শিয়াদের বিভিন্ন দল-উপদল
-
কারামিতা বা বাতিনী বা খাররামী বা বাবুকী বা মুহাম্মিরা বা সপ্তগ্রহী বা তালিমিয়া
আবু মাইসারা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ইসমাইল বিন জাফর সাদিককে নিজেদের সপ্তম ইমাম দাবি করত। ১৩৯ হিজরি সালে (৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে) ইসমাইলের পূত্র মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইমামত কবুল করে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় দাবি করে যে, তিনি আত্মগোপন করে আছেন এবং অতি শীঘ্রই ইমাম মাহদি নামে আত্মপ্রকাশ করে পৃথিবীতে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। এ সময় আব্বাসি… Continue reading
-
ইসমাইলিয়া শিয়াদের ইতিহাস
আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, ইসমাইলিয়ারা মুসাবিয়া ও বারো ইমামপন্থীদের থেকে ভিন্ন, কারণ তারা জাফর -এর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইলের ইমামত এবং তিনিই প্রথম ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন এই বিশ্বাস পোষণ করে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, জাফর ইসমাইলের মায়ের সাথে বিবাহবন্ধনে থাকাকালীন অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেননি, কিংবা কোনো উপপত্নীও রাখেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি খাদিজা… Continue reading
-
রিযামিয়্যা
এরা হলেন রিযাম ইবনে রাযমের অনুসারী। তাদের মতে, আলী -এর পর ইমামত স্থানান্তরিত হয় তাঁর পুত্র মুহাম্মাদের কাছে, মুহাম্মাদের পর তাঁর পুত্র আবু হাশিমের কাছে, এবং তারপর আবু হাশিমের মনোনয়ের মাধ্যমে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কাছে। এরপর এটি মুহাম্মাদ ইবনে আলীর কাছে যায়, যিনি পালাক্রমে তাঁর পুত্র ইবরাহীমকে ইমাম নিযুক্ত করেন; তিনি আবু মুসলিমের… Continue reading
-
বায়ানিয়্যা (বায়ানী সম্প্রদায়)
আবু মাইসারা এরাই হচ্ছেন বায়ান ইবনে সাম’আন আত-তামীমীর অনুসারী, যার কাছে আবু হাশিমের মৃত্যুর পর ইমামত স্থানান্তরিত হয় বলে তারা দাবি করে।[১,২] সে বলতো, আল্লাহ তার কথা কুরআনে বর্ণনা করেছেন[১] যেখানে আল্লাহ বলেছেনঃ ‘এটা মানুষের জন্য বায়ান (স্পষ্ট বর্ণনা) ও হিদায়াত এবং উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য।’[৩] বায়ান ছিলেন একজন গুলুও (চরমপন্থী) যিনি আমীরুল মু’মিনীন আলী (রা)-এর… Continue reading
-
হাশিমিয়া
এরা হলো আবু হাশিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যার অনুসারী। তাদের মতে, মুহাম্মাদ (ইবনুল হানাফিয়া) ইন্তেকাল করেছেন এবং ইমামত তাঁর পুত্র আবু হাশিমের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছ। আবু হাশিম তাঁর পিতার নিকট গূঢ় বিজ্ঞানসমূহের রহস্যাবলি শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তাঁকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল আসমানী আধ্যাত্মিক জগৎ ও আত্মাসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক; আরও শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল কিভাবে রূপক ব্যাখ্যার মাধ্যমে… Continue reading
-
মুখতারিয়া
এরা মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফির অনুসারী। মুখতার প্রথমে খারিজি ছিলেন, পরে যুবাইর ইবনুল আওয়ামের অনুসারী হন এবং সর্বশেষে কাইসানি শিয়া মতাদর্শ গ্রহণ করেন। তিনি আমিরুল মুমিনিন আলী (রা.)-এর পর মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যার ইমামত বিশ্বাস করতেন, যদিও কিছু বর্ণনা মতে তার মতে মুহাম্মাদ (ইবনুল হানাফিয়া) সরাসরি আলী (রা.)-এর পরে নয় বরং হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর… Continue reading
-
সালিহিয়া ও বত্রিয়া
সালিহিয়া হলো হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাইয়ের অনুসারী এবং বত্রিয়া হলো কাসির আন-নাওয়া আল-আবতারের অনুসারী। উভয়ের মতামত একই। ইমামত সম্পর্কে তাদের মতবাদ সুলাইমানিয়া দলের মতবাদের অনুরূপ, তবে তারা এ প্রশ্নে কোনো অবস্থান নেয় না যে ‘উসমান (রা.) মুমিন ছিলেন না কাফির’। তারা বলে: “যখন আমরা উসমান (রা.)-এর পক্ষে হাদিস শুনি এবং শুনি যে তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন… Continue reading
-
সুলাইমানিয়া
এরা হল সুলাইমান ইবনে জারীরের অনুসারী। তার মতে, ইমামত হল একটি এমন বিষয় যা সম্প্রদায়ের পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়; এমনকি দুইজন সর্বোত্তম মুসলিমের সম্মতিতেও এটি স্থির হতে পারে। তিনি আরও বলতেন যে, অধিকতর যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও কম যোগ্য ব্যক্তির ইমামতও বৈধ হতে পারে। সম্প্রদায়ের পছন্দের মাধ্যমে আবু বকর ও উমরের ইমামতের বৈধতাকেও সুলাইমান সমর্থন… Continue reading
-
জারুদিয়া
এরা হল আবুল জারূদ যিয়াদ ইবনে আবু যিয়াদের অনুসারী। তাদের মতে, রাসূল (সা.) আলী (রা.)-কে নামে নয় বরং গুণাবলী দ্বারা মনোনীত করেছিলেন; এবং তিনিই নবীর পর ইমাম। বিবরণটি চিনতে ও বর্ণিত ব্যক্তিকে খুঁজে না নিয়ে মানুষ তাদের দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে। তারা (সাহাবারা) নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে আবু বকর (রা.)-কে প্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং এভাবে কাফিরে পরিণত হয়েছিল।… Continue reading
-
নুসাইরিয়া ও ইসহাকিয়া
আবু মাইসারা এরা হল চরমপন্থী শিয়া উপদল, যাদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অনুসারী রয়েছে যারা তাদের মতবাদকে সমর্থন করে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির মুখ্য ব্যাখ্যাতাদের রক্ষা করে। নবীর পরিবারের ইমামদের জন্য আধ্যাত্মিক নাম কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে একটি আধ্যাত্মিক সত্তা দৈহিক রূপ ধারণ করতে পারে – এমন… Continue reading
