১০৩৬)।
  • উমর বিন সাদ এর নিকট উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ এর পক্ষ থেকে প্রেরিত অপর একটি উত্তর (৩/১০৩৭)।

সংযোজন ও বৈপরীত্যসমূহ

মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়ে ইয়াযীদকে আবদুর রহমান বিন আবী বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ব্যাপারে সতর্ক করেন [8]। এটি এই বাস্তবতার পরিপন্থী যে, আবদুর রহমান তাঁর কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। [9]

  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জালেম হিসেবে অভিহিত করেন এবং এরপর আল ওয়ালিদ ও মারওয়ানের সামনে তাকিয়্যাহ বা আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও রহমতের প্রার্থনা করেন। [10]
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আবদুল্লাহ বিন আজ জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন যে তিনি হিজাজে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চান যাতে তিনি সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারেন। [11]
  • মুসলিম বিন আকিল কুফায় আল মুখতার আস সাকাফীর ঘরে প্রবেশ করেন। [12]
  • ইয়াজিদ মুসলিম বিন আকিলকে হত্যা করতে অথবা তাঁকে নির্বাসিত করার জন্য উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদকে পাঠান। [13]
  • উবায়দুল্লাহ মুখ ঢেকে কুফায় প্রবেশ করেন এবং কুফাবাসী তাঁকে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে করে সম্ভাষণ জানায়। [14]
  • শরিক বিন আল আওয়রের ঘটনা যেখানে মুসলিম এবং হানি বিন উরওয়াহ উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন যখন তিনি শয্যাশায়ী শরিককে দেখতে যান। [15]
  • মুসলিম বিন আকীল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) তাকে গ্রেফতার করার প্রচেষ্টাকারী ষাট থেকে সত্তর জন লোকের বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং মুহাম্মদ বিন আল আশআস যখন তাকে কোনো ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি দেন তখন তিনি শান্তভাবে আত্মসমর্পণ করেন। [16] যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় উল্লেখ করেছি যে যারা তাকে গ্রেফতার করছিল তারা স্পষ্টভাবে তাকে বলেছিল যে তাকে নিরাপত্তা প্রদানের কোনো সক্ষমতা তাদের নেই।
  • মুসলিম বিন আকীল এবং হানি বিন উরওয়াহ এর মস্তক ইয়াজীদের নিকট পাঠানো হয়। [17]
  • ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) ইবনে আল জুবায়েরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন যে তিনি চান আল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) মক্কা ত্যাগ করুন যাতে তিনি হিজাজ অঞ্চলটি নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। অপরদিকে ইবনে আব্বাস বিকল্প গন্তব্য হিসেবে ইয়েমেনের প্রস্তাব দেন। [18]
  • আল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) একটি স্বপ্ন দেখেন যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ইরাকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। [19]
  • মুসলিম বিন আকীলের শাহাদাত এবং কূফায় তার কোনো সাহায্যকারী নেই এ কথা জানার পরেও আল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) কূফার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন সেই সব মহান ব্যক্তিদের শাহাদাতের পর আর বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা নেই। [20]
  • আবদুল্লাহ বিন বুকতুরকে হত্যার ঘটনা যাকে কূফার দুর্গ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং যার ফলে তার হাড়গোড় ভেঙে গিয়েছিল। মহান তাবিঈ (تَابِعِيّ) আবদুল মালিক বিন উমাইর (রাহিমাহুল্লাহ) দয়াপরবশ হয়ে তাকে চূড়ান্তভাবে শাহাদাত বরণ করতে সহায়তা করেন। [21]
  • উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদ আল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) কে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন যদি তিনি ইয়াজীদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে সম্মত হতেন। তিনি উমর বিন সাআদের নিকট প্রেরিত একটি পত্রে এই কথা লিখেছিলেন। [22] এরপর শিমর বিন যিল জাওশান উবায়দুল্লাহকে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে এবং আল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) কে উবায়দুল্লাহর নিজের বিচার বা ফয়সালার সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য প্ররোচিত করেন। [23]
  • উমর বিন সা’দ ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এই আশঙ্কায় যে তিনি তার ঘরবাড়ি ও ভূসম্পত্তি হারাবেন [24] এবং তার পদমর্যাদা থেকে তাকে বিচ্যুত করা হবে, [25] যেখানে ইতিপূর্বে উদ্ধৃত সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি কেবল নিজের প্রাণ হারানোর ভয়ে ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।
  • হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উমর বিন সা’দ এর সেনাবাহিনীর নেতৃবৃন্দকে এই মর্মে অভিযুক্ত করেন যে তারা তাকে আনুগত্যের শপথ বা বায়াতের জন্য কুফায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। [26]
  • ইয়াজিদ এই দাবি করে যে আলী ও হুসাইন উভয়েই কাফির (নাউযুবিল্লাহ)। [27]
  • ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর মস্তক ইয়াজিদের সম্মুখে রাখা হয়েছিল এবং সে একটি ছড়ি দিয়ে তাতে আঘাত করছিল। [28] প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ এর কর্মকাণ্ড যেমনটি ইতিপূর্বে সহীহ বর্ণনা সাপেক্ষে আমরা উদ্ধৃত করেছি।
  • আলী বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কে এই কারণে মুক্তি দেয়া হয়েছিল যে তিনি তখন এক অল্পবয়স্ক বালক ছিলেন, [29] অথচ বাস্তবে তখন তার বয়স ছিল বিশের কোঠার মাঝামাঝি [30] এবং তিনি ইতঃপূর্বেই কারবালার ঘটনার কয়েক বছর আগে জন্মগ্রহণকারী মুহাম্মদ আল বাকির এর পিতা হয়েছিলেন।

