মেনু

আহলে বাইত কারা?- পর্বঃ৪

বইঃ আহলে বাইতঃমধ্যপন্থী এবং চরমপন্থী মতবাদগুলোর মধ্যে আহলে বাইতের প্রকৃত পরিচয়ের অনুসন্ধান।

লেখকঃমুহাম্মদ সালিম আল খিদ্বর

অনুবাদঃ আবু মাইসারা


আহল-আল-বাইত[1]

আহল-আল-বাইত (বাড়ির লোক) শব্দটি দুটি আলাদা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: “আল-আহল” এবং “আল-বাইত”, যদিও এই শব্দগুলির স্বতন্ত্র অর্থগুলি পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন; তারা একত্রে মিলিত হলে বিভিন্ন অর্থ ধারণ করে, বিশেষ করে যখন “আহল” শব্দটি “বাইত” বা কোনও ব্যক্তির মালিকানাধীন “বাইত” (বাড়ি) শব্দের সাথে যুক্ত হয়। তখন এই শব্দটি (আহল-আল-বাইত) দ্বারা কী বোঝানো হয় এবং এই শব্দ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়?

গবেষকগণ এই শব্দের উদ্দেশ্যমূলক অর্থ সম্পর্কে তিনটি ভিন্ন মতামত উপস্থাপন করেছেন, বিশেষ করে যখন “আহল” শব্দটি “বাইত” বা “ব্যক্তির” সাথে যুক্ত হয়ঃ

  1. এতে তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যারা বাড়ির মালিক (বাইত) বা বাড়ির সাথে রক্তসম্পর্ক বা শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
  2. এটি বিশেষভাবে বাড়ির মালিকের স্ত্রীদের বোঝায়।
  3. এটি বিশেষভাবে বাড়ির মালিকের সন্তানদের বোঝায়।

পরবর্তী দুটি মতামত বিরল এবং কুরআন ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর পাঠের পরিপন্থী, কারণ কুরআনে এই শব্দটি (আহল) স্ত্রী এবং সন্তান  উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল্লাহ মূসা সম্পর্কে বলেছেন:

۞ فَلَمَّا قَضَىٰ مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِن جَانِبِ الطُّورِ نَارًا ۞

অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং তার পরিবারবর্গসহ যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেল।[2]

উপরের আয়াতে এটি দ্বারা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর স্ত্রীকে নির্দেশ করা হয়েছে।

কুরআনে সন্তানদের ক্ষেত্রেও “আহল” (Ahl) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে বলেন:

۞ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ ۞

“হে আমার রব, নিশ্চয়ই আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত (আহল)! আর আপনার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।”[3]

পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ নূহ (আলাইহিস সালাম) কে বলেন:

۞ قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۞

“তিনি বললেন, হে নূহ, নিশ্চয়ই সে তোমার পরিবারভুক্ত (আহল) নয়, নিশ্চয়ই তার কাজ অসৎ।”[4]

দ্বিতীয় আয়াতটি দেখে ভুল বোঝা ঠিক হবে না যে আল্লাহ নূহ (আলাইহিস সালাম) এর পরিভাষা ব্যবহারের বিষয়টিকে অস্বীকার করছেন, মূলত আল্লাহ তাকে “আহল” শব্দের অন্তর্ভুক্ত না করার কারণটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন (নিশ্চয়ই তার কাজ অসৎ)।

উপরের ব্যবহারটি “আহল” (Ahl) শব্দের অর্থের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যা পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীসের আলোকে আলোচনা করা হয়েছে যা উপরের পরিভাষাটি (আহলুল বাইত) ব্যবহারের ব্যাপকতার দিকেও ইঙ্গিত করে।

প্রধান উৎসসমূহে (কুরআন ও সুন্নাহ) এই পরিভাষার (আহল) ব্যবহার থেকে যেভাবে বোঝা যায়, সে অনুযায়ী বলা যেতে পারে যে ‘আহল’ শব্দটি যখন ‘বাইত’ এর সাথে যুক্ত হয়ে অর্থাৎ ‘আহলুল বাইত’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এমন একটি অর্থ প্রকাশ করে যা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঘর বা পরিবারকে (একবচন: বাইত; বহুবচন: বুয়ূতের) নির্দেশ করে, সেগুলো হলো:

১. বংশগত ঘর বা পরিবার (Bait of Lineage)।

২. বাসস্থানগত ঘর বা পরিবার (Bait of Residence)।

৩. জন্মগত ঘর বা পরিবার (Bait of Birth)।

৩য় পর্ব পড়ুন৫ম পর্ব পড়ুন

[1] কখনও কখনও আল-আল-বাইত শব্দটি আহল-আল-বাইত এর পরিবর্তে সমার্থকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থে কোনও ভিন্নতা থাকে না।

[2] আল কাসাস: ২৮:২৯।

[3] হূদ: ১১:৪৫।

[4] হূদ: ১১:৪৬।



Leave a comment