মেনু

আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত রাখার ব্যাপারে রাফেজীদের দাবির বাস্তবতা

সানাউল্লাহ পানিপথী (রহ)

অনুবাদঃ আবু মাইসারা


রাফেজীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহলে বাইত ও ইতরাতকে ভালোবাসা এবং তাঁদের অনুসরণের দাবি করে, যা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ আহলে বাইত বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র স্ত্রীগণ, তাঁর সন্তানাদি এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের বোঝায়। আর ইতরাত বলতে মানুষের বংশ, জাতি ও পরিবারকে বোঝানো হয়। প্রকৃতপক্ষে রাফেজীদের অন্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহলে বাইত এবং তাঁর পরিবারের প্রতি কোনো মহব্বত নেই। দেখুন, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যাগণ—জয়নব, রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না)-এর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। তারা ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর অধিকাংশ সন্তানের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তারা যায়েদ বিন মুহাম্মদ বাকির এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সন্তানদের অস্বীকার করে। ইসনা আশারিয়াগণ যায়েদ বিন আলী বিন হুসাইন এবং তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া, ইবরাহীম বিন মূসা ও জাফর বিন মূসা (যাঁরা অত্যন্ত মর্যাদাবান আলিম ও মুত্তাকী ছিলেন) তাঁদের কাফির ও ফাসিক সাব্যস্ত করে। জাফর বিন মূসাকে ‘জাফর কাযযাব’ (চরম মিথ্যাবাদী) নামে অভিহিত করা হয়। একইভাবে তারা হাসান আসকারীর ভাই জাফর বিন আলীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এছাড়া তারা হাসান বিন হাসান মুসান্না এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (যিনি নাফসে যাকিয়া উপাধিতে ভূষিত), ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ, যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-বাকির, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান, মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন হুসাইন এবং ইয়াহইয়া বিন উমর (যিনি যায়েদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আল-হাসানের পৌত্র)—তাঁদের সকলকেই অস্বীকার করে।

তাছাড়া তারা শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য উলামা, আউলিয়া ও সম্মানিত সাদাতগণকে (সৈয়দ বংশীয়দের) কাফির মনে করে। জাহান্নামী গণ্য করেন।

তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র দলের ধারণা এই যে, উল্লিখিত জামাতটি আহলুল বায়াতের ব্যাপারে আকিদাগতভাবে পথভ্রষ্ট, তবে দীর্ঘকাল দোজখে থাকার পর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা)-এর সন্তানদের প্রতি এই লোকদের অবস্থা এমনই। নবী করীম (ﷺ)-এর অন্যান্য আহলুল বায়াত অর্থাৎ তাঁর সহধর্মিণীগণ, সন্তানগণ এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে তাদের যে আচরণ তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সুতরাং তাদের ভালোবাসার দাবি সম্পূর্ণ অসার ও মিথ্যা।

আর আহলুল বায়াতের অনুসরণের যে দাবি তারা করে থাকে যে, তারা তাঁদের অনুসরণ ও আনুগত্য করে এবং তারা তাঁদের দ্বীন আহলুল বায়াতের ইমামদের থেকে গ্রহণ করেছে, তা মিথ্যার ঝুড়ি মাত্র। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা এটি দলীল প্রমাণসহ প্রমাণ করব।


সুত্রঃ

[১]সাইফুল মাসলুল, সানাউল্লাহ পানিপথী, পৃঃ৪৩-৪৪



Leave a comment