২. আবু মিখনাফ এর পরবর্তী বর্ণনা

আবু মিখনাফ এর বিবরণের যে প্রচলিত রূপটি অধিকাংশ শিয়া কুতুবখানায় পাওয়া যায় তা ভুলভাবে আবু মিখনাফ এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। এটি বহু ক্ষেত্রে মূল পাঠের সাথে বৈপরিত্য প্রদর্শন করে এবং প্রাথমিক যুগের সুন্নী ও শিয়া ঐতিহাসিকগণ এর ওপর নির্ভর করেননি। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে শিয়া আলেমগণ এর সমালোচনা করা সত্ত্বেও এই সংস্করণটি অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে প্রচার লাভ করেছে। ইতিহাসবিদ আব্বাস আল-কুম্মী রাহিমাহুল্লাহ শাহাদাতের বর্ণনার উৎসগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: “যারা তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) এর প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন তারা জানতে পারবেন যে, ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর শাহাদাত সম্পর্কে তিনি যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন তার অধিকাংশ, বরং সবটুকুই আবু মিখনাফ রাহিমাহুল্লাহ এর মাকতাল (مَقْتَل) থেকে নেওয়া। যদি কেউ এই তার নামে আরোপিত মাকতাল (مَقْتَل) এবং আত-তাবারী ও অন্যান্য ঐতিহাসিকদের উদ্ধৃত বর্ণনার মধ্যে চিন্তা গবেষণা ও তুলনা করেন, তবে তিনি জানতে পারবেন যে, এই মাকতাল টি তার অর্থাৎ আবু মিখনাফের নয় এবং এটি কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকও লিখেননি। আর এই কারণে তিনি এককভাবে যা বর্ণনা করেন তার কোনোটির ওপর আমি নির্ভর করি না।” [31]

আল-মুস্তাদরাক (الْمُسْتَدْرَك) গ্রন্থের লেখক আন-নূরী আত-তাবরাসী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আমাদের সামনে যে মাকতালটি রয়েছে এবং যা তার অর্থাৎ আবু মিখনাফের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তাতে এমন কিছু সমস্যাযুক্ত ধারণা রয়েছে যা মাযহাবের মূলনীতির পরিপন্থী। এতে খুব সামান্যই সন্দেহ আছে যে, শত্রুরা এবং মূর্খরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বইটির মধ্যে এই ধারণাগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এই কারণে এই মাকতালটি তার একক বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হতে পারে না।” [32]

মনে হচ্ছে এই সংস্করণটি নবম বা দশম শতাব্দীর দিকে ফিরে যায়, কারণ এই সংস্করণের পাণ্ডুলিপিগুলো এর আগের সময়ের পাওয়া যায় না। [33] এই পরিচ্ছেদে আমি পূর্ণাঙ্গ গবেষণার উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল প্রধান বৈপরীত্য ও সংযোজনগুলো অন্তর্ভুক্ত করব, কারণ এর বিস্তারিত আলোচনার জন্য আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণার প্রয়োজন।

