মেনু

ইমাম বুখারী, মুসলিমসহ কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ কি আহলে আলী (রা)-এর হাদীস গোপণ করেছিলো?!

রাফেজী শিয়ারা প্রচার করে বেড়ায় মুসলিম আলেমরা নাকি হাদীসমূহও গোপন করেছে।বিশেষ করে ইমাম বুখারী, মুসলিমসহ কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ নাকি আহলে বাইতের মধ্যে আলী রা এর পরিবারের হাদীস নাকি গোপন করেছে।তাদের হাদীস গ্রহণ করেনি!! উমাইয়্যারা বিশেষ করে মুয়াবিয়া রা এর নির্দেশে হাদীস বর্ণনাকারীরা নাকি আলী (রা) বংশের হাদীস বাদ দিয়েছেন। কারণ নাকি আলী (রা) যেহেতু তালহা (রা), যুবায়ের (রা), মুয়াবিয়া (রা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে করেছেন তাই উমাইয়্যারা নাকি তার বংশের হাদীস বাদ দিয়েছেন। এই সব বক্তব্য দিয়ে শিয়ারা সাধারণত অজ্ঞ মুসলিমদের টার্গেট করে। মূলত এটি সাধারণ মুসলিম উম্মাহকে হাদীস থেকে দূরে সরানোর জন্য শিয়াদের এক কঠিন ষড়যন্ত্র। শিয়ারা ওরিয়েন্টালিস্টদের সাথে জোট বেধে এই ধরনের অদ্ভুত বক্তব্য দেয়। আসলে তাদের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম উম্মাহকে হাদীস থেকে দূরে সরিয়ে শিরকে লিপ্ত করা। কোন কোন জাহেলতো এমনও দাবি করেছে যে, ফাতেমা রা এর হাদীস নাকি কুতুবে সিত্তায় নেই। যাই হোক পাঠকদের সুবিধার জন্য আমরা এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করছি। আমরা নিচে টেবিল আকারে কুতুবে সিত্তায় আহলে আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা উল্লেখ করেছি সাথে তালহা (রা), যুবায়ের (রা), মুয়াবিয়া (রা), আমর বিন আশ (রা), মুগিরা বিন শোবাহ (রা), আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা), আম্মার বিন ইয়াসির (রা), মারওয়ান বিন হাকাম (রহ) এর হাদীস সংখ্যা উল্লেখ করেছি।। পাঠক আপনারা টেবিলটি দেখুন আর ভাবুন শিয়ারা কোন লেভেলের মিথ্যাবাদী এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে কি পরিমাণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

রাবীর নামবুখারীমুসলিমতিরমিযিআবু দাউদনাসাইইবনে মাজাহমোট হাদীস
আবু বকর সিদ্দিক রা৮৪১২৩৫৬৩৮
উমর ফারুক রা৯৫৪৩৬১৫৯৬১৬১৩৮০
উসমান রা১০২০১৪১৭২৪২৫১১০
আলী রা৯৫৫১১৩২৮৫৯৮৯৬৫৫৭
যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা)৭০৬২২৩২০
তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা)৪৫৪২৫৫২৫
আব্দুল্লাহ বিন যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা)১৩১৪১৩১৫২০১০৮৫
যয়নাব বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ)০০০০০০০
রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ)০০০০০০০
উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ)০০০০০০০
ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ) ০০ ০ ১৬২৯
নায়লা বিনতে ফুরাফিসা (রহ)০০০০০০০
মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (রা)১৫১৫৩১৯২২১২৮৬
মুগিরা বিন শোবাহ (রা)৩৩৩৫১৩২৪২৪১৮১৪৭
মারওয়ান বিন হাকাম (রহ)১০১১৩৪২২১
আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা)১১৫১৫৬৫৩৩
আমর বিন আস (রা)৩৪২৭১৪২১
হাসান (রা)১১৮৩১৩৩৪৭
হোসাইন (রা)৮১১২০১২২৫
মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবী তালিব (রহ)৫১২৪ ২১৪
আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবী তালিব (রহ)২০০০০০২
উমর বিন আলী বিন আবি তালিব (রহ) ০০ ২০ ০ ১৩
আলী বিন হুসাইন বিন আলী (রহ)২৫১৯৬৩৫১৭৯১১১
মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী  (রহ)৯২০২১৮৫৭২০১৩৫
জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হোসাইন বিন আলী (রহ)০ ১৪২২৫৪৪১৮১০৩
হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যা (রহ)৪১৩ ১১১০
মুহাম্মদ বিন উমর বিন আলি বিন আবি তালিব (রহ) ০০ ২২১১৬
আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আলী বিন আবী তালিব (রহ) ০০ ০ ১ ০০ ১
হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব (রহ) ০০ ০ ০ ০ ১১
আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব (রহ)১ ০৩ ০২২৮
ফাতিমা বিনতে হুসাইন বিন আলী আবি তালিব (রহ) ০০ ০ ০ ০ ৩৩
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব (রহ)৭ ০০ ০ ০ ০ ৭
ইসহাক বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব (রহ) ০০ ০ ০ ০ ১১

১। আমদের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এক আলী রা থেকেই ৫৫৭ টি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে কুতুবে সিত্তায় যেখানে আবু বকর সিদ্দিক রা থেকে মাত্র ৩৮ টি, উমর ফারুক রা থেকে ৩৮০ টি এবং উসমান রা থেকে ১১০ টি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে।এই তিনজনের একত্রে বর্ণিত হাদীস যোগ করলে হয় ৫২৮ মানে এই তিন জনের মোট হাদীস আলী (রা) এর বর্ণিত হাদীসের চাইতেও কম।