সংযোজন ও বৈপরীত্যসমূহ:

  • মুসলিম বিন আকীল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একাই উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের এক হাজারের বেশি অশ্বারোহীকে পরাজিত ও নির্মূল করেন, [34] যেখানে মূল বর্ণনায় বলা হয়েছে যে কেবল ষাট থেকে সত্তরজন লোক তাকে ধরার জন্য এসেছিল। মূল বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ নেই যে তিনি তাদের পরাজিত করেছিলেন। [35]
  • মুসলিম বিন আকীল (مُسْلِمُ بْنُ عَقِيلٍ) রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ইবনুল আশআসের (ابْنُ الْأَشْعَثِ) পক্ষ থেকে তাকে কোনো ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করেন কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর জন্য খনন করা একটি গর্তে পড়ে যান, [36] অথচ মূল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে মুসলিম বিন আকীল ইবনুল আশআসের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। [37]
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর জন্য পানি সংগ্রহের প্রচেষ্টায় ডান হাত হারানোর পর একশত আশি জন অশ্বারোহীকে হত্যা করে আবু আল ফাদল আল আব্বাসের (أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ) রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু শাহাদাতবরণ করার বিবরণ রয়েছে, [38] যদিও মূল বর্ণনায় এসেছে যে আবু আল ফাদল পানি সংগ্রহে সফল হয়েছিলেন এবং সেই ঘটনায় মাত্র একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছিল। [39]
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হত্যাকারী ছিলেন শামির বিন যিল জাওশান (شِمْرُ بْنُ ذِي الْجَوْشَنِ), [40] যখন মূল বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ছিলেন সিনান বিন আবি আনাস আন নাখায়ী (سِنَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ النَّخَعِيُّ)। [41]
  • পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অতিরঞ্জন করা হয়েছে । পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

৩. ইবনে সা’দের (২৩০ হিজরী) বর্ণনা

ইবনে সা’দের (ابْنُ سَعْدٍ) বর্ণনার কথা বলতে গেলে এটি আবু মিখনাফের (أَبُو مِخْنَفٍ) বর্ণনার চেয়ে খুব একটা উন্নত নয়। তাঁর বর্ণনাটি বিভিন্ন বর্ণনার একটি সমষ্টি যা মুহাম্মদ বিন উমর আল ওয়াকিদী (مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ) [42] এবং আবু মিখনাফ এবং অন্যান্যরা। ইবনে সাদ এরপর বলেছেন: আমি আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর শাহাদাত সম্পর্কিত তাদের বর্ণনাগুলোর একটি সংকলন লিখেছি। আমি বলি: ইবনে সাদ খুব কমই তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করতেন। ইবনে সাদের বর্ণনা আবু মিখনাফের বর্ণনার মতো দীর্ঘ নয় এবং এটি প্রায় বিশ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। তার এমন অনেক সংযোজনও ছিল যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, সম্ভবত তার শিক্ষক আল-ওয়াকিদী রাহিমাহুল্লাহ থেকে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বহু লোকের কথা উল্লেখ করেছেন যারা আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। পরবর্তী ইতিহাসবিদগণ এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এর দুর্বলতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি, যদিও আমরা আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর শাহাদাতের বিশুদ্ধ বর্ণনায় দেখতে পাই যে, সহীহ সনদের মাধ্যমে একমাত্র ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা তাকে সতর্ক করেছিলেন।

তার সংযোজন এবং বৈপরীত্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে কুফায় যাওয়া থেকে সতর্ক করেন। [43]
  • আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট লেখেন: “উম্মাহর অভিভাবক হিসেবে আপনার অবস্থানের চেয়ে বড় কোনো ফিতনা সম্পর্কে আমি অবগত নই।” [44]
  • আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর প্রতি এই অভিযোগ যে, তিনি হিজাজ অঞ্চল শাসন করার উদ্দেশ্যে আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইরাকে যেতে প্ররোচিত করেছিলেন। [45]
  • আবদুল্লাহ ইবনে মুতী’ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইরাকে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [46]
  • আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে প্রস্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেন। [47]
  • আবদুল্লাহ ইবনে আইয়্যাশ বিন আবি রাবি’আ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল-হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে প্রস্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেন। [48]
  • আবু ওয়াকিদ আল লাইসি রাদিয়াল্লাহু আনহু আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রস্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেন। [49]
  • জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রস্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেন। [50]
  • আবু সালামা বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক ইবনুল জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি এই অভিযোগ যে তিনি হিজাজ (الْحِجَاز) অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করতে প্ররোচিত করেছিলেন। [51]
  • আল মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [52]
  • আমরা বিনতে আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [53]
  • আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন আল হারিস বিন হিশাম রাহিমাহুল্লাহ আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [54]
  • আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুফা (الْكُوفَة) এর অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [55]
  • আমর বিন সাঈদ বিন আল আস রাহিমাহুল্লাহ আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [56]
  • মুহাম্মদ বিন আলী ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকের অভিমুখে যাত্রা করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। [57]
  • কুফাবাসীরা উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদকে আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে করে তার হাত ও পা চুম্বন করে। [58]
  • শারীক বিন আল আওয়ার রাহিমাহুল্লাহ এর কাহিনী, যেখানে মুসলিম এবং হানি বিন উরওয়াহ উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন যখন তিনি শয্যাশায়ী শারীককে দেখতে আসেন। [59]
  • মুসলিম বিন আকিল এবং হানি বিন উরওয়ার মস্তক ইয়াজিদের নিকট প্রেরণ। [60]
  • মুসলিম বিন আকিলের শাহাদাতের সংবাদ শোনার পরেও আকিল পরিবারের সন্তানগণ ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে কুফার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন। [61]
  • উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ শিমর বিন জিল জাওশানকে এই নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেন যে, ওমর বিন সাদ যদি ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেন তবে যেন তাকে হত্যা করা হয়। [62] আমরা যে সহীহ বর্ণনাটি উপস্থাপন করেছি, সেখানে দেখা যায় যে উবাইদুল্লাহ প্রকৃতপক্ষে এই দায়িত্ব পালনের জন্য জুওয়াইরিয়া বিন বদর আত তামীমীকে প্রেরণ করেছিলেন।
  • হুসাইন বিন তামীম ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পবিত্র মুখে একটি তীর নিক্ষেপ করেন এবং আবান বিন দারিম গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর চোয়ালে তীর বিদ্ধ করেন। [63]

৪. আবু মা’শারের (১৭০ হিজরী) বর্ণনা

আবু মা’শার নুজাইহ বিন আব্দুর রহমানের বর্ণনাটি পূর্ববর্তী বর্ণনাসমূহের তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত। আবু আল আরব আত তামীমী তাঁর গ্রন্থে এটি প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা ব্যাপী পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছেন। [64] ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, ইবনুল মাদীনী, ইমাম বুখারী, ইমাম নাসায়ী, ইবনে আদী এবং ইমাম দারা কুতনী রাহিমাহুমুল্লাহর মতো বরেণ্য মুহাদ্দিসগণের নিকট আবু মা’শার একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় যে, তিনি তাঁর উস্তাদদের নাম উল্লেখ করেন না, যা আবু মিখনাফ এবং ইবনে সা’দের বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর নিজের দুর্বলতা এবং উস্তাদদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকার কারণে তাঁর বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তবে তাঁর বর্ণনাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে এতে অতিরিক্ত সংযোজন বা বৈপরীত্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

সংযোজন ও বৈপরীত্যসমূহ:

  • আবদুল্লাহ বিন মুতী রাদিয়াল্লাহু আনহু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইরাকে গমনের ব্যাপারে সতর্ক করেন। [65]
  • হানি বিন উরওয়াহ রাহিমাহুল্লাহ উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে প্রলুব্ধ করে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তিনি অসুস্থতার ভান করে শয্যাশায়ী হন। [66]
  • মুসলিম বিন আকীল রাহিমাহুল্লাহ উমর বিন সা’দের ওপর এতটাই আস্থা রেখেছিলেন যে তিনি তাকে জানান হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আসছেন এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি উমর বিন সা’দকে অনুরোধ করেন। উমর বিন সা’দ এই তথ্য উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদের নিকট ফাঁস করে দিয়ে এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করেন। [67]
  • উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ শিমর বিন যিল জাওশানকে (شِمْرُ بْنُ ذِي الْجَوْشَنِ) প্রেরণ করেন যাতে উমর বিন সা’দ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেন তবে যেন তাকে হত্যা করা হয়। [68] আমরা যে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাটি উপস্থাপন করেছি তাতে দেখা যায় উবাইদুল্লাহ প্রকৃতপক্ষে এই কাজটির জন্য জুওয়াইরিয়া বিন বদর আত তামীমীকে (جُوَيْرِيَةُ بْنُ بَدْرٍ التَّمِيمِيُّ) প্রেরণ করেছিলেন।