২। ফাতেমা রা থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৯ টি অথচ তার আপন বড় তিন( যয়নাব বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ), রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ), উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদ (ﷺ)) বোনের বর্ণিত একটি হাদীসও নেই। শুধু কি তাই উসমান রা এর শাহাদাতের ঘটনা স্বচক্ষে দেখা তার স্ত্রী নায়লা বিনতে ফুরাফিসা (রাহ) থেকে একটা হাদীসও নেই।

৩। নবীজীর আপন ফুফাতো ভাই যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২০ টি এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২৫ টি। আলী (রা) এই দুইজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (জংগে জামাল) করেছিলেন। অথচ আমরা দেখলাম এক আলী রা থেকেই কুতুবে সিত্তায় হাদীস বর্ণিত আছে ৫৫৭টি। এমনকি হাসান (রা) এর হাদীসের সংখ্যা ৪৭টি যা কিনা যুবায়র (রা) ও তালহা (রা) দুইজনের একত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা থেকেও বেশী। অথচ নবী صلى الله تعالى عليه و آله و سلم এর ইন্তেকালের সময় হাসান (রা) এর বয়স ৮ বছর ছিলো আর যুবায়র (রা) ও তালহা (রা) ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শুধু কি তাই হোসাইন রা এর হাদীসের সংখ্যা ২৫টি যা কিনা যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যার চেয়েও বেশী এবং তালহা (রা) এর সমান। মারওয়ান বিন হাকাম (রহ) বর্ণনা করেছেন মাত্র ২১ টি হাদীস।আব্দুল্লাহ বিন যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা) বর্নণা করেছেন ৮৫ টি হাদীস। এদের সবার হাদীস যোগ করলেও আলী রা এর হাদীসের সংখ্যার সমান হয় না।

৪। আলী রা পরবর্তীতে সিফফীনের ময়দানে মুয়াবিয়া (রা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এবার চলুন দেখে আসি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রধান ব্যক্তিদের কে কয়টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমরা আগেই দেখেছি, আলি রা ৫৫৭ টি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার দলের অন্যতম সদস্য আম্মার বিন ইয়াসির (রা) ৩৩ টি হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান (রা) এর হাদীসের সংখ্যা ৪৭টি ,হোসাইন রা এর হাদীসের সংখ্যা ২৫টি এবং মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবী তালিব (রহ) বর্ণনা করেছেন ১৪ টি হাদীস। পক্ষান্তরে মুয়াবিয়া (রা) বর্ণনা করেছেন ৮৬টি হাদীস, তার দলের মিশর বিজেতা আমর বিন আশ (রা) বর্ণনা করেছেন মাত্র ২১ টি হাদীস, মুগিরা বিন শোবাহ (রা) বর্ণনা করেছেন ১৪৭ টি হাদীস। অর্থাৎ, সিফফীন যুদ্ধের সময় আলী (রা) দলের প্রধান আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস ৫৫৭ টি পক্ষান্তরে তার বিরোধী দলের প্রধাণ মুয়াবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস মাত্র ৮৬ টি। পাঠক উমাইয়্যারা কত খারাপ দেখেছেন!! কুতুবে সিত্তায় উমাইয়্যা খিলাফতের প্রধাণ মুয়াবিয়া (রা) এর হাদীস আছে মাত্র ৮৬ টি আর সেখানে আলী (রা) এর হাদীস আছে ৫৫৭টি।

আমরা ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে প্রত্যেকের বর্ণিত হাদীস মতনসহ উল্লেখ করবো যাতে পাঠক দেখতে পারেন মুহাদ্দিসগণ কি পরিমাণ তাকওয়াবান ছিলেন।

যাই হোক পাঠক এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন। পাঠকরা কি শিয়াদের মিথ্যার বেসাতি দেখে অবাক হয়েছেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই। আসলে মিথ্যা, ধোকা শিয়াদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যাই হোক, এবার আপনারা রাফেজীদের কিতাব খুলুন আর নবী (ﷺ) এবং আহলে বাইতের হাদীস খুজুন। আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। রাফেজীরা যেসব হাদীসের কিতাব সংকলন করেছে তাতে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুজলেও আল্লাহর রাসূল (ﷺ)সহ আহলে বাইতের প্রধাণ সদস্য পুতঃপবিত্র উম্মুল মুমিনীনগণ, আলী (রা), হাসান (রা), হোসাইন (রা), মুহাম্মদ বিন হানাফিয়া (রহ), আলী বিন হোসাইন (রা), জায়েদ বিন আলী (রহ), ইসমাইল বিন জাফর (রহ),  আলী বিন মূসা (রহ), মুহাম্মদ বিন আলী (রহ), আলী বিন মুহাম্মদ (রহ), হাসান বিন আলী (রহ)  থেকে বর্ণিত ৫% হাদীস ও পাবেন না।  এদের বর্ণিত ৯৫% বর্ণনাই জাফর বিন মুহাম্মদের নামে বানানো। উল্লেখ্য, জাফর (রহ) ৮৩ হিজরীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪৮ হিজরীতে মারা যান। তিনি একজন তাবেয়ী। এরা মুখে আহলে বাইতের নাম বললেও আহলে বাইতের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। আল্লহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আহলে সুন্নাহকে দিয়ে শিয়া, খারিজী, মুরজিয়া, মুতাজিলাদের হাত থেকে ইসলামের পবিত্রতা রক্ষা করেছেন।



Leave a Reply