৫. আম্মার আদ দুহানী (১৩৩ হিজরী) এর বর্ণনা

আম্মার আদ দুহানী রাহিমাহুল্লাহ এর বর্ণনাটি মূলত আবু জাফর আল বাকির রাহিমাহুল্লাহ এর বর্ণনা। তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: আমাকে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত সম্পর্কে এমনভাবে বর্ণনা করুন যেন আমি তা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি… [69]। এই বর্ণনাটি প্রায় নির্ভরযোগ্য কারণ এর অধিকাংশ বর্ণনাকারীই বিশ্বস্ত। তবে এটি আমাদের নিকট খালিদ বিন ইয়াযীদ বিন আসাদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসরী রাহিমাহুল্লাহ এর মাধ্যমে পৌঁছেছে যিনি আম্মার রাহিমাহুল্লাহ থেকে এই বর্ণনার ক্ষেত্রে একক বর্ণনাকারী ছিলেন। ইবনুল আদী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি যা উল্লেখ করেছি খালিদ বিন ইয়াযীদের তার চাইতেও অনেক বেশি বর্ণনা রয়েছে এবং তার বর্ণনাগুলোর কোনো মুতাবা’আত (مُتَابَعَة) বা সমর্থন নেই না সূত্রের দিক থেকে না পাঠের (মাতন) দিক থেকে। আমি পূর্ববর্তী আলেমদের তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে দেখিনি এবং সম্ভবত তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আর আমি লক্ষ্য করলাম যে, তারা এই খালিদের চেয়ে উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিদেরও সমালোচনা করেছেন, তাই আমাকে তার কথা উল্লেখ করতে হয়েছে এবং তার সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে হয়েছে, যা হলো সে মর্যাদার দিক থেকে দুর্বল। [70] আয যাহাবী (الذَّهَبِيُّ) ইবনে আবী হাতিম (ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ) এর কিতাব থেকে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং নির্দেশ করেছেন যে তিনি তার সমালোচনা করেননি। তিনি আরও ইঙ্গিত করেছেন যে ইবনে আবী হাতিম তাকে অন্য একটি শিরোনামে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তার নাম খালিদ বিন ইয়াযীদ আল কাসরী, যার অধীনে তাকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আয যাহাবী মন্তব্য করেছেন: “নিঃসন্দেহে এই দুইজন একই ব্যক্তি।” আমি বলছি: তিনি আল উকায়লী (الْعُقَيْلِيُّ) থেকেও উল্লেখ করেছেন যে, “তার বর্ণনায় কোনো সমর্থন নেই।” [71] আম্মারের এই বর্ণনাটি আবু মা’শার (أَبُو مَعْشَرٍ) এর বর্ণনার মতোই যে এটি তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত।

এই বর্ণনার অতিরিক্ত অংশসমূহ এবং বৈপরীত্যসমূহ:

  • কুফাবাসীরা ধারণা করেছিল যে উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ যখন প্রবেশ করছিল তখন সে ই আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। [72]
  • আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল আশ’আস মুসলিম বিন আকীলকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নিরাপদ থাকবেন, [73] আর এটি সেই নির্ভরযোগ্য সংবাদের পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে যে মুসলিমকে কখনও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
  • হানি বিন উরওয়াহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। [74]
  • আকীলের পুত্ররা মুসলিমের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরও আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কে অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। [75]
  • আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মস্তক মুবারক ইয়াজিদের সামনে রাখা হয়েছিল এবং সে একটি ছড়ি দিয়ে তাতে আঘাত করছিল। [76] আমরা এই কিতাবের পূর্ববর্তী অংশে এটি প্রমাণ করেছি যে এই কাজটি মূলত উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ করেছিল।

৬. ইবনে বাবওয়াইহ আল কুম্মীর (৩৮১ হিজরী) বর্ণনা

ইবনে বাবওয়াইহ এর বর্ণনাটি তার আল আমালি (الْأَمَالِي) গ্রন্থে তার শিক্ষক মুহাম্মদ ইবনে উমর আল বাগদাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি তার কিতাবে আল হাসান ইবনে উসমান ইবনে যিয়াদ আত তুস্তারী থেকে এবং তিনি একদল অজ্ঞাত বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাদের নাম জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। তারা জাফর আস সাদিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে এবং তিনি তার পিতা আল বাকির রাহিমাহুল্লাহ থেকে এবং তিনি জাইনুল আবিদীন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। [77] এই বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি আল হাসান ইবনে উসমান ইবনে যিয়াদ কর্তৃক জাল করা হয়েছে। আবু আলী আন নিশাপুরী, আবদান আল আহওয়াযী এবং ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ এর লিসানুল মিজান (لِسَانُ الْمِيزَان) গ্রন্থে ইবনে আদী তাকে বর্ণনায় কারসাজি বা পরিবর্তনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। [78] এই বর্ণনাটির দৈর্ঘ্য পূর্ববর্তী কিছু বর্ণনার তুলনায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও এতে সহীহ বর্ণনাসমূহের সাথে বড় ধরনের বৈপরীত্য বিদ্যমান। আমরা এই বর্ণনায় এমন কিছু অতিরঞ্জন লক্ষ্য করি যা পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোতে পাওয়া যায় না।

পরিশিষ্ট এবং বৈপরীত্যের কিছু উদাহরণ:

  • ইয়াজিদ তার চাচা উতবা ইবনে আবু সুফিয়ানকে মদীনার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করে। [79] অথচ এটি এই বাস্তব তথ্যের বিরোধী যে উতবা ৪৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছিলেন। [80]
  • ইয়াজিদ উতবাকে নির্দেশ দেয় যেন তিনি মদীনায় থাকা অবস্থাতেই আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করেন। [81]
  • ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় কোনো সময় অতিবাহিত না করেই মদীনা থেকে ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। [82]
  • ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর শাহাদাতের সংবাদ তা ঘটার পূর্বেই অবগত ছিলেন। [83]
  • ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু দু’আ করার মাধ্যমে উমর বিন সা’আদের বাহিনীর দুই ব্যক্তিকে বিনাশ করেন। [84]
  • আল হুর বিন ইয়াজিদ আঠারোজন শত্রুকে হত্যা করেন, [85] যেখানে সহীহ বর্ণনায় এসেছে যে তিনি কেবল দুইজনকে হত্যা করেছিলেন।
  • উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদ ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র মস্তক হস্তগত করার পর সিনান বিন আনাসকে হত্যা করেন, [86] যদিও পূর্বে আমাদের উদ্ধৃত সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী সিনান আল হাজ্জাজের সময়কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

[1]ইবনে আবু হাতিম (ابْن أَبِي حَاتِم) রাহিমাহুল্লাহ রচিত আল জারহ ওয়াত তাদীল (الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ) এ উল্লিখিত (৭/২৪৭)।

[2]আদ দূরী (الدُّورِيّ) এর বর্ণনাসূত্রে ইয়াহইয়া বিন মাঈন (يَحْيَى بْن مَعِين) রাহিমাহুল্লাহ এর আত তারীখ (التَّارِيخُ) (১/২৮৫)।

[3]আদ দূরী (الدُّورِيّ) এর বর্ণনাসূত্রে ইয়াহইয়া বিন মাঈন (يَحْيَى بْن مَعِين) রাহিমাহুল্লাহ এর আত তারীখ (التَّارِيخُ) (১/৩২৮)।

[4]লিসানুল মীযান (لِسَانُ الْمِيزَانِ) (৪/৪২২) দ্রষ্টব্য।

[5]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৫৮)।

[6]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৪৭–১০৪৯)।

[7]যেমন উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ (عُبَيْدُ اللَّهِ بْن زِيَاد) এর গোলাম মিকআল (مِقْعَل) এর বর্ণনা, যা তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০১৬) এ লিপিবদ্ধ।

[8]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০০১)।

[9]ইবনে জাবর আর রাবঈ উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইয়াহইয়া বিন বুকাইরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি ৫৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: তারিখু মাওলানাদিল উলামা ওয়া ওয়াফিয়াতিহিম (تَارِيخُ مَوْلِدِ الْعُلَمَاءِ وَوَفَيَاتِهِمْ) (১/১৫৫ এবং ১/১৫৮)।

[10]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০০৭)।

[11]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২৫)।

[12]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০১৩)। আল মুখতার হলো ইবনে আবি উবায়দ আস সাকাফী যে নিজেকে নবী দাবি করা চরম মিথ্যুক ছিল। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ) (৩/৩৮০৬)। শিয়াদের বর্ণনা সূত্রের মাধ্যমে জাফর আস সাদিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে এটি সহীহ প্রমাণিত হয়েছে যা রিজালুল কাশশী (رِجَالُ الْكَشِّيِّ) (পৃষ্ঠা ৯৭) গ্রন্থে পাওয়া যায়। তিনি বলেন: আল মুখতার আলী বিন আল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর নামে মিথ্যা বলত। আমি যোগ করছি যে আত তূসী এবং আন নাজাভীর দাবি অনুযায়ী সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য কেবল মুহাম্মদ বিন ইয়াজদাদ আর রাজি ব্যতীত যিনি মুহাম্মদ বিন মাসউদ আল আয়্যাশীর দৃষ্টিতে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন। দেখুন: আল কাশশী (পৃষ্ঠা ৩৭৬)।

[13]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০১৪)।

[14]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০১৫)।

[15]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০১৭)।

[16]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২১)।

[17]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২৩)।

[18]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২৪–১০২৫)।

[19]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২৬)।

[20]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৩০)।

[21]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৩১)।

[22]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৩৬)।

[23]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৩৭)।

[24]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৩৬)।

[25]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৩৭)।

[26]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৪১ এবং ৩/১০৫১)।

[27]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৫৫)।

[28]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৫৭)।

[29]তারিখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِي) (৩/১০৫২)।

[30]দেখুন: ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ রচিত তাহযীবুত তাহযীব (تَهْذِيبُ التَّهْذِيب) (৩/১৫৫)।

[31]নাফাসুল মাহমুম (نَفَسُ الْمَهْمُوم), পৃষ্ঠা: ১১।

[32]আল-লু’লু’ ওয়াল মারজান (اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَان), পৃষ্ঠা: ১৮৭।

[33]দেখুন মাকতালুল ইমাম আল-হুসাইন (مَقْتَلُ الْإِمَامِ الْحُسَيْن), আল-জাবুরী সম্পাদিত, পৃষ্ঠা: ৩২–৩৪।

[34]মাকতালুল ইমাম আল-হুসাইন (مَقْتَلُ الْإِمَامِ الْحُسَيْن), পৃষ্ঠা: ৬০–৬৫।

[35]তারীখুত তাবারী (تَارِيখُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২১)।

[36]মাকতালুল ইমাম আল হুসাইন (مَقْتَلُ الْإِمَامِ الْحُسَيْنِ) (পৃষ্ঠা ৬৩–৬৪)।

[37]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০২১)।

[38]মাকতালুল ইমাম আল হুসাইন (مَقْتَلُ الْإِمَامِ الْحُسَيْنِ) (পৃষ্ঠা ১০৬–১১১)।

[39]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৩৬)।

[40]মাকতালুল ইমাম আল হুসাইন (مَقْتَلُ الْإِمَامِ الْحُسَيْنِ) (পৃষ্ঠা ১৭৬–১৭৭)।

[41]তারীখুত তাবারী (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) (৩/১০৫২)।

[42]মুহাম্মদ বিন উমর বিন ওয়াকিদ আল আসলামী আল ওয়াকিদী আল মাদানী। আয জাহাবী (الذَّهَبِيُّ) মীযানুল ইতিদাল (مِيزَانُ الِاعْتِدَالِ) গ্রন্থে ইবনুল মাদীনী, ইবনে রাহওয়াইহি, আবু হাতিম এবং আন নাসায়ী রাহিমাহুমুল্লাহর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন যারা সকলেই আল ওয়াকিদীকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। আয জাহাবী এরপর বলেছেন: আল ওয়াকিদীর দুর্বলতার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (৬/২৭৩–২৭৬)।

[43]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২২)।

[44]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৩)।

[45]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৪)।

[46]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৪)।

[47]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৫)।

[48]আত-তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৫)।

[49]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৫)।

[50]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৫)।

[51]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৫)।

[52]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৬)।

[53]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৬)।

[54]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৬)।

[55]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৬)।

[56]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৬)।

[57]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪২৭)।

[58]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৩২)।

[59]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৩২)।

[60]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৩৪)।

[61]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৩৪)।

[62]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৩৬)।

[63]আত তাবাকাতুল কাবীর (الطَّبَقَاتُ الْكَبِيرُ) (৬/৪৪০)।

[64]আবু আল আরব আত তামীমী রচিত আল মিহান (الْمِحَنُ) (পৃষ্ঠা ১২৯–১৩৩)।

[65]আয-যাহাবী (الذَّهَبِيُّ) তাঁর মীযানুল ইতিদাল (مِيزَانُ الِاعْتِدَالِ) (৭/১২) গ্রন্থে যেমনটি উদ্ধৃত করেছেন।

[66]আবু আল আরব (أَبُو الْعَرَبِ) রচিত আল মিহান (الْمِحَنُ) (পৃষ্ঠা ১৩১)।

[67]আবু আল আরব (أَبُو الْعَرَبِ) রচিত আল মিহান (الْمِحَنُ) (পৃষ্ঠা ১৩২)।

[68]আবু আল আরব (أَبُو الْعَرَبِ) রচিত আল মিহান (الْمِحَنُ) (পৃষ্ঠা ১৩৩)।

[69]এটি আত-তাবারী (الطَّبَرِيُّ) তাঁর তারীখ (تَارِيخُ الرُّسُلِ وَالْمُلُوكِ) (৩/১০১০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

[70]ইবনে আদী (ابْنُ عَدِيٍّ) রচিত আল কামিল (الْكَامِلُ) (৩/৪৩৩)।

[71]মীযানুল ইতিদাল (مِيزَانُ الْاِعْتِدَالِ) (২/৪৩৪)।

[72]আত তাবারী (الطَّبَرِيُّ) এটি তার তারীখ (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩/১০১১)।

[73]আত তাবারী এটি তার তারীখ (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩/১০১২)।

[74]আত তাবারী এটি তার তারীখ (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩/১০১২)।

[75]আত তাবারী এটি তার তারীখ (تَارِيخُ الطَّبَرِيِّ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩/১০২৭)।

[76]তাবারী এটি তার তারীখ (التَّارِيخ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩/১০২৭)।

[77]ইবনে বাবওয়াইহ যাকে শিয়াদের নিকট আস সাদূক (الصَّدُوق) হিসেবে পরিচিত তিনি বাগদাদে বসবাসকারী একজন বিশিষ্ট শিয়া আলেম ছিলেন। আল খাতীব আল বাগদাদী রাহিমাহুল্লাহ এর মতে তার মর্যাদা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। দেখুন: তারীখু বাগদাদ (تَارِيخُ بَغْدَاد) (৩/৩০৩)।

[78]দেখুন: ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ রচিত লিসানুল মিজান (لِسَانُ الْمِيزَان) (২/২৭৪)।

[79]ইবনে বাবওয়াইহ রচিত আল আমালি (الْأَمَالِي) (পৃষ্ঠা ১২০)।

[80]এটি ইবনে জাবর আর রিবাঈ তার তারীখু মওলিদিল উলামায়ি ওয়া ওয়াফায়াতিহিম (تَارِيخُ مَوْلِدِ الْعُلَمَاءِ وَوَفَيَاتِهِمْ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১/১৪৩)।

[81]ইবনে বাবওয়াইহ রচিত আল আমালি (الْأَمَالِي) (পৃষ্ঠা ১২১)।

[82]আল আমালী (الْأَمَالِي) ইবনে বাবুওয়াইহ রচিত (পৃষ্ঠা ১২১)।

[83]আল আমালী (الْأَمَالِي) ইবনে বাবুওয়াইহ রচিত (পৃষ্ঠা ১২৩)।

[84]আল আমালী (الْأَمَالِي) ইবনে বাবুওয়াইহ রচিত (পৃষ্ঠা ১২৪)।

[85]আল আমালী (الْأَمَالِي) ইবনে বাবুওয়াইহ রচিত (পৃষ্ঠা ১২৬)।

[86]আল আমালী (الْأَمَالِي) ইবনে বাবুওয়াইহ রচিত (পৃষ্ঠা ১২৮)।



Leave a comment